মিয়ানমারের নিপীড়িত সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ‘রোহিঙ্গা’ না বলতে দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। তবে তার এই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেছেন মিয়ানমারে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত। মঙ্গলবার রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েল বলেছেন, তিনি রোহিঙ্গা শব্দটিই ব্যবহার করবেন। নোবেলজয়ী সু চি’র নিয়ন্ত্রিত প্রশাসনের আপত্তি সত্ত্বেও দেশটির সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়কে এই নামেই অভিহিত করবে ওয়াশিংটন।
মিয়ানমারে নবনিযুক্ত এই মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, 'আমাদের বৈশ্বিক ও আন্তর্জাতিক অবস্থান এবং নীতি হলো বিশ্বের যে সম্প্রদায় নিজেদের যে নামে ডাকে সেই নামেই তাদের ডাকা। আমরা এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ওয়াশিংটনের আগে থেকেই এই নীতি অনুসরণ করে আসছে এবং সেটা এখনও বিদ্যমান রয়েছে। এটা কোনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নয়। এটা একটা সাধারণ অনুশীলন।'
বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অফিসের মুখপাত্র জ তাই।
দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের পর সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশলাল লিগ ফর ডেমোক্র্যাসি (এনএলডি) ঐতিহাসিক নির্বাচনে জয় লাভ করে সরকার গঠনের পর স্কট মার্সেল মিয়ানমারে মার্কিন দূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহার করতে সুচি নিজেই তাকে নিষেধ করেছেন কিনা জানতে চাইলে মার্সিয়েল কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, এটা ব্যক্তিগত কূটনৈতিক আলাপচারিতা।
মিয়ানমারের ১১ লাখ রোহিঙ্গার অধিকাংশই বসবাস করেন দেশটির উত্তর পশ্চিমের প্রত্যন্ত এলাকায়। তবে দেশটির বর্তমান ক্ষমতাসীন দল এনএলডি’র সমর্থকসহ মিয়ানমারের বিপুল সংখ্যক বৌদ্ধরা মনে করেন, রোহিঙ্গারা প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছে। এমন বাস্তবতায় প্রায় অবরুদ্ধ রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বললে এনএলডি নেত্রী সু চি’র জনসমর্থন কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। যদিও কয়েক শতাব্দী ধরে তারা দেশটিতে বাস করছেন। প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে নাগরিকত্ব ও মৌলিক সুবিধা থেকেও বঞ্চিত রেখেছে মিয়ানমার সরকার। বৌদ্ধদের সঙ্গে সংঘাতের ফলে গৃহহীন হয়েছেন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা মুসলিম। সংঘাতপীড়িত পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন প্রদেশের দারিদ্রপীড়িত ক্যাম্পগুলোতে বসবাস করেন অধিকাংশ রোহিঙ্গারা।
গত সপ্তাহে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয়, তারা বিতর্কিত রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারে বিরত থাকতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত স্কট মার্সিয়েলকে আহ্বান জানিয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন স্বয়ং অং সান সু চি। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।
/এমপি/বিএ/