মৃত্যুদিনে স্মরণ

কিশোর কুমার হতে সাবধান!

বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যতিক্রম গায়ক বলা হয় তাকে। কারণ নিজের কণ্ঠকে নানান ঢঙে উপস্থাপন করতেন তিনি। এই সুবাদে একই মানুষের কণ্ঠ থেকে অনেক ধরনের গান পেয়েছে শ্রোতারা। তার মধ্যে বহু গান কালের সীমানা জয় করে টিকে আছে মানুষের হৃদয়ে। আবার অভিনেতা হিসেবেও সাফল্য কুড়িয়েছিলেন। সবমিলে তারকা হিসেবে খ্যাতির আকাশ ছুঁয়েছিলেন তিনি।
 
কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে ভীষণ খামখেয়ালি ছিলেন। যার প্রমাণ মেলে বিভিন্ন উদ্ভট কর্মকাণ্ডে। একদা ওয়ার্ডেন রোডের বাসার সামনে নেমপ্লেট ঝুলিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে লেখা ছিলো, ‘কিশোর কুমার হতে সাবধান’!

নামটা এবার প্রকাশ্যে এসে গেলো। গায়ক-অভিনেতা হিসেবে সাফল্যের সবটুকু অর্জন করলেও তার ব্যক্তিজীবন নিয়ে অনেক রহস্য, বিষাদের গল্প শোনা যায়। তেমনি তার অদ্ভুত কাজের স্মৃতিও রয়ে গেছে ইতিহাসের পাতায়। 
জানা যায়, মধ্যপ্রদেশের যে বাড়িতে কিশোরের জন্ম, সেই বাড়ির সামনে একবার তিনি সাইনবোর্ড লাগিয়েছিলেন; যেটাতে লেখা ছিলো ‘মেন্টাল হসপিটাল’। আরেকটি অদ্ভুত স্বভাব ছিলো এই কিংবদন্তির। যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনও প্রযোজক আলাদা টাকা না দিতেন, ততক্ষণ পর্যন্ত চুল কিংবা দাড়িগোঁফ কাটতেন না তিনি। 

বর্ণিল জীবনের গল্পের ইতি টেনে কিশোর কুমার ১৯৮৭ সালের আজকের দিনে (১৩ অক্টোবর) পাড়ি দিয়েছিলেন না ফেরার দেশে। সেদিনও স্ত্রী লীনার সঙ্গে মজার ছলে কথা বলেছিলেন। ওইদিন সকাল থেকেই কিশোর কুমারের শরীরটা দুর্বল ছিলো। স্ত্রী ডাক্তার ডাকতে চাইলেন। কিন্তু কিশোর বলেছিলেন, ‘তুমি যদি ডাক্তারকে খবর দাও, আমার কিন্তু হার্ট অ্যাটাক হবে!’

তারকা পরিবারেই জন্ম কিশোর কুমারের। প্রাপ্তিও ছিলো ঢের। কিন্তু মনের এক কোণে তারও বিষাদের ছায়া ছিলো। যা কখনোই প্রকাশ করতে চাইতেন না। শেষ জীবনে একবার জানিয়েছিলেন, তার কোনও বন্ধু নেই। সেজন্য নাকি গাছের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি।
 
কিশোর কুমারউল্লেখ্য, কিশোর কুমারের জন্ম ১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট। তার আসল নাম আভাসকুমার গাঙ্গুলি। চল্লিশের দশকের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কাজ শুরু করেছিলেন। সক্রিয় ছিলেন মৃত্যুর আগ অবধি। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো- ‘নকরি’, ‘ভাই ভাই’, ‘নিউ দিল্লি’, ‘আশা’, ‘ঝুমরু’, ‘হাফ টিকিট’, ‘পাডোসান’ ইত্যাদি। 

গায়ক হিসেবেই তিনি বেশি খ্যাত। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানের সংখ্যাও অনেক। এর মধ্যে কয়েকটি হলো- ‘নীলে নীলে আম্বার পার’, ‘তু হ্যায় ওয়াহি দিল নে জিসে’, ‘কেয়া ইয়েহি পেয়ার হ্যায়’, ‘কেহ দু তুমহে ইয়া চুপ রাহু’, ‘রিমঝিম ঘিরে সাওয়ান’, ‘ছুকার মেরে মান কো’, ‘তেরে বিনা জিন্দেগি সে কোয়ি’, ‘আরে দিওয়ানো মুঝে পেহচানো’, ‘মেরে সাপনো কি রানি’ প্রভৃতি। 

হিন্দির পাশাপাশি বাংলা, মারাঠি, গুজরাটি, কন্নড়, মালায়লামসহ বহু ভাষায় গান গেয়েছিলেন কিশোর কুমার। সেরা গায়ক হিসেবে তিনি ৮ বার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার পেয়েছিলেন। 

সূত্র: আনন্দবাজার ও দ্য বেটার ইন্ডিয়া