বিতর্ক আর উর্বশী রাউতেলা এই দুটি নাম যেন একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তার যে কোনও বিষয় অথবা যে কোনও বক্তব্য ঘিরে তৈরি হয়ে যায় বিতর্ক। এবার মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়ায় তিরঙ্গা-অনুপ্রাণিত গাউন পরে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
অভিযোগ, অভিনেত্রী ভারতীয় পতাকা বিধি লঙ্ঘন করেছেন।
জয়পুরে রোববার (২৩ আগস্ট) অনুষ্ঠিত মিস ইউনিভার্স ইন্ডিয়া প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে উপস্থিত হয়ে তিরঙ্গা-অনুপ্রাণিত পোশাকে নজর কাড়েন উর্বশী। তার গাউনে ভারতের জাতীয় পতাকার অনুপ্রেরণায় গেরুয়া, সাদা ও সবুজ রং ব্যবহার করা হয়। পোশাকটির মাঝখানে ছিল অশোকচক্র-অনুপ্রাণিত একটি অলংকারও।
এই পোশাক দেখেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিনেত্রীকে নিয়ে তৈরি হয়েছে তুমুল বিত
র্ক। কেউ কেউ মনে করেছেন, জাতীয় পতাকার আদলে তৈরি এই পোশাক পরে উর্বশী দেশকে অপমান করেছেন। কারও কারও মতে, জাতীয় পতাকার রং ও প্রতীক শরীরের নিচের অংশের পোশাকে ব্যবহার এবং পোশাকের কিছু অংশ মেঝেতে টেনে নিয়ে যাওয়া ভারতের পতাকা বিধির লঙ্ঘন।
তবে এ নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন উর্বশী নিজেই। তিনি বলেন, ‘আমি শুধু জাতীয়তার পরিচয় হিসেবে নয়, আমার পরিচয়ের একটি অংশ হিসেবেও দেশকে ধারণ করি। আমি এমন কিছু পরতে চেয়েছিলাম, যেটিতে মানুষ জানাবে আমি কোথা থেকে এসেছি। এটি শুধু একটি পোশাকে তিনটি রং বসানোর বিষয় ছিল না। বরং জাতীয় আবেগকে একটি শৈল্পিক প্রকাশে রূপান্তর করার চেষ্টা ছিল।’
এদিকে ভারতের জাতীয় পতাকার প্রদর্শন ও ব্যবহার ফ্ল্যাগ কোড অব ইন্ডিয়া, ২০০২ এবং প্রিভেনশন অব ইনসাল্টস টু ন্যাশনাল অনার অ্যাক্ট, ১৯৭১-এর আওতায় নিয়ন্ত্রিত। আইন অনুযায়ী, জাতীয় পতাকা মাটিতে বা মেঝেতে স্পর্শ করতে দেওয়া যাবে না এবং পানিতে টেনে নেওয়াও নিষিদ্ধ।
১৯৭১ সালের আইনে কোমরের নিচে পরিধেয় পোশাক, ইউনিফর্ম বা আনুষঙ্গিক সামগ্রীর অংশ হিসেবে জাতীয় পতাকা ব্যবহার কিংবা পোশাকে পতাকার নকশা এমব্রয়ডারি বা প্রিন্ট করাকেও পতাকার প্রতি অসম্মানজনক আচরণের আওতায় রাখা হয়েছে।
আইনে ‘ভারতের জাতীয় পতাকা’ বলতে পতাকার ছবি, অঙ্কন বা পতাকার সম্পূর্ণ কিংবা কোনও অংশের দৃশ্যমান উপস্থাপনাকেও বোঝানো হয়েছে। সর্বসমক্ষে জাতীয় পতাকার অবমাননা বা অসম্মান করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।