তুমুল জনপ্রিয় গল্প, হলিউডের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনা, দেশি-বিদেশি অভিনয়শিল্পীর সমাহার, আন্তর্জাতিক মানের কুশলী আর মোটা অংকের বাজেট; সাফল্যের প্রায় সবগুলো উপাদানই রয়েছে সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘এমআর-৯’-এ। কিন্তু যত কিছুই থাকুক না কেন, সিনেমাটি পরিপূর্ণভাবে না বানাতে পারলে সেটার ভরাডুবি হবেই। যেটা আরও একবার প্রমাণ হলো আলোচিত এই ছবির মাধ্যমে।
গত ২৫ আগস্ট দেশের ১৬টি এবং উত্তর আমেরিকার ১৫১টি প্রেক্ষাগৃহে একযোগে মুক্তি পেয়েছে ‘এমআর-৯’। প্রযোজক আব্দুল আজিজ উচ্চাশা নিয়ে বলেছিলেন, ছবিটি থেকে ৭০০ কোটি টাকা ব্যবসার টার্গেট তাদের। এর মধ্যে বাংলাদেশ থেকে তুলবেন ৫ কোটি টাকা! কিন্তু সেই প্রত্যাশা শুরুতেই হোঁচট খেলো হল সংখ্যায়। ইংরেজি ভাষায় হওয়ার কারণে শুধু মাল্টিপ্লেক্সগুলোতেই মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ধারণা করা হচ্ছিল, বড় বাজেটের ছবি, হলিউডের শিল্পীরাও আছেন, সুতরাং মাল্টিপ্লেক্সে মন্দ করবে না।
কিন্তু সেই ধারণা বাস্তব হয়ে আর ধরা দেয়নি। জানা গেছে, অধিকাংশ প্রেক্ষাগৃহে প্রায় ফাঁকা যাচ্ছে ‘এমআর-৯’র শো। দেশের সবচেয়ে বড় মাল্টিপ্লেক্স চেইন স্টার সিনেপ্লেক্সেও দর্শক সমাগম উল্লেখযোগ্য না। প্রতিষ্ঠানটির জ্যেষ্ঠ বিপণন কর্মকর্তা মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, “ছবিটা ভালো নাকি মন্দ, এটা আমি বলবো না। সেটা দর্শক বিবেচনা করবেন। আমি স্টার সিনেপ্লেক্সের পক্ষ থেকে এটুকু বলতে পারি, আমাদের এখানে আশানুরূপ দর্শক হচ্ছে না। যতটা আশা করেছিলাম, তার ধারেকাছেও দর্শক নেই।”
চট্টগ্রামের সিলভার স্ক্রিনের অবস্থাও একই। তাদের টিকিট প্ল্যাটফর্ম ঘেঁটেও দেখা গেছে, হাতে গোনা কয়েকটি ছাড়া প্রদর্শনীর সবগুলো আসনই ফাঁকা। প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তাও জানালেন, ছবিটি দেখতে তাদের হলে দর্শক আসছে না।
কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের চিত্রটাও হতাশাজনক। তাদের টিকিট বুকিং অ্যাপে ঢুকে দেখা গেছে, মঙ্গলবার (২৪ আগস্ট) বিকালের শো-তে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র একটি। পরবর্তী শো-গুলো স্বাভাবিকভাবেই দর্শকশূন্য।
এদিকে স্বপ্ন স্কেয়ারক্রোর পরিবেশনায় উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশি ছবি হিসেবে সর্বোচ্চ ১৫১ হলে মুক্তি পেয়েছে ‘এমআর-৯’। শোনা যাচ্ছে, সেখানেও খুব একটা সুবিধা করতে পারছে না। এর আগে গেলো জুলাইতে সেখানে ‘প্রিয়তমা’ মুক্তি দিয়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। মুক্তির প্রথম তিন দিন পরই সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বক্স অফিসের একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। কিন্তু ‘এমআর-৯’র ক্ষেত্রে পাঁচ দিন পার হলেও নীরবতা পালন করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য যারা মাসুদ রানার নিয়মিত পাঠক কিংবা ভক্ত নন, তাদের অনেকে ছবিটির প্রশংসা করছেন। ছবির লোকেশন ও অ্যাকশন আলাদা করে নজর কাড়ছে কিছু দর্শকের। কেউ কেউ মাসুদ রানার ভূমিকায় এবিএম সুমনকেও যুতসই মনে করছেন।
‘এমআর-৯’ পরিচালনা করেছেন আসিফ আকবর। এটি নির্মিত হয়েছে কাজী আনোয়ার হোসেন রচিত মাসুদ রানা সিরিজের প্রথম বই ‘ধ্বংসপাহাড়’ অবলম্বনে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার দাবি অনুসারে, ছবিটির বাজেট ৮৩ কোটি টাকা। যদিও এর সত্যতা নিয়ে অনেকের প্রশ্ন আছে। ছবিটির মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবিএম সুমন। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে আছেন শহীদুল আলম সাচ্চু, আনিসুর রহমান মিলন, জেসিয়া ইসলাম, আলিশা, টাইগার রবি; ভারত থেকে আছেন সাক্ষী প্রধান, ওমি বৈদ্য এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে অভিনয় করেছেন নিকো ফস্টার, মাইকেল জেই হোয়াইট, ফ্রাঙ্ক গ্রিলো প্রমুখ। জাজ মাল্টিমিডিয়ার সঙ্গে এর প্রযোজনায় রয়েছে আল ব্রাভো ফিল্মস ও চেজিং বাটারফ্লাইস পিকচারস।