ক’দিন আগেই এ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তদন্তদলের সদস্য সিআইডির অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক শাহ আলমের বরাত দিয়ে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, তিন মাস আগে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ‘রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেম’ এর সঙ্গে সুইফটকে যুক্ত করে যান তাদের টেকনিশিয়ানরা। 'ওই সময়ই বাংলাদেশ ব্যাংকের ঝুঁকি অনেক বেশি বেড়ে গেছে, আমরা বেশ কিছু লুপহোল খুঁজে পেয়েছি।' রয়টার্সকে বলেন তিনি। এবার সুইফটের সেই টেকনিশিয়ান দলটিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাইল বাংলাদেশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি।
আরও পড়ুন: হ্যাকারদের কাজ সহজ করে দিয়েছিল সুইফট নিজেই: সিআইডি
উল্লেখ্য, রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে স্থানীয় ব্যাংকগুলো ও কেন্দ্রীয় ব্যংক বড় অংকের লেনদেনের বিষয়গুলো নিজেদের মধ্যে মেটাতে পারে। গতবছর অক্টোবরে বাংলাদেশ ব্যাংকে ওই সিস্টেম বসানো হয়। পরে তা যুক্ত করা হয় সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে। এরপর ফেব্রুয়ারিতে হ্যাকাররা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশের এক বিলিয়ন ডলার বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে সরিয়ে নিতে ভুয়া বার্তা পাঠায় সুইফট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে। ঢাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভার ব্যবহার করেই বার্তা পাঠানোর কাজটি করা হয়েছিল বলে এখন পর্যন্ত তদন্তকারীদের ধারণা। ফেডারেল রিজার্ভের পাঠানো ৩৫টি অর্থ স্থানান্তরের আদেশের মধ্যে অধিকাংশ আটকে গেলেও চারটি আদেশে ৮টি কোটি ১০ লাখ ডলার ফিলিপাইনে এবং অপর একটি আদেশে দুই কোটি ডলার শ্রীলঙ্কার একটি ব্যাংককে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বানান ভুলের কারণে সন্দেহ হওয়ায় শ্রীলঙ্কায় যাওয়া টাকা আর অ্যাকাউন্টে জমা হয়নি। কিন্তু ফিলিপাইনে যাওয়া অর্থের পুরোটাই স্থানীয় মুদ্রায় বদলে ফেলা হয়, এর একটি বড় অংশ চলে যায় ক্যাসিনোতে। বাকি টাকার খোঁজ এখনও মেলেনি।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী সপ্তাহে সুইফট টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছে সিআইডি। গত সোমবার ই-মেইলের মাধ্যমে সুইফটের কাছে টেকনিশিয়ানদের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চাওয়া হয়। আরও পড়ুন: সার্ভার খতিয়ে দেখতে ঢাকায় সুইফটের শীর্ষ কর্মকর্তারা
তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিআইডির একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেন, ‘ওই টেকনিশিয়ানদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কিছু নির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এর বিপরীতে তারা আত্মপক্ষ সমর্থন করতে পারেন। হতে পারে তারা সুইফট সম্পর্কে না জেনেই নিজেদের ব্যক্তিগত সক্ষমতা অনুযায়ী কাজ করেছেন।’ আর বাংলাদেশের সূত্র উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানায়, সুইফট থেকে আসা টেকনিশিয়ানদের মধ্যে কয়েকজন ছিলেন চুক্তিভিত্তিক কর্মী। তবে সিআইডির ওই সূত্র টেকনিশিয়ানদের পরিচয় ও জাতীয়তা সম্পর্কে কিছু জানাননি।
এদিকে সুইফটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে ঢাকায় আসার আমন্ত্রণ জানানোর ব্যাপারে সিআইডি সূত্র যে তথ্য দিয়েছেন সে ব্যাপারে সুইফটের মুখপাত্র নাতাশা ডি তেরান কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। সূত্র: রয়টার্স
/এফইউ/বিএ/