ওবামার পররাষ্ট্রনীতিকে ‘পুরোপুরি বিপর্যয়’ বললেন ট্রাম্প

ট্রাম্পবিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতিকে ‘পুরোপুরি  বিপর্যয়’ উল্লেখ করে এর নিন্দা জানিয়েছেন রিপাবলিকানদের হয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাশী ডোনাল্ড ট্রাম্প। মূল্য না নিয়ে কোনও কোনও দেশকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়া এবং রাশিয়া-চীনের সঙ্গে বৈরিতার প্রশ্নে ওবামার সমালোচনা করেন তিনি।
বুধবার ওয়াশিংটনের এক হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নিজের পরিকল্পিত পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রেসিডেন্ট হিসেবে নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ পররাষ্ট্রনীতি প্রতিষ্ঠা করবেন।
আরও পড়ুন: কলোরাডোর মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ট্রাম্প
ট্রাম্প আশ্বস্ত করেন, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তার প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকেই প্রাধান্য দেবে। তিনি বলেন, ‘যেসব দেশকে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়ে থাকে সেসব দেশকে অবশ্যই মূ্ল্য পরিশোধ করতে হবে। যদি তারা মূল্য পরিশোধ না করে তবে যুক্তরাষ্ট্রের তাদেরকে প্রতিরক্ষা সহায়তা দেওয়ার দরকার নেই।’ এক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার পররাষ্ট্রনীতিকে 'অবিবেচক ও উদ্দেশ্যহীন' বলে সমালোচনা করেন তিনি।
এর আগে গত মাসে নিউ ইয়র্ক টাইমসে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জাপানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘ওরা যখন হামলার শিকার হয় তখন যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দেয় কিন্তু আমরা যখন হামলার শিকার হই তখন ওরা আমাদের সুরক্ষা দেয় না। এটিই হলো সত্যিকারের সমস্যা।’
আরও পড়ুন: নিজ পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত বিবরণ হাজির করলেন ট্রাম্প
বুধবার নিজের পররাষ্ট্রনীতির বিস্তারিত তুলে ধরেন ট্রাম্প
রাশিয়া আর চীনের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতা নিরসনের আশ্বাস দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আলাপের মাধ্যমে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খুঁজে বের করার চেষ্টা করবেন। ট্রাম্প বলেন, ‘কেউ কেউ বলে থাকেন রাশিয়া কোনওভাবেই যৌক্তিক-বিবেচনাপ্রসূত ও ন্যাঙসঙ্গত অবস্থান নিতে পারবে না। তবে আমাকে এই ভাষ্যের সত্যতা খুঁজে দেখতে হবে।’  

আরও পড়ুন:ভাবমূর্তি বদলে ফেলছেন ট্রাম্প!

রাশিয়ার প্রসঙ্গে খানিকটা বিস্তারিত আলোচনা করলেও চীনের সঙ্গে কিভাবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবেন তা জানাননি ট্রাম্প।

নির্বাচনী প্রচারণায় নামার পর থেকেই বিভিন্ন বিষয়ে আগ্রাসী মন্তব্য করে সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এজন্য নিজের দলের ভেতরেও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। তবে, সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, পররাষ্ট্রবিষয়ক সম্পর্ক নিয়ে নিজের প্রথম এই বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আগের চেয়ে কৌশলী ও সংযত মনে হয়েছে। লিখিত ভাষ্যের বাইরে কোন কথা বলেননি তিনি। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/বিএ/