নাইজেরিয়াভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন বোকো হারামের হাতে অপহৃত ছাত্রীদের মধ্যে একমাত্র আমিনা আলি দারশা কাইকিকেই ফিরে পেয়েছে নাইজেরিয়া। সে কারণেই তাকে নিয়ে আনন্দে আত্মহারা গ্রামবাসী ও স্বজনেরা। আমিনাকে ফিরে পাওয়ার পর অপহৃত বাকী ছাত্রীরাও উদ্ধার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তারা। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো খবরটি নিশ্চিত করেছে।
দুই বছর আগে ২০১৪ সালের এপ্রিলে ইসলামি সশস্ত্র সংগঠন বোকো হারাম পূর্ব চিবকের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২১৯ ছাত্রীকে অপহরণ করে। মঙ্গলবার সেই ছাত্রীদের একজন আমিনা আলি দারশা কাইকিকে একটি শিশুকন্যাসহ ক্যামেরুন সীমান্তের নিকটবর্তী সামবিসা অরণ্য থেকে উদ্ধার করা হয়। সেনাবাহিনীর পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত নজরদারির বাহিনী সিভিলিয়ান টাস্ক ফোর্স তাকে উদ্ধার করে। আমিনাকে তার চার মাসের শিশু সন্তানসহ বরনো রাজ্যের রাজধানী আবুজায় পাঠিয়ে দেয় নাইজেরিয়ান এয়ারফোর্স।
আমিনা বোকো হারামের সদস্যদের কাছে বন্দি থাকাকালীন সময়েই আমিনার বাবা মারা যান। আমিনার বড় ভাই মাইনা আলি ছাড়া বাকি ভাইবোনরা অনেক ছোট। মাইনা অনেক চেষ্টা করেও তারা আমিনাকে খুঁজে পাননি এই দুই বছরে। মাইনা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোকে জানান, আমিনা প্রথমে উদ্ধারকারীদের দেখেও ভয় পেয়ে লুকিয়ে যায়। পরে ওই উদ্ধারকারীরাই তাকে তার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসে।
তিনি আরও জানান, আমিনাকে ফিরে পেয়ে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে গেছেন।
আরও পড়ুন: নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করবেন সেই আমিনা
শুধু পরিবারের সদস্যরাই নয়, কাছাকাছি গ্রাম ও শহর থেকেও আমিনাকে দেখতে আসছে অনেক লোকজন। আমিনার সঙ্গে অপহৃত হওয়া অন্য ছাত্রীদের পরিবার ও অভিভাবকরাও আমিনাকে দেখে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন। ধাপে ধাপে অপহৃত বাকি মেয়েদেরও উদ্ধার করা যাবে বলে ধারণা করছেন তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে অপহৃত হওয়া ছাত্রীদের মধ্যে আমিনাই প্রথম যাকে উদ্ধার করা গেছে। এই ছাত্রীদের অভিভাবকরা অপহরণের পর থেকেই ‘ব্রিং ব্যাক আওয়ার গার্লস’ প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান
/ইউআর/বিএ/