দীর্ঘ এক নিঃসঙ্গ জীবনের অবসান

কবি, অভিনেতা, নির্মাতা ও প্রকাশক তারেক মাহমুদ আর নেই। ২৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) দিবাগত মধ্যরাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। যার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ এক নিঃসঙ্গ, অভিমানী আর অভাবী জীবনের অবসান ঘটালেন অভিনেতা।

মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে অভিনয় শিল্পী সংঘ ও ডিরেক্টরস গিল্ড কর্তৃপক্ষ।

তারেক মাহমুদ বিদায় নেওয়ার ক’দিন আগে লিখে গেছেন তার ফেসবুক দেয়ালে, ‘কেন জানি মনে হয় ইন্ডাস্ট্রিতে আমি এক স্যাংশনপ্রাপ্ত অভিনেতা!!! এতো কম মূল্যের অভিনয় শ্রমিক, তবুও গেরস্থ জোটে না।’ অন্যদিন লিখেছেন, ‘আজকে বেশ কিছু টাকার দরকার। কয়েকটা সিঙ্গেল নাটকের স্ক্রিপ্ট, একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমার স্ক্রিপ্ট রেডি আছে। কেনার মতো কেউ আছেন? প্রয়োজনে স্ক্রিপ্ট রাইটার হিসেবে আমার নাম রাখারও দরকার নেই। টাকার দরকার। কবিতার পাণ্ডুলিপি, উপন্যাসের কথা না হয় বললামই না। সেই দয়াল প্রকাশক আমার ললাটে নেই, যারা সম্মানি দিয়ে পাণ্ডুলিপি নেবেন।’ 

নিজের নিঃসঙ্গ জীবন নিয়ে তারেক মাহমুদ লিখেছেন, ‘আমাদের মতো যাদের বয়স ৫০-এর কোঠায় বা আশপাশে এবং একা থাকেন, তাদের জন্য দিনশেষে জীবনটা একটু অসহায়বোধ মনে হয়। নিঃসঙ্গতা তাদেরকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যে নিয়ে যায়। সে হতে পারে নারী বা পুরুষ।’

অভিনেতার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, বৃহস্পতিবার (২৬ অক্টোবর) মধ্যরাতে রামপুরার নিজ বাসাতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন তারেক মাহমুদ। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ তাকে নিয়ে যাওয়া হয় মগবাজার কমিউনিটি হাসপাতালে। তখনই কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা গেছে, গতকাল রাতেই অভিনেতার মরদেহ গ্রামের বাড়ি পাবনায় নিয়ে যাওয়া হয়। আজ জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন হবে। 

তারেক মাহমুদ, দীর্ঘদিন ঢাকায় একা জীবনযাপন করছিলেন। তার ২২ বছর বয়সী এক পুত্র আছেন। স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়েছে অনেক বছর আগেই।

তারেক মাহমুদমূলত কবি হিসেবে ১৯ শতকের শেষাংশ থেকে রাজধানীর আজিজ মার্কেটের নিয়মিত মুখ ছিলেন তারেক মাহমুদ। কবিতার আড্ডা থেকেই তার অভিনয় আর নির্মাণে প্রবেশ। যদিও দুই দশকের ক্যারিয়ারে তার নিত্যসঙ্গী ছিল নিঃসঙ্গতা আর অর্থকষ্ট। অবশেষে সেটিকেও অতিক্রম করে গেলেন তারেক মাহমুদ। এই সেপ্টেম্বরে অভিনেতার একটি পোস্টে ভেসে উঠেছে সেই নির্মমতা, ‘পাবনা বা আশপাশে নাটকের শুটিং থাকলে নির্মাতাদের অনুরোধ করছি আমাকে কাস্টিংয়ে রাখবেন। আমার বাড়ি পাবনাতে। অনেক দিন বাড়ি যাওয়া হয় না। এই সুযোগে শুটিং শেষে বাড়ি থেকে ঘুরে আসবো।’

গত রাতে শুটিং ছাড়াই সেই বাড়িতে ফিরলেন কবি।

তার অকাল প্রস্থানে কবি, অভিনয় আর নির্মাণ মহলে নেমেছে তুমুল শোকের ছায়া। উঠেছে প্রতিবাদও। কারণ, হতাশা কাটিয়ে তারেক মাহমুদকে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর জন্য হাতটা বাড়ায়নি কাছের কেউ; না পরিবার, না মিডিয়া। শুটিংয়ে তারেক মাহমুদ