এআই (AI) একটা টুল। মিউজিক ক্রিয়েটররা এই টুলটাকে ব্যবহার করে কিছু অ্যাডভান্টেজ বা কিছু বেনিফিট পেতে পারে। সে বেনিফিটটা হয়তো গান বানানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে অথবা গানটাকে কমপ্লিট করতে হয়তো সময় আগে যেটা লাগতো তার থেকে অনেক কম সময়ে সেটা করে নিতে পারে।
কিন্তু এটা কখনোই একটা হিউম্যান মিউজিক ক্রিয়েটর—তার যে চিন্তাভাবনা যেখান থেকে গানের সৃষ্টি হয়—সেটাকে কখনোই রিপ্লেস করতে পারবে না, কখনোই পারবে না।
কখনোই পারবে না তার মধ্যে অনেকগুলো কারণ আছে। তার মধ্যে একটা ছোট কারণ আমি বুঝিয়ে দেই। সেটা হচ্ছে, এআই—আপনারা হয়তো জানেন যে এআইকে কোনও কাজ করতে গেলে তাকে ট্রেইন করতে হয়। তো ট্রেইন করতে গেলে, তাকে ট্রেইন করে রেডি করতে গেলে তার যেকোনও বিষয়টার অনেক ডেটা তাকে ফিড করতে হয়।
তার মানে যা কিছু—এবার গানের বিষয়টাতে আসি—অর্থাৎ যা কিছু গানের ক্ষেত্রে সুর হয়েছে, লিরিক্স হয়েছে, কম্পোজিশন হয়েছে, অ্যারেঞ্জমেন্ট হয়েছে, যা কিছু হয়েছে সেগুলো যখন অলরেডি রিলিজড থাকে, তখন সেই ডেটাগুলোকে ব্যবহার করে এআইকে ট্রেইন করা হয়।
কিন্তু একজন ক্রিয়েটর, যখন ধরেন আপনি রাত—সে রাত দুটোর সময় তার যখন সুর একটা আসলো যেটা তার কাছে খুব ভালো লাগছে যে সুরটা যেভাবে হচ্ছে, সে তাড়াতাড়ি একটা গিটার নিয়ে বসে পড়লো বা একটা কিবোর্ড নিয়ে বসে পড়লো, বসে গানের সুরটা করলো। পরদিনই লিরিসিস্টকে ফোন করে বলল—এই গানটার ওপরে একটু লিখতে হবে। সে লিখে দিলো বা লিরিসিস্টের লেখা গানের ওপর সে সুর করলো—এই যে সৃষ্টির যে জায়গাটা, যেটা সে তার ভাবনা থেকে, তার এক্সপেরিয়েন্স থেকে নিয়ে সে যেটা করছে, এটা যতক্ষণ না পর্যন্ত রিলিজড হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এআই জানে না এটা কী। কারণ এটা তখনও তার জন্য ডেটা না। আই হোপ আমি বুঝাতে পারছি।
সুতরাং নতুন সৃষ্টির ক্ষেত্রে ‘দ্য মিউজিক ক্রিয়েটরস হু আর হিউম্যান’, তারা সবসময় ‘ওয়ে অ্যাবাভ’ থাকবে। সেটা যেকোনও নতুন গান সৃষ্টির ক্ষেত্রে অবশ্যই। এবং এটা সুরের ক্ষেত্রেও তাই এবং এটা লিরিক্সের ক্ষেত্রেও তাই।
এখানেই এআই শুধু একটা মেশিন। সে সময় বাঁচিয়ে দিতে পারে, সে এটা করতে পারে সেটা করতে পারে, হেল্প করতে পারে প্রসেসটাতে, কিন্তু সে কখনোই অ্যাকচুয়ালি ক্রিয়েটর হতে পারবে না।
আর এই ডেটা নিয়ে ট্রেইন করার ব্যাপারে পৃথিবীতে এখন তোলপাড় হচ্ছে—সেসব আর এক সাবজেক্ট। আমি এটা বললাম ফ্রম ক্রিয়েটরস পয়েন্ট অব ভিউ। আমি হামিন আহমেদ আজকে গিটার নিয়ে বসে একটা গানে আমি কী সোলো বাজাবো এটা এআইর জানার কোনও উপায় নাই।
সুতরাং সে সেটাকে কখনোই সে ধরনের বা সে স্কেলের বা সে কোয়ালিটির কোনও ইনপুট সে দিতে পারবে না কোনও ক্রিয়েটরকে। সে পারবে যেগুলো অলরেডি দেওয়া আছে।
