যে বাবারা শুধু চরিত্র নন, হয়ে উঠেছিলেন প্রজন্মের আবেগ

হিন্দি সিনেমায় বাবার চরিত্র বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ। একসময় পর্দার বাবাদের বেশিরভাগই দেখা যেত কঠোর, রাশভারী ও কর্তৃত্বপরায়ণ রূপে। তবে সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলেছে। এখনকার বলিউডে বাবারা শুধু পরিবারের অভিভাবক নন, তারা সন্তানের স্বপ্নের সঙ্গী, বন্ধু, অনুপ্রেরণা এবং কখনও কখনও সবচেয়ে বড় আশ্রয়ও। বাবা দিবস উপলক্ষে ফিরে দেখা যাক বলিউডের এমন কয়েকজন অন-স্ক্রিন বাবাকে, যারা চরিত্রের গণ্ডি ছাড়িয়ে দর্শকের আবেগে জায়গা করে নিয়েছেন।

ইরফান খান (অ্যাংরেজি মিডিয়াম)

চম্পক বানসাল চরিত্রে ইরফান খান ছিলেন একজন সাদামাটা মিষ্টির দোকান মালিক। কিন্তু মেয়ের বিদেশে পড়ার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে তিনি অসম্ভব সব বাধা পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। মেয়ের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এই উপস্থাপন দর্শকের হৃদয় ছুঁয়েছিল গভীরভাবে।

দঙ্গল চলচ্চিত্রে আমির খান
আমির খান (দঙ্গল)

‘দঙ্গল’ ছবিতে মহাবীর সিং ফোগাট চরিত্রে আমির খান ছিলেন এক আপসহীন বাবা। সমাজের প্রচলিত ধারণাকে অগ্রাহ্য করে মেয়েদের কুস্তিগির হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কঠোর প্রশিক্ষণ, ত্যাগ আর অদম্য বিশ্বাসের মাধ্যমে মেয়েদের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দেওয়ার গল্পে তিনি হয়ে উঠেছেন বলিউডের অন্যতম স্মরণীয় বাবা।

অজয় দেবগন (দৃশ্যম)

‘দৃশ্যম’-এ বিজয় সালগাঁওকর একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু পরিবার বিপদে পড়লে তিনি হয়ে ওঠেন এক অসাধারণ বাবা। নিজের সন্তানকে রক্ষা করতে তিনি যে বুদ্ধিমত্তা, সাহস ও আত্মত্যাগের পরিচয় দেন, তা তাকে আধুনিক ভারতীয় সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী পিতৃচরিত্রে পরিণত করেছে।

অজয় দেবগান
অমিতাভ বচ্চন (পিকু)

‘পিকু’ ছবিতে ভাস্কর ব্যানার্জি চরিত্রটি ছিল একই সঙ্গে বিরক্তিকর, হাস্যকর এবং অসাধারণ মানবিক। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও মেয়ের স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের বিষয়ে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রগতিশীল। বাবা-মেয়ের সম্পর্কের এক ভিন্ন মাত্রা তুলে ধরেছিল এই চরিত্র।

অমিতাভ বচ্চন (বাবুল)

‘বাবুল’ ছবিতে ছেলের মৃত্যুর পর পুত্রবধূর পাশে দাঁড়ান বলরাজ। তাকে শুধু পুত্রবধূ হিসেবে নয়, নিজের মেয়ের মতোই দেখেন তিনি। সমাজের বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে নতুন করে জীবন শুরু করার অধিকারকে সমর্থন জানানোর মাধ্যমে চরিত্রটি দর্শকদের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়।
অমিতাভ বচ্চন
কুমুদ মিশ্র (থাপ্পড়)

‘থাপ্পড়’ ছবিতে সচিন সান্ধু এমন এক বাবা, যিনি সমাজের চেয়ে মেয়ের আত্মসম্মানকে বেশি গুরুত্ব দেন। মেয়ের ভাঙা সংসার নিয়ে বিচার না করে তিনি তার সিদ্ধান্তের পাশে দাঁড়ান। একজন সহমর্মী ও সচেতন বাবার প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে চরিত্রটি।

কুমুদ মিশ্রকমল হাসান (চাচি ৪২০)

মেয়ের কাছ থেকে দূরে থাকতে না পেরে এক বৃদ্ধা আয়ার ছদ্মবেশ ধারণ করেন জয়। প্রাক্তন স্ত্রীর বাড়িতে কাজ নিয়ে মেয়ের কাছাকাছি থাকার এই গল্পে হাস্যরস থাকলেও এর কেন্দ্রে ছিল একজন বাবার গভীর মমত্ববোধ।

পঙ্কজ ত্রিপাঠি
পঙ্কজ ত্রিপাঠী (গুঞ্জন সাক্সেনা: দ্য কার্গিল গার্ল)

অনুপ সাক্সেনা চরিত্রে পঙ্কজ ত্রিপাঠী দেখিয়েছেন, একজন বাবার বিশ্বাস কীভাবে সন্তানের স্বপ্নকে ডানা মেলতে সাহায্য করতে পারে। মেয়ের যুদ্ধবিমানচালক হওয়ার স্বপ্নকে সমর্থন জানিয়ে তিনি ভেঙেছেন সমাজের বহু প্রচলিত ধারণা।

শাহরুখ খান (জওয়ান)

‘জওয়ান’-এ বিক্রম চরিত্রে শাহরুখ খানকে দেখা যায় একজন যোদ্ধা এবং একজন স্নেহময় বাবা হিসেবে। নিজের ছেলের নিরাপত্তার প্রশ্নে তিনি হয়ে ওঠেন অপ্রতিরোধ্য। ছবির জনপ্রিয় সংলাপ—“বেটেকে হাত লাগানে সে পহেলে, বাপ সে বাত কর”—পর্দায় পিতৃত্বের শক্তিশালী প্রকাশ হিসেবে দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।

সময়ের সঙ্গে বলিউডের বাবা চরিত্র বদলেছে। কঠোর অভিভাবক থেকে তারা হয়ে উঠেছেন আবেগপ্রবণ, সংবেদনশীল এবং সন্তানের স্বপ্নের সহযাত্রী। আর সেই কারণেই এই চরিত্রগুলো শুধু সিনেমার অংশ নয়, দর্শকের কাছে বাবার ভালোবাসা ও ত্যাগের একেকটি প্রতীক হয়ে আছে।