ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত ও ব্যয়বহুল প্রকল্প ‘রামায়ণ’-এর প্রথম ট্রেলার প্রকাশ পেয়েছে। প্রায় ৪ মিনিট ১০ সেকেন্ডের এই ট্রেলারে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গভাবে দেখা গেলো রণবীর কাপুরের রাম, যশের রাবণ, সাই পল্লবীর সীতা এবং রবি দুবের লক্ষ্মণকে। ট্রেলার প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন এটি ভারতীয় সিনেমার নতুন মাইলফলক, আবার কেউ তুলেছেন ভিএফএক্স, সংলাপ ও কিছু সৃজনশীল সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন।
ট্রেলারের শুরুতেই দেখা যায় রাবণের উত্থান। বিশাল এক প্রাসাদের দরজা ভেঙে নিজের শক্তির জানান দেন তিনি। এরপর ঘোষণা করেন ‘রাবণরাজ’-এর সূচনা। রাবণের তাণ্ডবে যখন দেবতা ও রাজারা আতঙ্কিত, তখন অযোধ্যার রাজা দশরথের পুত্র হিসেবে আবির্ভাব ঘটে বিষ্ণুর অবতার রামের।
এরপর ট্রেলারে উঠে আসে রামের শৈশব থেকে যৌবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। লক্ষ্মণকে সঙ্গে নিয়ে অসুরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, কৈকেয়ীর দাবিতে ১৪ বছরের বনবাসে যাওয়া এবং সীতার তাঁর সঙ্গে বনবাসে যাওয়ার মতো পরিচিত ঘটনাগুলোর ঝলকও দেখা যায়।
নির্মাতারা এবার অযোধ্যা ও লঙ্কার রাজকীয় পরিবেশ, বিশাল সেট, প্রোডাকশন ডিজাইন এবং আবেগঘন দৃশ্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। আগের টিজারে অতিরিক্ত ভিএফএক্স ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের সমালোচনা হলেও নতুন ট্রেলারে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত বলে মনে করছেন দর্শকদের একটি অংশ।
তবে একটি বিষয় সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় চার মিনিটের ট্রেলারে সানি দেওল অভিনীত হনুমানের কোনও উপস্থিতিই নেই। এতে তাঁর ভক্তদের অনেকেই হতাশ হয়েছেন। অনেকে অবশ্য মনে করছেন, দ্বিতীয় পর্বের চমক হিসেবে চরিত্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে আড়াল করে রেখেছেন নির্মাতারা।
ট্রেলারটি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও কম আসেনি। অভিনেত্রী ভূমি পেডনেকর ইনস্টাগ্রামে ট্রেলার শেয়ার করে লিখেছেন, “এটি অসাধারণ। সত্যিই এটি দেখার অপেক্ষায় আছি। ‘রামায়ণ’ বিশ্বমানের এক দর্শনীয় আয়োজন হতে যাচ্ছে।”
অভিনেতা নবীন পলিশেট্টিও নির্মাতা নীতেশ তিওয়ারির প্রশংসা করে লিখেছেন, “এপিক। এই ছবির যাত্রাটা কী অসাধারণ! নীতেশ তিওয়ারি স্যারকে অনেক শ্রদ্ধা।”
করণ জোহর ট্রেলার প্রকাশের পর নির্মাতা জয়া আখতার মন্তব্য করেন, “অপেক্ষা করতে পারছি না!” আর প্রযোজক গুনীত মঙ্গা ট্রেলারটিকে “অবিশ্বাস্য” বলে অভিহিত করেন।
সাধারণ দর্শকদের বড় একটি অংশও ট্রেলারের ব্যাপ্তি, ভিজ্যুয়াল, আবেগ এবং যশের রাবণ চরিত্রের উপস্থিতির প্রশংসা করেছেন। অনেকের মতে, প্রতিটি ফ্রেম যেন ভিজ্যুয়াল কবিতা। আবার কেউ বলেছেন, ট্রেলারটি দেখে ভারতীয় সিনেমার জন্য নতুন এক যুগের সূচনা হতে পারে।
তবে সমালোচনাও রয়েছে। একাংশের মতে, প্রায় চার হাজার কোটি রুপির বাজেটের দাবি অনুযায়ী ট্রেলারটি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। কয়েকটি দৃশ্যে গ্রিন স্ক্রিনের ব্যবহার স্পষ্ট বলে মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ। রণবীর কাপুরের সংলাপ বলার ধরন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন দর্শক। আবার কারও অভিযোগ, ট্রেলারে আবেগের ঘাটতি রয়েছে।
আরও একটি প্রশ্ন বারবার উঠে এসেছে—পুরো ট্রেলারে কেন হনুমানকে দেখানো হয়নি? পাশাপাশি লক্ষ্মণ রেখার কোনও ইঙ্গিত না থাকা এবং রাবণের চরিত্রকে তুলনামূলক বেশি গুরুত্ব দেওয়া নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা চলছে।
তবে প্রশংসা-সমালোচনার মধ্যেও একটি বিষয়ে প্রায় সবাই একমত—যশের রাবণ চরিত্রটি ট্রেলারের অন্যতম বড় আকর্ষণ। তাঁর পর্দা উপস্থিতি ও ব্যক্তিত্ব দর্শকদের দৃষ্টি কেড়েছে। অন্যদিকে অনেকের মতে, রণবীরও রামের শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
নীতেশ তিওয়ারি পরিচালিত ‘রামায়ণ’-এ রণবীর কাপুর, যশ, সাই পল্লবী, সানি দেওল, রবি দুবে, রাকুল প্রীত সিং, লারা দত্ত, অরুণ গোভিল, বিবেক ওবেরয়, কুনাল কাপুর, কাজল আগরওয়াল ও ইন্দিরা কৃষ্ণানসহ বড় একটি তারকাবহুল দল অভিনয় করেছেন। ছবির সংগীত পরিচালনা করেছেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান ও হ্যান্স জিমার।
ছবিটির প্রথম কিস্তি ২০২৬ সালের দীপাবলিতে এবং দ্বিতীয় কিস্তি ২০২৭ সালের দীপাবলিতে মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে।