একসময় দৈনিক ২০ রুপি মজুরিতে কাজ করা তামিল অভিনেতা সুরি আজ দক্ষিণি সিনেমার অন্যতম শীর্ষ তারকা। অনাহার আর নানা লাঞ্ছনা পেরিয়ে ছোটখাটো চরিত্র থেকে উঠে আসা এই অভিনেতার সাম্প্রতিক সিনেমাগুলো বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটি রুপিরও বেশি ব্যবসা করছে।
এইচডি নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালে বন্ধুদের সঙ্গে তিরুপুরে একটি কাজে যুক্ত ছিলেন সুরি, যেখানে দৈনিক ২০ রুপি হিসাবে সপ্তাহে মিলত ১৪০ রুপি। সেই উপার্জনের অর্ধেকই আবার পাঠাতে হতো বাড়িতে। টানাটানির সংসারে একটি ১ রুপি ২৫ পয়সা দামের নারকেলের বনরুটি খাওয়ার সামর্থ্যও তার ছিল না; খাবারের বদলে কেবল চা খেয়েই দিন পার করতেন তিনি।
রজনীকান্তের অন্ধ ভক্ত সুরি মনি রত্নমের ‘থালাপতি’ সিনেমায় রজনীকান্তের চরিত্র দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘সূর্য’ (পরে সুরি)। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে চলচ্চিত্রে আগমন হলেও জীবিকা নির্বাহের জন্য দেয়াল রঙ করার কাজ করতেন তিনি। ২০০৯ সালে ‘ভেন্নিলা কবাডি কুজু’ সিনেমায় অভিনয় করে ‘পরোটা সুরি’ হিসেবে পরিচিতি পান।
তবে শুরুর পথটি সহজ ছিল না। গ্যালাট্টাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেটের অপমানের স্মৃতিচারণ করে সুরি বলেন, একবার এক প্রধান কমেডিয়ান ও সুপারস্টারের সঙ্গে শুটিংয়ের সময় আমাকে শার্ট খুলে ফেলতে বলা হয়, যাতে সেটি আমার জায়গায় বদলি হিসেবে আসা অন্য অভিনেতাকে দেওয়া যায়। আমার শার্টটি কস্টিউম গাড়িতে ছুড়ে মারা হয়েছিল, আর আমাকে কোমরে কেবল তোয়ালে জড়িয়ে সেটে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল। তারা অন্য একজনকে নিয়ে শুটিং করছিল আর আমি কাপড় খুঁজছিলাম। ঘটনাটি ছিল মারাত্মক অপমানজনক।
২০২৩ সালে পরিচালক ভেত্রিমারান তার ‘বিদুথালাই: পার্ট ১’ সিনেমায় কনস্টেবল কুমারেসান চরিত্রে সুরিকে প্রধান অভিনেতা করেন। কমিক চরিত্র থেকে বেরিয়ে সিরিয়াস রোলে তার এই পারফরম্যান্স বিশ্বজুড়ে ৫৩ কোটি রুপি ব্যবসা করে। এরপর ‘বিদুথালাই: পার্ট ২’ সংগ্রহ করে ৫৫ কোটি রুপি। সাফল্য অব্যাহত রেখে তার পরবর্তী সিনেমা ‘গারুডান’ ৫৯.৫০ কোটি এবং ‘মামান’ ৫০.৭৫ কোটি রুপি আয় করে। বর্তমানে মথিমারান পুগজহেন্থির পরিচালনায় সুরি অভিনীত নতুন সিনেমা ‘মানদাদি’ আগামী ১০ সেপ্টেম্বর প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি