থার্সডে নাইট, অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাত মানেই একটু ফান–ফুর্তি। পরের দিন শুক্রবার বা ছুটির দিন হওয়ায় থার্সডে নাইট ব্যস্তময় জীবন থেকে একটু মুক্তির সময় যেন। বন্ধুদের সঙ্গে এমন এক আড্ডায় মুখর হতে চেয়েছিলেন কয়েক বন্ধু। কিন্তু সেই আড্ডা তাদের জীবনে প্রশান্তি তো আনেইনি বরং তৈরি করেছে সমস্যা।
কী এবং কেন সেই সমস্যা? চরকি ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘থার্সডে নাইট’ গল্পে পাওয়া যাবে সব উত্তর। ২৬ নভেম্বর, বুধবার রাত ১২টায় (২৭ নভেম্বর) কনটেন্টটি মুক্তি পাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে।
‘থার্সডে নাইট’ মূলত বন্ধুদের নিয়ে ইনভেস্টিগেশন থ্রিলার ঘরানার গল্প এবং সত্য ঘটনার অনুপ্রেরণায় নির্মিত। চরকি অরিজিনাল ফিল্ম ‘ঘুমপরী’খ্যাত পরিচালক জাহিদ প্রীতম নির্মাণ করেছেন কনটেন্টটি। জাহিদ প্রীতম জানান, ‘থার্সডে নাইট’– এর গল্পটি এদেশে ঘটে যাওয়া একটি অপরাধমূলক ঘটনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে লেখেন তিনি। নির্মাতার দাবি ফ্ল্যাশ ফিকশনটিতে তিনি একটি ঘটনাকে কয়েকজনের দৃষ্টিতে দেখানোর চেষ্টা করেছেন, যেটাকে তিনি বলছেন ‘রশোমন ইফেক্ট’।
জাহিদ প্রীতম বলেন, ‘গল্পটি কয়েকজনের দৃষ্টিতে বলার চেষ্টা আছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলাফল দর্শকদের কাছেই। এখানে দর্শকরাই মূল বিচারক।’
এরিমধ্যে (২৪ নভেম্বর বিকাল ৪টায়) প্রকাশ পেয়েছে ফ্ল্যাশ ফিকশন ‘থার্সডে নাইট’–এর ট্রেলার। যেখানে ধারণা পাওয়া গেছে ‘থার্সডে নাইট’-এর পার্টি, নির্দিষ্ট একটা সময়ের স্মৃতি মনে না পড়ার মতো ঘটনা এবং সেই ভুলে যাওয়া সময়টাই পুলিশের তদন্ত করে বের করার প্রয়াস। ফ্ল্যাশ ফিকশনটিতে বন্ধুদের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তানজিয়া জামান মিথিলা, সৌম্য জ্যোতি, ফররুখ আহমেদ রেহান, তাওহীদুল তামিলসহ অনেকে। আর পুলিশের চরিত্রে আছেন সামিরা খান মাহি। মিথিলার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে বন্ধু–পুলিশ এবং একজন ড্রাইভারের নানা ঘটনায় এগিয়ে গেছে কাহিনি।
বিনোদন জগতে তানজিয়া জামান মিথিলা এবং সামিরা খান মাহি’র বন্ধুত্বের কথা চাউর আছে। দুজনেই দেশের মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছেন অনেকদিন ধরেই। তবে এটি তাদের একসঙ্গে প্রথম কোনও ফিকশন, জানান মাহি। অভিনেত্রী সামিরা খান মাহি বলেন, ‘তার (তানজিয়া জামান মিথিলা) জন্যই আমার এই কনটেন্টে কাজ করা। আমরা প্রায়ই আমাদের কাজ নিয়ে আলোচনা করতাম। যখন সুযোগ এলো একসঙ্গে কাজ করার, তখন আর না করিনি।’
রোমান্টিক চরিত্রে এ সময়ের দর্শকদের অন্যতম পছন্দের অভিনেতা ফররুখ আহমেদ রেহান। এখানে অবশ্য অন্যরকম। ছাত্রজীবনের রাফ–টাফ আর সামান্য রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। রেহান বলেন, ‘জাহিদ প্রীতম ভাই আমার প্রিয় একজন নির্মাতা। তার সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা ছিল এবং সেটা পূরণ হলো। আমি মূলত ডিরেক্টরকে ফলো করি। তিনি যেভাবে চান সেভাবে কাজ করার চেষ্টা করি। এখানেও সেটাই করেছি। নির্মাতা এখানে আমার করা চরিত্রটি নিয়ে যেভাবে ভেবেছেন, সেটা আমার কাছে দারুণ লেগেছে। একটু অন্যরকম বলে আমিও খুব মজা পেয়েছি কাজটি করে।’
ফ্ল্যাশ ফিকশনটির গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ লিখেছেন জাহিদ প্রীতম। অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন নকশী তাবাসসুম, পারভেজ সুমন, মেহেদী হাসান মেধা, সাদিদ আদনান ওয়াহিদ, রেহনুমা আলম ঐশী।