ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে গাজায় ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের ওপর গণহত্যা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ ব্যাপক প্রশংসা পেয়েছে। অস্কারজয়ী ইসরায়েলি নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম ও র্যাচেল জোর এটি নির্মাণ করেন।
প্রিমিয়ারের পর প্রায় ২৫ মিনিট ধরে স্ট্যান্ডিং ওভেশন পায় ‘নাজা’ যা উৎসবটির ইতিহাসে রেকর্ড বলে জানিয়েছে এএফপি।
এর মাধ্যমে গত বছর ‘দ্য ভয়েস অব হিন্দ রাজাব’-এর পাওয়া ২৩ মিনিটের অভ্যর্থনার রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে ছবিটি। রেড কার্পেটে নির্মাতারা অডিটোরিয়ামে যাওয়ার সময় দর্শকদের কেউ ‘ফ্রি প্যালেস্টাইন’, আবার কেউ ‘ফ্রি ইসরায়েল’ স্লোগান দেন। ইতোমধ্যে উৎসবের সর্বোচ্চ পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার হিসেবেও আলোচনায় এসেছে ‘নাজা’।
তথ্যচিত্রটিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ২৪ জন সাবেক ও বর্তমান সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি—যাদের মধ্যে গোয়েন্দা কর্মকর্তা ও সেনাসদস্যও রয়েছেন। গাজা যুদ্ধ এবং ফিলিস্তিনি বেসামরিকদের বিভিন্ন ভবনের ছাদে গোপনে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় গোপন রাখতে তাদের চেহারা ও কণ্ঠে ডিজিটাল পরিবর্তন এনে হত্যার বিষয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন। তিন বছর ধরে গোপনে ছবিটির শুটিং করা হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয় গোপন রাখতে তাদের চেহারা ও কণ্ঠে ডিজিটাল পরিবর্তন আনা হয়েছে।
ভেনিসে সংবাদ সম্মেলনে ইউভাল আব্রাহাম বলেন, নির্মাতারা মূলত সেনা ও কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চেয়েছেন, তারা কী করেছিলেন এবং পুরো প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করেছিল।
‘নাজা’ নামটি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা বোঝাতে ব্যবহৃত একটি সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে নেওয়া হয়েছে।
২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে প্রকাশিত ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংবাদমাধ্যম ৯৭২ ম্যাগাজিন, হিব্রু ভাষার লোকাল কল এবং দ্য গার্ডিয়ান-এর বিভিন্ন প্রতিবেদনকে ভিত্তি করে নির্মিত হয়েছে তথ্যচিত্রটি।
প্রসঙ্গত, ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে স্ট্যান্ডিং ওভেশন (Standing Ovation) হলো কোনও চলচ্চিত্রের ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার বা উদ্বোধনী প্রদর্শনী শেষে প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত দর্শকদের দাঁড়িয়ে অবিরাম করতালি (হাততালি) দিয়ে সম্মান ও প্রশংসা জানানোর একটি ঐতিহ্যবাহী রীতি।