১। গ্রামে দুই টাকা কেজি দরে চাল, কন্যাশ্রী প্রকল্পে ছাত্রীদের টাকা, সবুজ সাথী প্রকল্পে স্কুলে যেতে সাইকেল।
২। গ্রামে পাকা সড়ক, গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন ও পানির জন্য সজলধারা প্রকল্প।
৩। শহর ও শহরাঞ্চলের দলিতদের জন্য পৌরসভায় একশ দিনের কাজ।
৪। শহর ও শহরাঞ্চলের বেকার যুব সম্প্রদায়কে ঢালাও অটোরিকশার লাইসেন্স, নির্মাণশিল্পে কাজে লাগানো বা তাতে ইমারতি দ্রব্য সরবরাহের সুযোগ পাইয়ে দেওয়া।
৫। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে গত পাঁচ বছরে কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ--- পশ্চিমবঙ্গের উত্তর থেকে দক্ষিণ সব জেলার র্সবত্র চষে বেড়ানো।
৬। কোন ব্লকের কোন মৌজার কোন পাকা রাস্তা তৈরির কাজ অসমাপ্ত, সেই খবরও রাখা। পরে প্রশাসনিক মিটিংয়ে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসারের (বিডিও) কাছে কৈফিয়ত তলব।
৭। ধারে ও ভারে প্রতিপক্ষের যে কোনও নেতা-নেত্রীর চেয়ে অনেকটাই এগিয়ে মমতা, তাঁকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো বিরোধী মুখ খুঁজে পাওয়া যায়নি।
৮। নিজের দল তৃণমূল কংগ্রেসে দক্ষ সংগঠক হিসেবে শোভন চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, শুভেন্দু অধিকারী, অনুব্রত মণ্ডল রবীন্দ্রনাথ ঘোষ, অরূপ রায়ের মতো কয়েকজনকে তুলে আনা।
৯। কেবল ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় ভরসা না রেখে প্রত্যন্ত গ্রাম, মাঠেঘাট এবং ভোটারদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা।
১০। সারদা-নারদার মতো আর্থিক কেলেঙ্কারি ভোটারদের একাংশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে আঁচ করে নিজে ক্ষমা চাওয়া এবং ঘোষণা করা যে, ২৯৪টি কেন্দ্রে তিনিই প্রার্থী।
১১। বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসের জোটকে সুবিধাবাদী জোট হিসেবে গণ্য করে মানুষের প্রত্যাখ্যান নিশ্চিত করা।
১২। প্রয়োজনে চুরি ও ঘুষের অপবাদ গায়ে লাগা তৃণমূলকেও আর এক বার সুযোগ দেওয়া ভাল, কিন্তু ৩৪ বছরের অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে সিপিএম-কে আর কোনও ভাবেই নয়; এই বোধ ভোটারদের মধ্যে তৈরী করা।
অতএব, সকাল থেকে ঠা ঠা রোদে ভোটারদের লাইনে দাঁড়াতে দেখে যারা ভেবেছিলেন, সরকারের বিরুদ্ধে ভোট পড়ছে, তাদের বোকা বনতে হল। ভোর থেকে অতি উৎসাহে ভোটকেন্দ্রে ভোটার লাইন দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতাকেই পুনরায় মুখ্যমন্ত্রী করতে। পশ্চিমবঙ্গে ছ’দফার (কার্যত সাত দফা) ভোট শুরু হয়েছিল ৪ এপ্রিল। আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ফের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছেন, সেই আভাস ‘বাংলা ট্রিবিউন’ দিয়েছিল ফেব্রুয়ারি মাসে।
আরও পড়ুন: গোয়েন্দা-রিপোর্টে মমতা ২০০-র কাছাকাছি আসন পেয়ে ক্ষমতায়
/বিএ/