অন্য তারকারা পারেননি, বিজয় কেন পারলেন? যা বললেন বিশাল

অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসার ঘটনা নতুন নয়। জনপ্রিয়তার জোরে কেউ দল গড়েছেন, কেউ নির্বাচনে লড়েছেন, আবার কেউ রাজনীতিতে এসে প্রত্যাশিত সাফল্য পাননি। তবে তামিলনাড়ুর অভিনেতা বিজয়ের ক্ষেত্রে যেন গল্পটা একটু আলাদা। রাজনীতিতে তার সাফল্যের পেছনে কী কাজ করেছে—এবার সেই ব্যাখ্যাই দিয়েছেন অভিনেতা বিশাল।

এনডিটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশাল বলেন, বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যকে শুধু তারকা হিসেবে পাওয়া জনপ্রিয়তা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এর সঙ্গে মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং তাদের সঙ্গে বিজয়ের সরাসরি যোগাযোগও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

বিশালের মতে, রাজনীতিতে আসা অন্য অভিনেতাদেরও জনপ্রিয়তা ছিল। কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে সময়টা ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত ছিল, তখন বিজয় নিজেকে তাদের সামনে একটি বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে পেরেছেন।

বিশালের ভাষায়, এটি অনেকটা ‘একটি ডাকের’ মতো। তার মতে, মানুষ শুধু জনপ্রিয় অভিনেতা হিসেবে বিজয়ের ওপর আস্থা রাখেনি; বরং পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা থেকেই তাকে একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে।

মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ

বিজয়ের রাজনৈতিক সাফল্যের পেছনে ভোটারদের সঙ্গে তার যোগাযোগের ধরনকেও গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন বিশাল। বিশেষ করে তরুণ ও প্রথমবারের ভোটারদের সঙ্গে বিজয় যেভাবে যোগাযোগ করেছেন, সেটি তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তিনি।

২০২৬ সালের তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ দিকে বিজয়ের দেওয়া একটি বক্তব্যের কথাও উল্লেখ করেন বিশাল। ওই বক্তব্যে বিজয় ভোটারদের তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদি এবং পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠদের তাকে ভোট দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতে বলেছিলেন।

বিশালের দাবি, ওই বক্তব্যের প্রভাব তিনি নিজের চোখেও দেখেছেন। এমনকি এক বিচারক তাকে জানিয়েছিলেন, তার নাতনির অনুরোধেই তিনি বিজয়কে ভোট দিয়েছেন।

‘বিজয় এখনও আগের মতোই’

রাজনীতিতে আসার পর বিজয়ের ব্যক্তিগত আচরণে বড় কোনও পরিবর্তন দেখেননি বলেও জানান বিশাল।

সম্প্রতি বিজয়ের সঙ্গে দেখা হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিজয় এখনও আগের মতোই আছেন। বদলেছে শুধু তার দায়িত্ব।

বিশাল জানান, বিজয়ের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার সময় তিনি কোনো ফুলের তোড়াও নেননি। কারণ, তিনি সাধারণত কাউকে ফুলের তোড়া দেন না। তবে রাজনীতিতে আসার পর বিজয়ের আচরণে বড় কোনো পরিবর্তন তার চোখে পড়েনি।

শুধু তারকা জনপ্রিয়তা যথেষ্ট নয়

ভারতীয় সিনেমায় জনপ্রিয় অভিনেতাদের রাজনীতিতে আসার নজির দীর্ঘদিনের। এ প্রসঙ্গে শিবাজি গণেশন, ভাগ্যরাজ, অমিতাভ বচ্চন ও মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকাদের নাম উল্লেখ করেন বিশাল।

তার বক্তব্য, একজন অভিনেতার জনপ্রিয়তা তাকে রাজনীতিতে পরিচিতি এনে দিতে পারে, কিন্তু সেটিই সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়। বিজয়ের ক্ষেত্রে তারকা পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা, ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং উপযুক্ত রাজনৈতিক সময়।

অর্থাৎ, বিজয়ের সাফল্যকে শুধু সিনেমার পর্দায় পাওয়া জনপ্রিয়তার ফল হিসেবে দেখছেন না বিশাল। বরং তার মতে, মানুষের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা এবং সেই আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে বিজয়ের নিজেকে যুক্ত করতে পারাটাই তাকে অন্য তারকাদের চেয়ে আলাদা করেছে।

এদিকে অভিনয়ের পাশাপাশি নতুন ভূমিকাতেও দেখা যাবে বিশালকে। ‘মাগুডাম’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে তার। ছবিটি ১৪ আগস্ট মুক্তির কথা রয়েছে।