থাইল্যান্ডের সেই বৌদ্ধ মন্দিরটি থেকে ৪০টি মৃত বাঘশাবক উদ্ধার

সোমবার থেকে চলা অভিযানে বাঘের বাচ্চাগুলো উদ্ধার হয়থাইল্যান্ডের ওয়াত ফা লুয়াং নামের বিতর্কিত সে বৌদ্ধ মন্দিরের হিমাগার থেকে অন্তত চল্লিশটি বাঘের বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তাদের চলমান অভিযানে মৃতদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
সম্প্রতি কাঞ্চনাবুরি প্রদেশের ওই মন্দিরে ১৩৭টি বাঘ আটক থাকার খবর পাওয়া যায়। ওই মন্দিরের ভিক্ষুরা বাঘের অবৈধ প্রজনন এবং বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সোমবার মন্দিরটি থেকে সকল জ্যান্ত বাঘ সরিয়ে নিতে অভিযান শুরু করে পুলিশ। বেশ কয়েকটি বাঘকে সোমবারই সরিয়ে নেয়া হয়। পরে ৪০টি বাঘের বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। পুরো সপ্তাহ জুড়েই এ অভিযান চলার কথা রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, মৃত বাঘের বাচ্চাগুলোকে সারিবদ্ধভাবে মেঝেতে শুইয়ে রাখা হয়েছে।
২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসেও ওই বৌদ্ধমন্দিরে অভিযান চালিয়েছিল বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষ। তখন সেখান থেকে শিয়াল, ভালুক ও ধনেশ পাখি সরিয়ে নেয়া হয়েছিল। সম্প্রতি মন্দিরটি চিড়িয়াখানা পরিচালনার পরিকল্পনা করেছিল। পরে সরকার তা নিষিদ্ধ করে।
সম্প্রতি চিড়িয়াখানা পরিচালনারও পরিকল্পনা করেছিল মন্দির কর্তৃপক্ষ
পুলিশ কর্মকর্তা বান্ধিথ মিউংসুখুম ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বাঘের মৃতদেহ পাওয়ার পর বন্যপ্রাণীবিষয়ক কর্মকর্তারা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ দায়ের করতে পারেন। বাঘগুলো যখন মারা যায় তখন এগুলোর বয়স এক-দুইদিন ছিল।’

তবে কতদিন আগে বাঘগুলো মারা গেছে সে ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি তিনি।

বাঘের হাড় ও শরীরের বিভিন্ন অংশ চীনের প্রাচীনধারার ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিভিন্ন সময়ে তাই বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিরুদ্ধে বাঘ পাচারের অভিযোগ ওঠে। তবে বরাবরই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন তারা। ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে মন্দির কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিলেন, বাঘের বাচ্চার মৃত্যু হার তুলনামূলকভাবে কম। বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ‘আগে বাঘের বাচ্চার মৃতদেহের সৎকার করা হলেও ২০১০ সালে নীতিমালায় পরিবর্তন নিয়ে আসা হয়। বাঘের বাচ্চা পাচার নিয়ে যে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে বাঘের বাচ্চার মৃতদেহ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়।’

ওয়াত ফা লুয়াং তা বুয়া টাইগার টেম্পল নামের এই মন্দিরে পর্যটকেরা অর্থের বিনিময়ে বাঘসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী দেখতে পারতেন, ছবিও তুলতে পারতেন, এমনকি সেগুলোকে খাবারও খেতে দিতে পারতেন। তবে পুলিশি অভিযান শুরুর পর মন্দিরে সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি

/এফইউ/