বিবিসির খবরে দ্য সিজিটি ইউনিয়নের (জেনারেল কনফেডারেশন অব মেম্বারস) বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, দেশটির ১৯ টি পরমাণু কেন্দ্রের মধ্যে ১৬টি তাদের কাজ একদিন বন্ধ রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভের ডাকও দিয়েছে সিজিটি ইউনিয়ন।
এদিকে একদিন কাজ বন্ধ রাখার ফলে দেশের কাজে কি প্রভাব পরবে সে বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হয়নি ফ্রান্সের রাষ্ট্রীয় শক্তি বিষয়ক কোম্পানি 'ইলেক্ট্রেসিটি দে ফ্রান্স'। এই সকল পরমাণু প্লান্ট থেকে দেশটির ৭৫ ভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। ফরাসি সরকার জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা দেশের তেল শোধনাগারের সামনে অবরোধ চালু রাখায় কৌশলগত ভাবে কিছু তেল মজুদে রাখছে সরকার। এভাবেই তারা কলকারখানা চালু রাখার চেষ্টা করছে।
এদিকে আন্দোলনের কারণে দেশটির ৮টি তেল শোধনাগারের মধ্যে ৬টি বন্ধ রয়েছে। মঙ্গলবার একটি তেল শোধনাগারের সামনে আন্দোলনকারীরা অবরোধ শুরু করলে স্থানীয় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর আরো তীব্র আন্দোলন শুরু হয়। বিবিসির প্রতিবেদন অনুসারে আন্দোলনকারীরা আমদানি করা তেল খালাস করতে দিচ্ছে না বন্দর থেকে। দেশটির যোগাযোগ মন্ত্রী অ্যালেইন ভিদালিস বলেন, প্যারিসের ৪০ ভাগ পেট্রোল স্টেশন এখন তেল সরবরাহ করতে হিমশিম খাচ্ছে। সেই সঙ্গে তেল পাওয়া যাবে না এই ভয় থেকে মানুষ অতিরিক্ত তেল মজুদ করে রাখছে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদ বুধবার এক বিবৃতিতে দাবি করেন, ফ্রান্সের মানুষ ও অর্থনীতির জন্য কোন কিছু সরবরাহ যেন বন্ধ না হয়, তার ব্যবস্থা করেছে সরকার। বর্তমানে ফ্রান্সের কাছে চার মাস চলার মত তেল মজুদ আছে।
উল্লেখ্য, ভোট ছাড়াই কেবলমাত্র সাংবিধানিক নীতিকে অবলম্বন করে ফরাসি পার্লামেন্টে শ্রমআইন সংস্কার করা হয়। সংস্কারকৃত শ্রমআইনের কারণে এখন থেকে সহজেই নিয়োগ ও ছাঁটাই করতে পারবে মালিকরা। এ নিয়ে তাদেরকে তেমন কোনও ঝক্কি ঝামেলা পোহাতে হবে না। ফরাসি সরকারের দাবি, এর মধ্য দিয়ে তাদের কর্মসংস্থান খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে তা মানছেন না শ্রমিকরা। তারা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে তাদের জীবিকাকে আরও অনিশ্চিত করে তোলা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি, গার্ডিয়ান।
/বিএ/