সিনেমায় নির্বাচন: ক্ষমতা, কৌশল আর নৃশংসতার যত গল্প

নির্বাচন কেবল ব্যালট আর প্রচারণার উৎসব নয়। এটি ক্ষমতার অদৃশ্য অঙ্ক, জনমত গঠনের মনস্তত্ত্ব, মিডিয়ার প্রভাব, অর্থের খেলা এবং কখনও কখনও নৈতিকতার নির্মম পরীক্ষাও। বিশ্বের নানা দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতারা বারবার এই নির্বাচনী রাজনীতিকে বড় পর্দায় তুলে এনেছেন। কখনও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার চোখে, কখনও ব্যঙ্গ-বিদ্রূপে, কখনও আবার তীব্র রাজনৈতিক থ্রিলারের মোড়কে। নির্বাচনী রাজনীতির গল্পে নির্মিত কিছু উল্লেখযোগ্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র নিয়ে এই আয়োজন-

দ্য ক্যান্ডিডেট (১৯৭২, যুক্তরাষ্ট্র)

পরিচালনা: মাইকেল রিচি

হলিউডে নির্বাচনী রাজনীতির অন্তরালের গল্প বলতে গেলে ‘দ্য ক্যান্ডিডেট’ একটি ক্লাসিক। রবার্ট রেডফোর্ড অভিনীত বিল ম্যাককে একজন আদর্শবাদী তরুণ আইনজীবী। যাকে ক্যালিফোর্নিয়ার সিনেট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে রাজি করানো হয়। এটাও ঠিক তার জয়ের সম্ভাবনা খুব কম।দ্য ক্যান্ডিডেটকিন্তু প্রচারণা শুরু হতেই দেখা যায়, আদর্শ আর বাস্তব রাজনীতির মধ্যে দূরত্ব কত গভীর। ধীরে ধীরে তার বক্তব্য, চেহারা, এমনকি ব্যক্তিত্বও ‘প্যাকেজিং’-এর অংশ হয়ে ওঠে। সিনেমাটি দেখায়- কিভাবে একজন প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নিজের ভাষা হারিয়ে ফেলতে পারেন শুধুই জয়ের আশায়।

এটি নির্বাচনী প্রচারণার ‘মিডিয়া ম্যানুফ্যাকচারিং’-এর এক তীক্ষ্ণ বিশ্লেষণ।

প্রাইমারি কালারস (১৯৯৮, যুক্তরাষ্ট্র)

পরিচালনা: মাইক নিকোলস

বিল ক্লিনটনের ১৯৯২ সালের নির্বাচনী প্রচারণা থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমা ‘প্রাইমারি কালারস’। এই চলচ্চিত্রে জন ট্রাভোল্টা অভিনয় করেছেন প্রধান চরিত্রে। যিনি একজন ক্যারিশম্যাটিক গভর্নর থেকে প্রেসিডেন্ট পদে লড়ছেন।প্রাইমারি কালারসছবিটি প্রচারণা দলের এক তরুণ সদস্যের চোখ দিয়ে দেখায়—কিভাবে নৈতিকতা, ব্যক্তিগত স্ক্যান্ডাল ও রাজনৈতিক বাস্তবতার সংঘাতে একটি প্রচারণা এগিয়ে চলে।

‘প্রাইমারি কালারস’ রাজনৈতিক ক্যারিশমা ও মানবিক দুর্বলতার দ্বৈততাকে সামনে আনে। এখানে নির্বাচন কেবল ভোটের লড়াই নয়, ইমেজ রক্ষার যুদ্ধও।

দ্য আইডস অব মার্চ (২০১১, যুক্তরাষ্ট্র)

পরিচালনা: জর্জ ক্লুনি

রায়ান গসলিং অভিনীত এই সিনেমায় দেখানো হয়, একজন তরুণ প্রচারণা কৌশলবিদ ধীরে ধীরে বুঝতে পারেন—রাজনীতিতে আদর্শের চেয়ে কৌশলই বড়। একটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে তৈরি এই রাজনৈতিক থ্রিলার।দ্য আইডস অব মার্চ ক্ষমতার করিডোরে বিশ্বাসঘাতকতা, গোপন চুক্তি ও নৈতিক আপসের গল্প ‘দ্য আইডস অব মার্চ’ দেখায় নির্বাচনী রাজনীতির নির্মম বাস্তবতা। গণতন্ত্রের মুখোশের আড়ালে কিভাবে ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা কাজ করে, সেটিই ছবির মূল সুর।

ওয়াগ দ্য ডগ (১৯৯৭, যুক্তরাষ্ট্র)

