অনেকে বলছেন অভিমান, কেউ বলছেন আত্মঘাতী। অ অথবা আ, সে যাই হোক; অরিজিতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। সাফ কথা, তিনি আর প্লেব্যাকে গাইছেন না। কেন এমন সিদ্ধান্ত, কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেটির ব্যাখ্যাও দিয়েছেন ভারতীয় সংগীতের অন্যতম উজ্জ্বল এই নক্ষত্র।
ব্যক্তিগত এক্স অ্যাকাউন্টে ৩৮ বছর বয়সী এই গায়ক জানান, একাধিক কারণ রয়েছে তার এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পথে।
তিনি লেখেন, ‘কেবল একটা নয়, একাধিক কারণ রয়েছে। এবং আমি বেশ কিছুদিন ধরেই সেগুলো নিয়ে ভেবেছি। অবশেষে প্রয়োজনীয় সাহস সঞ্চয় করতে পেরেছি।’
আরও বলেন, ‘এর একটি কারণ বেশ সহজবোধ্য। আমি খুব দ্রুত আগ্রহ হারিয়ে ফেলি। আর এই কারণেই আমি আমার গানের সুরের বিন্যাস ঘনঘন পরিবর্তন করি। এবং সেগুলোকে লাইভে পরিবেশন করি। সুতরাং এটাই সত্যি- আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। নিজেকে বিকশিত করতেই এখন আমার ভিন্ন ধরনের সংগীত অন্বেষণ করা প্রয়োজন।’
শিল্পীর অভিমত, সংগীত এগিয়ে যায় নতুন কণ্ঠ আর নতুন ভাবনার মাধ্যমে, আর সেটার জন্য পুরনোদের জায়গা করে দেয়া দরকার।
নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে অরিজিৎ বলেন, ‘আমি সত্যিই ধন্য। আমি সংগীতের একজন ভক্ত। ভবিষ্যতে একজন ছোট শিল্পী হিসেবে আরও শেখার ও স্বাধীনভাবে গান তৈরিতেই মনোযোগ দেবো। আপনাদের সকলের সমর্থনের জন্য আবারও ধন্যবাদ। আমার এখনও কিছু অসম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাকি আছে, সেগুলো পূরণ করবো। তাই এই বছর আপনারা হয়তো আরও কিছু নতুন কাজ দেখতে পাবেন। বিষয়টি স্পষ্ট করে দিতে চাই… প্লেব্যাক বন্ধ করলেও গান তৈরি করা বন্ধ করছি না।’
জানা দরকার, ২০০৫ সালে রিয়্যালিটি শো ‘ফেম গুরুকুল’-এর মাধ্যমে শুরু হয় অরিজিতের গান। সেই আসরে তিনি ৬ষ্ঠ স্থান লাভ করেছিলেন। এরপর পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানশালি ও সংগীত পরিচালক প্রীতমের নজর কেড়েছিলেন তিনি।
গত এক দশক বলিউড ও টলিউডের প্লেব্যাক জগত মাতিয়ে রেখেছিলেন অরিজিৎ। জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই শিল্পী ২৭ জানুয়ারি রাতে হঠাৎ করেই প্লেব্যাক থেকে স্বেচ্ছায় অবসরের ঘোষণা দেন।