ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, জব্দ ব্যাংক হিসাব

কান চলচ্চিত্র উৎসবের স্বর্ণপামজয়ী ইরানি নির্মাতা জাফর পানাহিকে পাঁচ বছর এক মাসের কারাদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। এর আগে তাকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তেহরানের একটি আদালত নতুন এই রায় দিয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরানের সংস্কারপন্থী অনলাইন সংবাদমাধ্যম এমতেদাদ নিউজ এজেন্সি।

পানাহির আইনজীবী মোস্তফা নিলি এমতেদাদকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

আইনজীবীর ভাষ্য অনুযায়ী, আদালত পানাহির অনুপস্থিতিতে এই রায় দিয়েছেন। তবে দুটি রায়ই কার্যকর করা হবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিবেচনার ওপর নির্ভর করছে। এ ছাড়া পানাহির সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুই বছরের জন্য তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। নতুন মামলায় তার বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অবশ্য স্পষ্ট নয়।

গত সপ্তাহে হঠাৎ পানাহির ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়। এরপর তার আইনজীবী মক্কেলকে সঙ্গে নিয়ে তেহরানের প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যান। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, পানাহির অনুপস্থিতিতেই আদালত এই রায় দিয়েছেন।

নিলি জানান, মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, পানাহি ইরানের বাইরে বসবাস করছেন। অথচ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ তিনি ইরানে ফিরে এসেছিলেন। এর কিছুদিন আগে অনুষ্ঠিত ৯৮তম অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের পরপরই দেশে ফেরেন তিনি। ওই আসরে তার সর্বশেষ সিনেমা ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ সেরা আন্তর্জাতিক পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনয়নের জন্য ফ্রান্সের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়েছিল।

গত দুই দশকে ইরানি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার বিরোধে জড়িয়েছেন জাফর পানাহি।

২০১০ সালে এই খ্যাতিমান চলচ্চিত্র নির্মাতার সিনেমা নির্মাণ, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা এবং বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল। তবে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও গোপনে সিনেমা নির্মাণ চালিয়ে যান তিনি। ‘দ্য সার্কেল’, ‘অফসাইড’, ‘দিস ইজ নট আ ফিল্ম’, ‘ট্যাক্সি’ এবং ‘নো বিয়ার্স’-এর মতো পুরস্কারজয়ী সিনেমার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত পানাহি।

২০২২ সালে একদল চলচ্চিত্র নির্মাতার বিক্ষোভের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করা হয়। প্রায় সাত মাস পর মুক্তি পান তিনি।

২০২৩ সালের এপ্রিলে তার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়। এরপর ইরানি কর্তৃপক্ষ তাকে ‘ইট ওয়াজ জাস্ট অ্যান অ্যাক্সিডেন্ট’ সিনেমার প্রচারের জন্য কান চলচ্চিত্র উৎসবে যাওয়ার অনুমতি দেয়। পরবর্তী সময়ে সিনেমাটির প্রচারে বিভিন্ন দেশেও ভ্রমণ করেন পানাহি।