সেনাপ্রধানের সঙ্গে নওয়াজের কথোপকথনের অডিও ফাঁস

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সঙ্গে দেশটির সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফের একটি একান্ত বৈঠকের অডিও ফুটেজ ফাঁস হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে গত মঙ্গলবার ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ফুটেজটি বিভিন্ন সংবাদভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হলে পাকিস্তানজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। তৈরি হয় রহস্যের। কারণ সাধারণভাবে এমন উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের অডিও ফুটেজ পাওয়ার সুযোগ নেই।

ফাঁস হওয়া ফুটেজে বলতে শোনা যায়, নওয়াজ শরিফ পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ শরিফকে বলছেন, তারিখ দেওয়া হয়েছে। তবে ফুটেজে জেনারেল রাহিলের উত্তরের আওয়াজ ভালোভাবে শোনা যাচ্ছিল না। একজন টেলিভিশন সাংবাদিক জানান, জেনারেল রাহিল প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন, ‘এই তারিখের আগেই আপনার সেখানে যাওয়া উচিত।’

সাধারণত রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের জন্য এ ধরনের উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক রেকর্ড করা হয়। তবে এতে অডিও অপশন বন্ধ রাখা হয়। অর্থাৎ, শুধু বৈঠকের দৃশ্য দেখা যায়, তবে  কোনও কথোপকথন শোনা যায় না।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ

পাকিস্তান টেলিভিশন (পিটিভি)-এর সাবেক একজন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মতে, স্ট্যান্ডার্ড প্রটোকল অনুযায়ী দৃশ্যধারণের সময়ে অডিও বন্ধ থাকবে। তবে মাঝে মাঝে ক্যামেরার মাইক্রোফোনে আওয়াজ চলে আসে। পিটিভি’তে এ ধরনের ফুটেজ সম্প্রচারের সময়েও আলাদা করে সাউন্ড অপশন বন্ধ রাখা হয়।

তিনি বলেন, এ ফুটেজটি পিটিভি’র একজন ক্যামেরাম্যান ধারণ করেছেন। অথবা পিটিভি থেকে এই সংবাদ সংগ্রহের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বাসায় যাকে পাঠানো হয়েছিল তিনি এ কাজ করেছেন। বাট অডিও রেকর্ড হয়নি।

অডিওটি এমন এক সময়ে ফাঁস হয়েছে যখন অজ্ঞাত সূত্রের বরাত দিয়ে সাংবাদিকরা বলছিলেন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান পানামা পেপারস বিতর্কের অবসান ঘটাতে প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র বলছে, সেনাপ্রধান জেনারেল রাহিল শরিফ মনে করেন, পানামা-বিতর্ক দেশে অস্থিরতা ও নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করছে।

৩ এপ্রিল ২০১৬ তারিখে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অব ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্টস (আইসিআইজে) পানামার আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মোস্যাক ফনসেকার গোপন নথি ফাঁস করে। সে সময় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দুই ছেলে হাসান ও হুসেন শরিফ এবং মেয়ে মরিয়মের নাম ছিল। তারা ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডের অফশোর কোম্পানির নামে থাকা লন্ডনের চারটি ফ্ল্যাটের বিপরীতে ডাচ-ব্যাংক থেকে ৭০ লাখ ডলার ঋণ নেন বলে প্রকাশিত নথিতে উঠে আসে। সে সময় থেকেই পাকিস্তানের বিরোধী দলগুলো নওয়াজের পদত্যাগের দাবিতে সরব হয়। কিন্তু নওয়াজের পরিবারের তরফ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।

আইসিআইজে তাদের গোপন নথি দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ করে গত সোমবার। সেই তালিকায় পাকিস্তানের ২৫৯ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম উঠে আসে।

মঙ্গলবারের বৈঠক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। বৈঠকে পানামা নিয়ে রাহিল শরিফের আহ্বানের বিষয়ে গণমাধ্যমের সংবাদের বিষয়টি উল্লেখ না করে গণমাধ্যমের প্রতি ‘গুজবের ওপর ভিত্তি করে সংবাদ না প্রকাশ’ করার জন্য আহ্বান জানানো হয়। সূত্র: ডন।

/এমপি/