কানাডার আলবার্টা প্রদেশের দাবানল দেশটির অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষত পার্শ্ববর্তী সাসকাচুয়ান প্রদেশের জন্য তা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। আলবার্টার প্রাদেশিক সরকার প্রধান রাচেল নোটলি মন্তব্য করেছেন, এই আগুনকে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো উপায় নেই। বরিবার বিবিসির খবরে এইসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে কয়েকশ দমকলকর্মী। তারপরও শুষ্ক, গরম ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন আরো ছড়িয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা। প্রবল বাতাস ও শুষ্ক বনভূমির কারণে ছড়িয়ে পড়া দাবানল উত্তরপূর্বের সাসকাচুয়ান প্রদেশের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
আরও পড়ুন: ‘আক্রান্ত না হলে’ পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না উ. কোরিয়া
আলবার্টার ফোর্ট ম্যাকমুরে শহর দাবানলের কবলে চলে যাওয়ায় শহরটির ৮৮ হাজার বাসিন্দার অধিকাংশকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে এখনো শহরটির হাজারখানেক বাসিন্দা শহরের উত্তরদিকে আটকা পড়ে আছেন। প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে রাচেল নোটলি জানান, শনিবারের মধ্যে শহরটির সব বাসিন্দাকে সরিয়ে সরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও উত্তরের শিবিরটিতে কিছু লোক রয়ে গেছেন। তাদের সরিয়ে নেওয়া জন্য রোববার পর্যন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে হবে।
দাবানলটি এখন চার লাখ ৯৫ হাজার একর এলাকায় ছড়িয়ে আছে। শনিবার রাতে আলবার্টার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, আগুনের অবস্থা ভয়াবহ পর্যায়ে রয়েছে। রবিবার ও সোমবার বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবাহাওয়া বিভাগ।
আরও পড়ুন: অর্থনীতির সমীকরণকে সন্ত্রাসী চিহ্ন ভাবলেন বিমানযাত্রী, বিড়ম্বনায় অধ্যাপক
গত সপ্তাহের প্রথমদিকে ফোর্ট ম্যাকমুরে শহরে এই দাবানল ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলে অধিকাংশ বাসিন্দা শহরের দক্ষিণ দিকে সরে যান। তবে কিছু লোক উত্তর দিকে চলে যায়। এরা শহরের বাইরে একটি শ্রমশিবিরে আশ্রয় নিয়ে আছেন।
বাধ্যতামূলকভাবে সবাইকে শহর ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া সত্বেও এক বৃদ্ধ ও পাঁচজনের এক পরিবারকে ফোর্ট ম্যাকমুরেতে পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, শহরটির প্রায় এক হাজার ৬০০ ঘরবাড়ি ভস্মীভূত হলেও কেউ হতাহত হয়নি। সূত্র: বিবিসি
/বিএ/