এটাই হচ্ছে একটা বড় পার্থক্য এবং এখানেই ‘হিউম্যান ইজ মাচ সুপিরিয়র দ্যান মেশিন অ্যাট এনি টাইম’। এটা যে যেভাবেই এটা দেখানোর চেষ্টা করুক না কেন, এটা ‘ফিউটাইল অ্যাটেম্প্ট’। এটা একটা নতুন ট্রেন্ড—লাফালাফি, এটা সেটা—যত এখানে আমি একটু অ্যাড করতে চাই সেটা হচ্ছে, যত আজকাল পৃথিবীতে যেটা হয়েছে—মানে আপনার জ্ঞান নাই কিন্তু আপনি এআই ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন—মানে জেনে নিয়ে বলে দিচ্ছেন।
আপনার কোনও স্কিল নাই কিন্তু এআই দিয়ে আপনি একটা গিটার সোলো বানিয়ে বলতে চাচ্ছেন এটা আপনার। আপনার সুর করার কোনও একটা স্কিল নাই, কোনও দিন জীবনে সুরই করেন নাই, এআই দিয়ে সুর করে আপনি বলতে চান আপনি কম্পোজার—এসব ‘ফ্রডুলেন্ট অ্যাক্টিভিটি’ যারা করতে চায় তাদের জন্য এআই ঠিক আছে।
আর যারা টুল হিসেবে ব্যবহার করতে চায় যে, আমার যেটা অলরেডি ক্রিয়েটেড সেটাতে আরও উৎকর্ষ—এই জায়গাটাতে আমি পৌঁছাতে চাই, সেটা যদি করতে চায় ‘দ্যাট’স ফাইন’। ‘দ্যাট ক্যান বি হেল্পফুল’। এটা আমি ‘ক্রিয়েটরস পয়েন্ট অফ ভিউ’ থেকে বললাম।
আরেকটা ছোট বিষয় বলি, সেটা হচ্ছে যে যারা কপিরাইট নিয়ে কাজ করে পৃথিবীতে—মানে ক্রিয়েটরদের রাইটস নিয়ে যারা কাজ করে, তারা কিন্তু অলরেডি এটার বিরুদ্ধে বলতে শুরু করেছে এবং ওয়ার্ল্ড ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানাইজেশন (WIPO), তারাও কিন্তু এখন এটা নিয়ে বসছে যে এআই-এর এই যে ডেটাগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে—অর্থাৎ অন্যের সৃষ্টি ব্যবহার করে এআই-কে ট্রেইন করা হচ্ছে—এটার লিগালিটি কতটুকু?
এবং ফিউচারে এমন হতে পারে যে এআই ব্যবহার করে আপনি যদি কোনও মিউজিক তৈরি করেন, সেটার হয়তো কোনও কপিরাইট প্রটেকশন থাকবে না। অর্থাৎ আপনি বলতে পারবেন না যে এটা আপনার গান, কারণ এটা একটা মেশিন তৈরি করেছে এবং মেশিনটা তৈরি করেছে অন্যের ডেটা বা অন্যের সৃষ্টি চুরি করে বা ব্যবহার করে।
সুতরাং এই যে আইনি জটিলতাগুলো আসছে, এগুলো কিন্তু মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যারা ভাবছেন যে এআই দিয়ে রাতারাতি মিউজিশিয়ান হয়ে যাবেন, তাদের জন্য সামনে বেশ কঠিন সময় আসছে যদি না তারা অরিজিনাল কোনও কিছু সৃষ্টি করতে পারেন। এটাই আমার বলার ছিল।
লেখক পরিচিতি: বাংলাদেশের প্রখ্যাত রক ব্যান্ড 'মাইলস'-এর লিড গিটারিস্ট ও গায়ক এবং বর্তমানে দেশের সঙ্গীতশিল্পীদের মেধাস্বত্ব রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান BLCPS-এর সিইও। এ ছাড়া তিনি বর্তমানে বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা)-এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।