সঞ্জীব উৎসব

‘এরকম একটা উৎসব প্রতি বছর হচ্ছে, এটাই তো বড় ব্যাপার’

কিছু শিল্পী থাকেন, নিজের কাজটা ঠিকঠাক করেন তো বটেই; পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও নতুন পথ সুগম করে দিয়ে যান। তেমনই এক সংগীতশিল্পী সঞ্জীব চৌধুরী। যিনি দেড় দশক আগেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তার গানের ধারা এখনও নদীর মত প্রবাহিত হচ্ছে। ছড়িয়ে যাচ্ছে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে। 

সোমবার (২৫ ডিসেম্বর) নন্দিত এই গায়ক ও কবিয়ালের জন্মদিন। এ উপলক্ষে বরাবরের মতো উৎসবের আয়োজন করেছে সঞ্জীব উৎসব উদযাপন পর্ষদ ও আজব কারখানা। গত এক যুগ ধরেই ‘সঞ্জীব উৎসব’ নামে আয়োজনটি হয়ে আসছে।
 
এ দিন বিকাল ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির সঞ্জীব চত্বরে শুরু হবে অনুষ্ঠান। সঞ্জীব যেহেতু গানের মানুষ, গানে গানেই তাকে স্মরণ করা হবে। এবারের উৎসবে গান পরিবেশন করবেন লিমন, জয় শাহরিয়ার, মুয়ীয মাহফুজ, সন্ধি, আহমেদ হাসান সানি, সাহস মুস্তাফিজ, সুহৃদ স্বাগত, শতাব্দী ভব, অর্ঘ্য, ঘুণপোকা, রাজেশ মজুমদার, অং ও রাশেদ। 

উৎসবটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

উৎসবটি নিয়ে সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘ঢাকা শহরে এরকম একটা উৎসব প্রতি বছর হচ্ছে, এটাই তো বড় ব্যাপার। সঞ্জীব চৌধুরীর নামে হওয়া এরকম উৎসবের অংশ হতে পারা আসলেই ভালো লাগার। কারণ আমরা যারা গান করি, তাদের কাছে তিনি একটা অনুপ্রেরণার জায়গা।’

উৎসবের পোস্টারউল্লেখ্য, ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মাকালকান্দি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন সঞ্জীব চৌধুরী। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। সাংবাদিকতা বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে কাজ করেছেন দেশের প্রথম সারির গণমাধ্যমে। এর পাশাপাশি চালিয়ে গেছেন সংগীত ও সাহিত্য চর্চা। 

সঞ্জীব চৌধুরী মূলত কথাপ্রধান গান করতেন। তার গানে প্রেম-বিরহের পাশাপাশি নাগরিক জীবনের বঞ্চনা, আক্ষেপ ও প্রতিবাদের ছাপ পাওয়া যেতো। নন্দিত এই শিল্পীই বাপ্পা মজুমদারকে নিয়ে গড়ে তুলেছেন জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘দলছুট’। তার কণ্ঠে জনপ্রিয় কয়েকটি গান হলো- ‘আমি তোমাকেই বলে দেবো’, ‘গাড়ি চলে না’, ‘আমাকে অন্ধ করে দিয়েছিলো চাঁদ’, ‘আমি ফিরে পেতে চাই’, ‘চোখটা এতো পোড়ায় কেন’, ‘তোমার ভাঁজ খোলো আনন্দ দেখাও’, ‘বায়স্কোপ’ ইত্যাদি।

২০০৭ সালের ১৯ নভেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সঞ্জীব চৌধুরী।