প্রেক্ষাপট প্রায় চারশত বছরের পুরনো প্রাচীন বাংলার। আরও স্পষ্ট করে বললে, ঐতিহ্যবাহী মৈমনসিং গীতিকা। সেটাকে অবলম্বন করে সিনেমা বানিয়েছেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। নাম ‘কাজলরেখা’। ঈদ উপলক্ষে গত ১১ এপ্রিল মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। ছবিটি এখনও নামেনি, চলছে মাল্টিপ্লেক্সে।
মুক্তির পর থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাচ্ছে এই ছবি। কেউ কেউ এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, লোকসংস্কৃতি তুলে ধরার প্রশংসা করছেন। আবার কেউ বলছেন নির্মাণটা ঠিকঠাক জমেনি! তবে সেসব ছাপিয়ে এবার ‘কাজলরেখা’ উঠলো সোজা পাঠ্যসূচিতে; তাও আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের।
খবরটা বাংলা ট্রিবিউনকে নিশ্চিত করলেন নির্মাতা সেলিম। জানালেন, ঢাবির ইতিহাস বিভাগের মাস্টার্স শ্রেণির পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তার ছবিটি। কোন প্রক্রিয়ায় বিষয়টি ঘটলো? জবাবে ‘মনপুরা’ খ্যাত নির্মাতা বললেন, ‘রিলিজের সপ্তাহ খানেক পর ইতিহাস বিভাগ থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা কয়দিন আগে ছবিটা দেখেছে। এরপর এটিকে তাদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।’
প্রসঙ্গটি নিয়ে কথা হলো ঢাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষক আকসাদুল আলমের সঙ্গে। তিনি এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তার ভাষ্য, “মধ্যযুগের বাংলা সংস্কৃতির যেসব উৎস রয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো মৈমনসিং গীতিকা। সেটারই একটি অংশ হলো কাজলরেখা। যা এখন সিনেমায় রূপ পেয়েছে। তো ইতিহাসের এই উৎসের একটা উদাহরণ হিসেবে আমরা ‘কাজলরেখা’ ছবিটিকে অন্তর্ভুক্ত করেছি।”
আকসাদুল আলম জানালেন, এর আগে একই প্রক্রিয়ায় এন রাশেদ চৌধুরী নির্মিত ‘চন্দ্রাবতী কথা’ সিনেমা ও ‘বেহুলার ভাসান’ মঞ্চনাটক তাদের পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। নতুন করে ‘কাজলরেখা’ আসায় সেগুলোর স্থানে এটিকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে। মধ্যযুগের বাংলা শিল্প-সংস্কৃতি ঘিরে আগামীতে অন্য কোনও সিনেমা বা নাটক এলে সেটাকেও বিবেচনায় নেবেন বলে জানান এই অধ্যাপক।
‘কাজলরেখা’ ছবিটি ঠিক কীভাবে পাঠদানের অংশ হবে, সেটাও পরিষ্কার করলেন আকসাদুল আলম।
উল্লেখ্য, ‘কাজলরেখা’ সিনেমার নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন মন্দিরা চক্রবর্তী। এছাড়াও আছেন শরিফুল রাজ, খায়রুল বাসার, রাফিয়াত রশিদ মিথিলা, সাদিয়া আয়মান, আজাদ আবুল কালাম, গাউসুল আলম শাওন প্রমুখ।