এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ক্যানসারের সঙ্গে যুদ্ধ করে সংগীতশিল্পী হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল গত বছরের ৩০ জুলাই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান। কিন্তু ‘সেদিনের এক বিকেলে’-খ্যাত এই শিল্পীর কাছের বন্ধু ও ভক্তরা ঠিকই তাকে মনে রেখেছেন।
তাইতো এই শিল্পীর স্মরণে তারা ‘মহাকালের এক বছর’ শিরোনামে একটি স্মরণসভার আয়োজন করেছে। এটি অনুষ্ঠিত হবে ১ আগস্ট বেইলি রোডের মহিলা সমিতির ড. নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে। এদিন তার বন্ধু ও সহকর্মীরা গান-গল্পে এই শিল্পীকে স্মরণ করবেন।
এ বিষয়ে জুয়েলের ভাই মহিবুর রেজা রুবেল বলেন, ‘এটি স্মরণসভার মতো কোন ট্রাডিশনাল আয়োজন নয়। এখানে জুয়েলকে নিয়ে থাকবে আলোচনা,তার কিছু গানও শুনবো। তার বিভিন্ন কাজের ওপর অডিও ভিজ্যুয়াল প্রদর্শিত হবে। থাকবে দোয়ার আয়োজন।’
এই আয়োজনে সংগীত ঐক্য, বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ, সংগীতশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, আঁখি আলমগীর, আলিফ আলাউদ্দিনসহ সংগীতজগতের অনেকেই উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।
বলা প্রয়োজন, ২০১১ সালে জুয়েলের লিভার ক্যানসার ধরা পড়ে। এরপর ফুসফুস এবং হাড়েও সেটি ক্রমশ সংক্রমিত হয়। মাঝে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে এই শিল্পী ক্যানসারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালান দেশ ও বিদেশের চিকিৎসা সহযোগিতায়। অবশেষে ক্যানসারের কাছে হার মানেন এই শিল্পী।
আরও বলা প্রয়োজন, ৯০ দশকের জমজমাট অডিও ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম চমক হিসেবে ধরা দিয়েছেন হাসান আবিদুর রেজা জুয়েল। আইয়ুব বাচ্চুর সুরে প্রথম অ্যালবাম ‘কুয়াশা প্রহর’ প্রকাশ হয় ১৯৯৩ সালে। প্রথম অ্যালবামেই বাজিমাত করেন জুয়েল।
এরপর একে একে প্রকাশিত হয় ‘এক বিকেলে’ (১৯৯৪), ‘আমার আছে অন্ধকার’ (১৯৯৫), ‘একটা মানুষ’ (১৯৯৬), ‘দেখা হবে না’ (১৯৯৭), ‘বেশি কিছু নয়’ (১৯৯৮), ‘বেদনা শুধুই বেদনা’ (১৯৯৯), ‘ফিরতি পথে’ (২০০৩), ‘দরজা খোলা বাড়ি’ (২০০৯) এবং ‘এমন কেন হলো’ (২০১৭)। এছাড়াও বেশ কিছু সিঙ্গেল ও মিশ্র অ্যালবামে গেয়েছেন জুয়েল।
উল্লেখ্য, সংগীতশিল্পী হিসেবে তিনি সর্বাধিক পরিচিত হলেও তার আরও একটি বড় পরিচয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে। পাশাপাশি সঞ্চালনাও করেছেন অনেক অনুষ্ঠানে।