পরিচালনা: ব্যারি লেভিনসন

নির্বাচনের আগে প্রেসিডেন্টকে ঘিরে একটি যৌন কেলেঙ্কারি চাপা দিতে এক স্পিন ডক্টর ও এক হলিউড প্রযোজক কল্পিত যুদ্ধের গল্প তৈরি করেন।

এই স্যাটায়ার দেখায়—মিডিয়া কিভাবে বাস্তবতা তৈরি করতে পারে এবং নির্বাচন-পূর্ব জনমতকে প্রভাবিত করতে ‘ন্যারেটিভ’ কতটা শক্তিশালী হাতিয়ার।

আজকের পোস্ট-ট্রুথ যুগে ‘ওয়াগ দ্য ডগ’ আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।ওয়াগ দ্য ডগনো (২০১২, চিলি)

পরিচালনা: পাবলো লারেইন

চিলির স্বৈরশাসক অগাস্তো পিনোশের বিরুদ্ধে ১৯৮৮ সালের গণভোটকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নির্বাচনী প্রচারণার ইতিহাসে এক ব্যতিক্রমী অধ্যায় তুলে ধরে।

‘না’ প্রচারণার সৃজনশীল কৌশল—কিভাবে জনমত বদলে দেয়, সেটিই ছবির মূল শক্তি।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে নির্বাচনী প্রচারণা যে সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও রূপ নিতে পারে, ‘নো’ তার উজ্জ্বল উদাহরণ।নোদ্য এজ অব ডেমোক্রেসি (২০১৯, ব্রাজিল, প্রামাণ্যচিত্র)

পরিচালনা: পেত্রা কোস্তা

ব্রাজিলের রাজনৈতিক সংকট, প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফের অভিশংসন এবং জাইর বলসোনারোর উত্থান—সব মিলিয়ে এই প্রামাণ্যচিত্র নির্বাচন ও গণতন্ত্রের ভঙ্গুরতাকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করায়।

এখানে দেখানো হয়, নির্বাচন কেবল রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নয় বরং গণতান্ত্রিক কাঠামোর অস্তিত্বের প্রশ্ন।দ্য এজ অব ডেমোক্রেসিনিউটন (২০১৭, বলিউড, ভারত)

পরিচালনা: অমিত ভি. মাসুরকার

ভারতের ছত্তিশগড়ের মাওবাদী অধ্যুষিত অঞ্চলে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পায় এক আদর্শবাদী সরকারি কর্মচারী।

‘নিউটন’ মূলত একটি নির্বাচন-প্রক্রিয়াভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক-গম্ভীর চলচ্চিত্র। এখানে প্রশ্ন ওঠে—গণতন্ত্র কি কেবল প্রক্রিয়া, নাকি বাস্তব অংশগ্রহণ? ভোটকেন্দ্রে সশস্ত্র নিরাপত্তা, অনাগ্রহী ভোটার, আর কাগজে-কলমে সাফল্যের গল্প—সব মিলিয়ে ছবিটি দেখায় বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভেতরের জটিলতা।নিউটনএটি নির্বাচনের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা নিয়ে নির্মিত অন্যতম শক্তিশালী ভারতীয় চলচ্চিত্র।

সরকার (২০১৮, তামিল, ভারত)

পরিচালনা: এ. আর. মুরুগাদোস

যদিও এটি মূলত একটি রাজনৈতিক অ্যাকশন-ড্রামা, তবু ভোট জালিয়াতি ও ‘ফেক ভোটিং’কে কেন্দ্র করে গল্প এগোয়। এক কর্পোরেট নির্বাহী ভোট দিতে এসে দেখেন তার ভোট ইতোমধ্যে দেওয়া হয়ে গেছে—সেখান থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক প্রতিরোধ।সরকারতামিল রাজনীতির প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবি দেখায়—নির্বাচনী কারচুপি কিভাবে জনরোষে বিস্ফোরিত হতে পারে।

রাজনীতি (২০১০, বলিউড, ভারত)

পরিচালনা: প্রকাশ ঝা

মহাভারতের রূপক কাঠামো ব্যবহার করে সমকালীন ভারতীয় নির্বাচনী রাজনীতির নির্মম রূপ তুলে ধরে ‘রাজনীতি’। পরিবারতন্ত্র, জোট, হত্যাকাণ্ড, কৌশল—সব মিলিয়ে এটি ক্ষমতা দখলের এক রক্তগরম রাজনৈতিক কাহিনি।রাজনীতিএখানে নির্বাচন মানে কেবল ভোট নয়—বরং বংশগত ক্ষমতা ও ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষার সংঘর্ষ।

