ফেল করার ইতিহাসে আমি সবার ওপরে: কবীর সুমন

মাঝে বাকি দুই দিন। এরপরই ঢাকার মঞ্চে গাইবেন উপমহাদেশের বিখ্যাত সংগীতশিল্পী কবীর সুমন। একদিন নয়, মোট তিন দিন ঢাকার মঞ্চ মাতাবেন তিনি। ইতোমধ্যে এ খবর কম-বেশি সবার জানা হয়ে গেছে। আগ্রহী শ্রোতারা টিকিটও সংগ্রহ করে ফেলেছেন। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি জানাতে আয়োজক সংস্থা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনও করে। বুধবার (১২ অক্টোবর) বিকালে সেটি অনুষ্ঠিত হয় রাজধানীর বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রে। 

এতে সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি কবীর সুমন। তবে প্রযুক্তির মাধ্যমে পাঠিয়েছেন বার্তা। সেখানে তিনি বাংলাদেশ সরকার, আয়োজক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 

কবীর সুমনের গানকে ‘জীবনমুখী বাংলা গান’ হিসেবে অনেকে অভিহিত করেন। তবে তিনি এটা মানতে নারাজ। তার ভাষ্য, ‘অনেকের ধারণা আছে, আমার গানগুলো জীবনমুখী। বিশ্বাস করুন, হাতজোড় করে অনুরোধ করছি, আর তো এটা বলার সুযোগও পাবো না, আমি আসলে নামকরণের মধ্যে নেই। সংগীতের দিব্যি বলছি, আমি কোনোদিন জীবনমুখী, চন্দ্রমুখী, মৃত্যুমুখী; কোনও মুখীর মধ্যে নেই। আধুনিক বাংলা গান, এটাই যথেষ্ট।’

দ্বিতীয় দিনের আয়োজনে বাংলা খেয়াল পরিবেশন করবেন কবীর সুমন। এ প্রসঙ্গে ভিডিও বার্তায় কথা বলতে গিয়েই স্মরণ করেন বাংলাদেশের বরেণ্য খেয়াল শিল্পী আজাদ রহমানকে। 

একটা সময় কনসার্টে গিটার বাজিয়ে গাইতেন কবীর সুমন। তবে এখন সেটা পারেন না শারীরিক জটিলতার কারণে। এ বিষয়ে ‘তোমাকে চাই’ গায়কের মন্তব্য, ‘আগে আমি গিটার বাজাতে পারতাম, কিন্তু আমার কারপাল টানেলসে (কব্জির হাড়) একটি অসুখ আছে, সেটার কারণে আর গিটার বাজাতে পারি না। কিন্তু কিবোর্ডস এখনও বাজাতে পারি। তাই সেটা বাজিয়ে গাইবো।’
 
আয়োজক সূত্রে কবীর সুমন জানতে পেরেছেন, তার এই অনুষ্ঠানে তরুণদের ব্যাপক আগ্রহ। এটা শুনে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। সেই সঙ্গে তাদের প্রতি বিশেষ আবদারও করেছেন এই নন্দিত শিল্পী। বলেছেন, ‘তাদের যেমন দাবি, ঠিকঠাক গান শুনতে চান। আমার তাদের কাছে দাবি হলো, তারা যেন জীবনে একটা স্থির লক্ষ্যের দিকে এগোয়। তারা যেন ঠিক করেন যে এই ক্ষেত্রে আমি এক্সেল (শ্রেষ্ঠ হওয়া বা সবাইকে ছাপিয়ে যাওয়া) করবো। এটাতে আমি এমন জায়গায় পৌঁছবো, কেউ ফেলে দিতে পারবে না। আমি লেখাপড়ায় খুব খারাপ ছিলাম। আমি এমন ফেল করতাম, ফেল করার ইতিহাসে আমি সবার ওপরে। আমাকে স্কুলে রাখতে চাইতো না, স্কুল পাল্টাতাম সমানে। বাবা-মা বেচারি আমার মতো লোককে জন্ম দিয়েছেন, তারা এ স্কুল, ও স্কুল ঘুরতেন। সেই আমি তো করে ফেললাম। এখনও দেখুন, ফেলুদা (ফেল করতেন বুঝিয়ে) বা ফেলু দাদুকে নিয়ে যাচ্ছেন গান শোনাতে, এটা সম্ভব। তেমনি আমার নবীন বন্ধুদের কাছে বলবো, এক্সেল করুন।’

উল্লেখ্য, ঢাকার জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে আগামী ১৫ অক্টোবর শুরু হচ্ছে কবীর সুমনের এই লাইভ অনুষ্ঠান। প্রথম দিন তিনি আধুনিক বাংলা গান শোনাবেন। এরপর ১৮ অক্টোবর গাইবেন বাংলা খেয়াল এবং ২১ অক্টোবর ফের শোনাবেন আধুনিক বাংলা গান। জানা গেছে, ১৪ অক্টোবর ঢাকায় আসবেন তিনি। এরপর অনুষ্ঠান শেষেই উড়াল দেবেন শহর কলকাতায়।