নন্দিত কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। যদিও ‘কণ্ঠশ্রমিক’ বলেই নিজেকে দাবি করছেন বরাবর। শেষ ক’বছর নিজেকে তুলে ধরেছেন লেখক হিসেবেও। তবে এবার তিনি সবার কাছে হাজির হচ্ছেন পুরোদস্তুর চিত্রকর হিসেবে।
কনকচাঁপা বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, জীবনের প্রথম এ চিত্র প্রদর্শনীটা উৎসর্গ করার পরিকল্পনা ছিল তার বাবা প্রয়াত আজিজুল হক মোর্শেদ এর নামে। তার ভাষায়, ‘বাবা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের সরাসরি ছাত্র ছিলেন। আমিও ক খ লিখার চাইতে প্রদীপ শিখা আঁকতে বেশি আনন্দ পেতাম। তারই প্রতিচ্ছবি আমার এই প্রদর্শনী। বাবার একটা ছবিও থাকছে এখানে। যদিও উৎসর্গে আর বাবাকে রাখিনি। কারণ, খালিদ মাহমুদ মিঠু ভাইয়ের অকাল প্রস্থান।’
১ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এ চিত্র প্রদর্শনী। প্রথম দিন বিকাল ৪টায় প্রধান অতিথি হিসেবে প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকউজ্জামান, অভিনেত্রী-চিত্রশিল্পী বিপাশা হায়াত ও চিত্রশিল্পী কনকচাঁপা চাকমা।
ছবি আঁকা এবং সেটির প্রদর্শনী প্রসঙ্গে কনকচাঁপা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সারাজীবন বাবার, ওস্তাদের এবং স্বামীর শেখানো বুলি তোতাপাখির মতো গেয়ে গেয়ে এ বেলায় একটু আঁকতে ইচ্ছে হলো। যে ইচ্ছেটা শীতের অলস ভোরের মতো কাঁথা মুড়ি দিয়ে লুকিয়ে ছিল, আর রং এর তরল ভরা সূর্যটা উচ্চস্পর্ধা নিয়ে ডাকছিল আমায়। বলছিল- তুলিতে মাখো আর মৌলিক বিরহগুলো আঁকো। আমি সাহস পাই না। বরাবরের মতো আমার জীবনসঙ্গী (সুরকার মঈনুল ইসলাম খান) আবার আমার হাত ধরে প্রেম ভরে ডেকে তোলেন, বলেন- ওঠো, আঁকো। কিছু না হোক, তবুও তুমি আঁকো। আঁকতে গিয়ে দেখি রং তুলিতে মৌলিক বিরহগুলো কান্না হয়ে যাচ্ছে, আমি কেঁদেই যাচ্ছি, কেঁদেই যাচ্ছি। সেই কান্নার বহিঃপ্রকাশ আমার এই প্রদর্শনী।’