মেয়র (২০১৭, লেবানন, প্রামাণ্যচিত্র)

পরিচালনা: ডেভিড অসিত

লেবাননের ত্রিপোলির মেয়র নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র স্থানীয় নির্বাচনী রাজনীতির মানবিক দিকটি সামনে আনে।

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন সৎ মেয়রের প্রশাসনিক সংগ্রাম—এই ছবিতে নির্বাচনকে দেখা যায় এক বাস্তব, স্থানীয় ও ব্যক্তিগত লড়াই হিসেবে।মেয়রসিটি অব লাইফ অ্যান্ড ডেথ (২০০৯, চীন)

পরিচালনা: লু চুয়ান

চীনে সরাসরি বহুদলীয় নির্বাচন না থাকলেও রাজনৈতিক কাঠামো, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রণের প্রশ্ন নিয়ে একাধিক চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে। তার মধ্যে ‘সিটি অব লাইফ অ্যান্ড ডেথ’ অন্যতম।সিটি অব লাইফ অ্যান্ড ডেথবলা দরকার, নির্বাচনকেন্দ্রিক গল্পের চেয়ে চীনা সিনেমা বরং রাজনৈতিক ক্ষমতা ও রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রণের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে গ্রাম নির্বাচনের বাস্তবতা নিয়ে কিছু ডকুমেন্টারি হয়েছে, যদিও আন্তর্জাতিকভাবে সেগুলোর পরিচিতি সীমিত।

ইলেকশন (২০০৫, হংকং)

পরিচালনা: জনি তো

হংকংয়ের একটি সংগঠনে নেতা নির্বাচনের গল্প এটি। যদিও এটি অপরাধচক্রের ভেতরের নির্বাচন, কিন্তু ক্ষমতার লড়াই, লবিং, বিশ্বাসঘাতকতা—সব মিলিয়ে এটি রাজনৈতিক নির্বাচনেরই রূপক।

জনি তো সিনেমাটির গল্প অত্যন্ত সংযত ভঙ্গিতে দেখিয়েছেন—ক্ষমতার চেয়ার দখলের জন্য মানুষ কতদূর যেতে পারে।ইলেকশনদ্য প্রেসিডেন্ট (২০১৪, ইরান/জর্জিয়া)

পরিচালনা: মহসেন মাখমালবাফ

এক স্বৈরশাসক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর নাতিকে নিয়ে পালাতে বাধ্য হন। যদিও সরাসরি নির্বাচনী চলচ্চিত্র নয়, তবে গণ-অসন্তোষ ও রাজনৈতিক পালাবদলের গল্প হিসেবে এটি প্রাসঙ্গিক।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইরানের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ‘ক্ষমতা হারানো’ মানে কেবল নির্বাচন-পরাজয় নয়, বরং অস্তিত্ব সংকট।দ্য প্রেসিডেন্টদ্য কিংমেকার (২০১৯, ফিলিপাইনস, প্রামাণ্যচিত্র)

পরিচালনা: লরেন গ্রিনফিল্ড

ইমেলদা মার্কোসের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রামাণ্যচিত্র দেখায়—স্মৃতি, প্রচারণা ও মিডিয়া কিভাবে নির্বাচনী রাজনীতিকে প্রভাবিত করে।

ফিলিপাইনের প্রেক্ষাপট হলেও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেক দেশের জন্য এটি প্রাসঙ্গিক।দ্য কিংমেকারইনসাইড মেন (২০১৫, ‍দক্ষিণ কোরিয়া)

পরিচালনা: উ মিন-হো

দক্ষিণ কোরিয়ার সিনেমায় সরাসরি নির্বাচন নিয়ে কাজ তুলনামূলক কম হলেও রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্র রয়েছে কিছু। তার মধ্যে অন্যতম ‘ইনসাইড মেন’। যেখানে নির্বাচনকে ঘিরে অর্থনীতি ও মিডিয়া-রাজনীতিকে সামনে আনে।ইনসাইড মেনএটি দেখায়—নির্বাচনের আগে অর্থ, সংবাদমাধ্যম ও কর্পোরেট স্বার্থ কিভাবে অদৃশ্যভাবে কাজ করে।

বাংলাদেশ: নির্বাচন, ক্ষমতা ও পর্দার নীরবতা

বাংলাদেশে সরাসরি জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্মিত মূলধারার সিনেমা খুব কম। রাজনৈতিক সেন্সরশিপ, মেরুকরণ এবং সংবেদনশীলতার কারণে নির্মাতারা সাধারণত প্রতীকী বা পরোক্ষ ভাষা বেছে নিয়েছেন।চন্দ্রগ্রহণচন্দ্রগ্রহণ (২০০৮, বাংলাদেশ)

