গানটি ধরার আগে কিছু বলেননি। শুধু লম্বা সুরে শুরুটা করলেন ‘এরপর একরাশ কালো কালো ধোঁয়া, স্কুল বাসে করে তার দ্রুত চলে যাওয়া’। এটুকুতেই সবার বোঝা হয়ে গেছে, নচিকেতা এখন তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গানটি ধরেছেন। যেটার নাম ‘নীলাঞ্জনা’।
এই গানে যখন মিলনায়তনের দর্শক-শ্রোতার দেহ ও মন নাচছে, তখন নচিকেতা ইশারা করলেন দাঁড়িয়ে নাচতে। অনেকে দাঁড়ালেন, হাত উঁচিয়ে উল্লাসে ডুবতে চাইলেন। কিন্তু কে জানতো, সেই উল্লাসের ভিড়েই চুপটি করে মঞ্চ ছেড়ে বিদায় নেবেন ‘অনির্বাণ’র বন্ধু! অথচ সবার মনে আকাঙ্ক্ষা ছিল, ঢাকা সফর নিয়ে কিছুটা অনুভূতি ব্যক্ত করবেন শিল্পী।
পশ্চিমবঙ্গের নন্দিত শিল্পী নচিকেতার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশের ৩০ বছর উদযাপনের লক্ষ্যেই ঢাকায় আয়োজন করা হয় ‘তিরিশে নচিকেতা’। স্থান কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়ন। আজব কারখানার উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে রাত সাড়ে ৮টার দিকে মঞ্চে ওঠেন নচিকেতা। কিছু বললেন না, শুধু একটা উড়ো চুম্বন ছুঁড়ে দিলেন সবার দিকে। জীবনমুখী গানের শিল্পী হিসেবে পরিচিত তিনি, তাই জীবনের বন্দনা দিয়েই শুরু করলেন পরিবেশনা। ‘অন্তবিহীন পথচলাই জীবন’ গানটি তার সঙ্গে শ্রোতারাও গাইলেন মনভরে।
ঢাকায় আসা, হাজার মানুষের সামনে গান গাওয়া এসব বিষয়ে খুব বেশি কিছু বলেননি নচিকেতা। শুধু নিজের অনুভূতি প্রকাশ করলেন এভাবে, ‘১৯৯৩ সালে শুরু করেছিলাম, ৩০ বছর তো হয়ে গেল। একটু আগেই একজন জিজ্ঞাসা করছিল- আমার চাওয়া-পাওয়া পূর্ণ হয়েছে কি না? আমার মনে হয়, আমার সব পাওয়া হয়ে গেছে।’
বলা দরকার, পশ্চিমবঙ্গে গানের ধারা পাল্টে দেওয়া তিন কিংবদন্তি শিল্পী কবীর সুমন, নচিকেতা চক্রবর্তী ও অঞ্জন দত্ত। এর আগে সুমন ও অঞ্জন ঢাকায় এসে বড় পরিসরে গান গেয়েছেন। বাকি ছিলেন নচিকেতা। তাকে সরাসরি শোনার ইচ্ছেটাও এবার পূরণ হলো ঢাকাবাসীর।