১৯৬৭ সালের পর এই প্রথম বাংলায় কোনও শাসক দল একা লড়াই করল। ইতিহাস গড়ে ২১৭ আসন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরলেন মমতা। গত বার কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে দলের ঝুলিতে ঢুকেছিল ১৮৪টি আসন। এ বার একক লড়াইতেই সেই সংখ্যাকে তৃণমূল ছাপিয়ে গেল। কংগ্রেস-তৃণণূল মিলে যত আসন জিতেছিল ২০১১ সালে, এ বার তৃণমূল একাই সেই সংখ্যার কাছাকাছি। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতায় ফিরে মানুষকে ধন্যবাদ দিয়েছেন মমতা। মাসব্যাপী রাজ্যজুড়ে বিজয়োৎসব পালনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
মমতা বলেন, গত ২ বছর ধরে সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। তার দাবি, ভোটের আগে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দুর্নীতির ইস্যু তোলা হয়। তার প্রতি জনগণের রায়ের মধ্য দিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ খারিজ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন তিনি। যারা দুর্নীতির ইস্যু তুলেছেন তাদের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন মমতা।
বামেদের সঙ্গে জোট করাটা কংগ্রেসের রাজনৈতিক ভুল বলে উল্লেখ করেছেন মমতা। একইসঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করার জন্য সিপিএমও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। মমতা বলেন, ‘এই ভোটের ফলে জাতীয় ক্ষেত্রে কংগ্রেস ও রাজ্যে সিপিএমের ক্ষতি হয়েছে।’
মমতা বলেছেন, বিজেপির সঙ্গে মতাদর্শগত ফারাক রয়েছে। তবে বিজেপিকে ইস্যুভিত্তিক সমর্থনে আপত্তি নেই।
মমতা জানান, আগামীকাল (শুক্রবার) তৃণমূলের নবনির্বাচিত পরিষদীয় দলের বৈঠক হবে। বৈঠকে নির্বাচিত হবেন পরিষদীয় দলনেতা। এদিনই রাজ্যপালের কাছে সরকার গঠনের দাবি জানানো হবে। এরপর ২৭ মে শপথ নেবে নয়া মন্ত্রিসভা। ওই দিন দ্বিতীয় বার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি।
পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলের প্রাথমিক প্রবণতায় স্পষ্ট হয়ে গেল, প্রত্যাশামতোই আসামে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। তামিলনাড়ুতে দ্বিতীয় বারের জন্য সরকার গঠন করতে চলেছে জয়ললিতার নেতৃত্বাধীন এআইডিএমকে। কেরালায় সরকার গঠন করছে সিপিএমের নেতৃত্বাধীন এলডিএফ। তবে, পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাথমিক ফল বুঝিয়ে দিল, কংগ্রেসের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে সিপিএমের সঙ্গে জোট বেঁধে ভরাডুবি ছাড়াও কেরালায়ও ক্ষমতাচ্যুত হতে চলেছে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ। তামিলনাড়ুতে জোটসঙ্গী ডিএমকে-র সঙ্গেই ভরাডুবি হয়েছে কংগ্রেসের।
এরই পাশাপাশি পুড়ুচেরিতে কংগ্রেস-ডিএমকে জোট এআইএনআরসি-র থেকে এখনও একটি আসনে পিছিয়ে রয়েছে। সূত্র: এবিপি আনন্দ, আনন্দবাজার
/এফইউ/