পরিচালনা: মুরাদ পারভেজ

একটি গ্রামীণ জনপদে ক্ষমতা দখল, স্থানীয় নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা—সব মিলিয়ে নির্বাচন-সংস্কৃতির ছায়া রয়েছে ছবিটিতে। সরাসরি ভোটের গল্প না হলেও গ্রামীণ ক্ষমতার কাঠামো এখানে গুরুত্বপূর্ণ।গেরিলাগেরিলা (২০১১, বাংলাদেশ)

পরিচালনা: নাসিরউদ্দিন ইউসুফ

মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই চলচ্চিত্র সরাসরি নির্বাচন নিয়ে নয়, কিন্তু রাষ্ট্রক্ষমতা, দখল ও প্রতিরোধের রাজনীতিকে সামনে আনে। স্বাধীনতা পরবর্তী নির্বাচনী রাজনীতির শিকড় বোঝার ক্ষেত্রে এটি প্রাসঙ্গিক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তৈরি করে।

বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র কম হলেও টেলিভিশন নাটক ও টেলিফিল্মে স্থানীয় নির্বাচন (ইউপি চেয়ারম্যান, ছাত্রনেতৃত্ব, পৌর নির্বাচন) নিয়ে ব্যঙ্গধর্মী কাজ হয়েছে প্রচুর। বিশেষ করে গ্রামীণ ভোট কেনাবেচা, পোস্টার-রাজনীতি, পেশিশক্তি—এসব বিষয় নাটকে বেশি উঠে এসেছে।

বাংলাদেশি সিনেমায় নির্বাচন সরাসরি না আসার কারণ রাজনৈতিক সংবেদনশীলতা ও সেন্সর বোর্ডের কঠোরতা।জিন্নাহপাকিস্তান: গণতন্ত্র, সামরিক রাজনীতি ও নির্বাচনী ছায়া

পাকিস্তানের ইতিহাসে সামরিক শাসন ও রাজনৈতিক অস্থিরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ফলে সেখানেও সরাসরি নির্বাচনকেন্দ্রিক চলচ্চিত্র কম, তবে রাজনৈতিক ব্যঙ্গ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম নিয়ে কিছু কাজ হয়েছে।

জিন্নাহ (১৯৯৮, পাকিস্তান)

পরিচালনা: জামিল দেহলভি

মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবনভিত্তিক এই চলচ্চিত্রে ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টির রাজনৈতিক প্রক্রিয়া উঠে এসেছে। গণভোট, প্রতিনিধিত্ব ও রাষ্ট্রগঠনের রাজনীতি এখানে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।ওয়ারওয়ার (২০১৩, পাকিস্তান)

পরিচালনা: বিলাল লাশারি

যদিও এটি মূলত সামরিক-অ্যাকশন থ্রিলার, তবে রাষ্ট্রক্ষমতা, গোয়েন্দা রাজনীতি ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত রয়েছে। নির্বাচনের চেয়ে ক্ষমতার অভ্যন্তরীণ কাঠামো বেশি গুরুত্ব পায়।

মালিক (২০১৬, পাকিস্তান)

পরিচালনা: আসির আজিম

এটি পাকিস্তানে সরাসরি রাজনৈতিক দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ে নির্মিত অন্যতম আলোচিত চলচ্চিত্র। প্রাদেশিক রাজনীতি, নির্বাচনী প্রভাব ও সশস্ত্র ক্ষমতা—সব মিলিয়ে ছবিটি এতটাই স্পর্শকাতর ছিল যে একসময় নিষিদ্ধও করা হয়।

এটি পাকিস্তানি সিনেমায় নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম সাহসী উপস্থাপন।মালিকবলা দরকার, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে নির্বাচনভিত্তিক চলচ্চিত্রের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। বিশেষ করে যেসব দেশে গণতান্ত্রিক কাঠামো সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত। ফলে এসব দেশের নির্মাতারা সরাসরি নির্বাচন নয়, বরং রূপক, অপরাধকাহিনি বা ব্যক্তিগত গল্পের মাধ্যমে ক্ষমতার রাজনীতি তুলে ধরেন।

হলিউড যেখানে নির্বাচনী প্রচারণাকে রাজনৈতিক থ্রিলার বা স্যাটায়ারে রূপ দেয় অহরহ, সেখানে এশিয়ার বহু নির্মাতা নির্বাচনের সামাজিক প্রভাব বা প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতাকে বেশি গুরুত্ব দেন তাদের সিনেমায়।