৬২ বছরের পেশাদার সংগীতজীবনে অসংখ্য মঞ্চে গান গেয়েছেন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। কিন্তু দেশের রাষ্ট্রীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে তাকে নিয়ে কখনও কোনও একক আয়োজন হয়নি। অবশেষে শুক্রবার (২৪ জুলাই) জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে প্রথমবারের মতো তার একক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে শিল্পকলা একাডেমি। একই অনুষ্ঠানে তাকে বিশেষ সম্মাননাও দেওয়া হবে।
এই আয়োজনকে নিজের ক্যারিয়ারের একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন রুনা লায়লা। তিনি বৃহস্পতিবার বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমি প্রথমবারের মতো শিল্পকলায় এমন আয়োজনে অংশ নিচ্ছি। আমার ছয় দশকের ক্যারিয়ারে এর আগে কখনও শিল্পকলায় গান করিনি। সে কারণে আয়োজনটি আমার জন্য বিশেষ।’
৬২ বছরের সংগীতজীবনে এটিই তার প্রথম একক সংগীতানুষ্ঠান। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমাকে আসলে শিল্পকলায় কখনো ডাকা হয়নি। যারা এখানে বিভিন্ন সময় দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা কখনো কোনও আয়োজন করেননি।’
রুনা লায়লার এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেনও। সাক্ষাৎকারের সময় উপস্থিত থেকে তিনি বলেন, ‘শিল্পকলা আসলে এই কিংবদন্তি শিল্পীকে নিয়ে আয়োজন করেনি। এবার তাকে নিয়ে বড় পরিসরে আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে সেটি করলে শিল্পকলার বাইরে আয়োজন করতে হতো। সেটি করলে শিল্পকলার যে আক্ষেপ তা ঘুচতো না। এ কারণেই শিল্পকলাতেই এই আয়োজন করেছি।’
রুনা লায়লা আরও বলেন, ‘আমাদের সংগীতের দীর্ঘ পথচলা, গান ও স্মৃতিগুলো নতুন প্রজন্মের শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। শ্রোতাদের প্রিয় কিছু গান পরিবেশনের চেষ্টা থাকবে। আশা করি, শ্রোতাদের সঙ্গে সুন্দর ও স্মরণীয় একটি সন্ধ্যা কাটবে।’
আয়োজকরা জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানে রুনা লায়লা তার দীর্ঘ সংগীতজীবনের কালজয়ী ও শ্রোতাপ্রিয় ১০টি গান পরিবেশন করবেন। এর মধ্যে থাকবে ‘শিল্পী আমি তোমাদের গান শোনাবো’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি’, ‘বন্ধু তিন দিন তোর বাড়ি গেলাম’, ‘সাধের লাউ বানায়লো মোরে বৈরাগী’ ও ‘মাস্ত কালান্দার’সহ আরও কয়েকটি জনপ্রিয় গান।
শুধু সংগীতানুষ্ঠান নয়, এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একটি মানবিক উদ্যোগও। অনুষ্ঠানের টিকিট বিক্রি থেকে পাওয়া পুরো অর্থ বন্যার্ত মানুষের সহায়তায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে জমা দেওয়া হবে।
শিল্পকলা একাডেমি এর আগে শিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন ও সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে একই ধরনের আয়োজন করেছিল। এবার সেই ধারাবাহিকতায় যুক্ত হলেন রুনা লায়লা। শিল্পকলা কর্তৃপক্ষের স্বীকারোক্তি এবং শিল্পীর বক্তব্য—দুটিই ইঙ্গিত করছে, দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ এই শিল্পীকে নিয়ে রাষ্ট্রীয় এই প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের অনাগ্রহের অবসান ঘটছে অবশেষে ৬২ বছর পর।