আলেপ্পো পর্যন্ত বিস্তৃত হলো সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর আংশিক অস্ত্রবিরতি

আলেপ্পোতে দুই সপ্তাহের সহিংসতায় প্রায় ৩শ মানুষের মৃত্যু হয়েছেযুক্তরাষ্ট্র আর রাশিয়ার চাপের মুখে সিরিয়ায় আংশিকভাবে ঘোষিত অস্ত্রবিরতিকে অবশেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত আলেপ্পো নগরী পর্যন্ত বিস্তৃত করেছে দেশটির সরকারি বাহিনী। স্থানীয় সময় বুধবার রাত ১টা থেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য এ অস্ত্রবিরতি বহাল থাকবে বলে সরকারি বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
গত শনিবার (৩০ এপ্রিল) সিরিয়ার অন্যতম যুদ্ধকবলিত শহর আলেপ্পোকে বাদ দিয়েই আংশিক ও সাময়িক অস্ত্রবিরতি কার্যকর শুরু করে দেশটির সরকারি বাহিনী। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকাগুলো থেকে বেসামরিক বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই এ অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করার কথা জানানো হয়। বলা হয়, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে দামেস্কে ২৪ ঘণ্টা আর উপকূলীয় লাটাকিয়া প্রদেশে তিনদিন তারা যুদ্ধ থেকে বিরত থাকবে। তবে যুদ্ধবিধ্বস্ত আলেপ্পোকে বাদ দিয়ে ডাকা এ অস্ত্রবিরতির মধ্য দিয়ে আদৌ দুই পক্ষের মধ্যে ভন্ডুল হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনা নতুন করে শুরু করা যাবে কিনা সে ব্যাপারে সংশয় তৈরি হয়। তাছাড়া আংশিক এ অস্ত্রবিরতির মধ্যে আলেপ্পোতে সহিংসতা বাড়তে থাকায় সিরিয়ার সরকারি বাহিনীর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনার মুখে পড়ে।
এমন অবস্থায় আলেপ্পোতেও অস্ত্রবিরতি কার্যকর হতে পারে বলে আভাস দেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেন, আলেপ্পোতে অস্ত্রবিরতি কার্যকরের জন্য রাশিয়া জাতিসংঘ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
আর এরপর বুধবার রাত থেকে আলেপ্পোতেও অস্ত্রবিরতি কার্যকরের ঘোষণা দিলো সিরিয়ার সরকারি বাহিনী। গত দুই সপ্তাহে আলেপ্পোতে সহিংসতায় প্রায় ৩শ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এর আগে, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যস্থতায় সিরিয়ায় একটি অস্ত্রবিরতি কার্যকরে সম্মত হয় দুই বিবাদমান পক্ষ। তবে সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে দেশটির সরকার ব্যাপকভাবে এ অস্ত্রবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে বলে অভিযোগ করেন বিদ্রোহীরা। সরকারও বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের পাল্টা অভিযোগ আনে। সরকারের বিরুদ্ধে অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে এবং রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইস্যু গুরুত্ব সহকারে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে শান্তি আলোচনায় অংশগ্রহণ স্থগিত করে প্রধান বিরোধী জোট। এমন অবস্থায় জেনেভায় দুই পক্ষের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা নিয়ে সংকট দেখা দেয়।

উল্লেখ্য, সিরিয়ায় গত ৫ বছর ধরে চলমান গৃহযুদ্ধে প্রাণ হারিয়েছে আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ। লাখ লাখ মানুষ হয়েছেন ঘরহারা। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/