২০১৪ সালের জুলাইয়ে ২৯৮ জন আরোহী নিয়ে আমস্টারডাম থেকে কুয়ালালামপুর যাওয়ার পথে ইউক্রেনে এমএইচ ১৭ ফ্লাইটটি বিধ্বস্ত হয়। যে জায়গায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে সেটি ইউক্রেন সরকার ও দেশটিরন রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্যকার বিবাদপূর্ণ এলাকা। গত বছর নেদারল্যান্ডসের তদন্তকারীদের দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার তৈরি বাক মিসাইলের মাধ্যমে বিমানটি ভূপাতিত করা হয়েছিল। তবে কারা বিমানটি ভূপাতিত করেছে সে ব্যাপারে কিছু জানানো হয়নি। এ ঘটনার জন্য পূর্বাঞ্চলের রুশপন্থী বিদ্রোহীর দায়ী করে থাকে ইউক্রেন সরকার ও পশ্চিমারা। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীই বিমানটি ভূপাতিত করেছে।
এমন প্রেক্ষাপটে ঘটনার তদন্তে নামেন নেদারল্যান্ডসের নেতৃত্বাধীন প্রসিকিউটররা। এক বিবৃতিতে তারা জানিয়েছেন, অপরাধের তদন্ত ‘শেষ পর্যায়ে’ রয়েছে এবং গ্রীষ্মের পরই তা উপস্থাপন করা হতে পারে। তবে বাক মিসাইলের ব্যাপারে রাশিয়ার কাছ থেকে তথ্য চেয়েও তা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।
বিবৃতিতে বলা হয়, তারা তথ্য দিয়ে সহায়তার জন্য রাশিয়ার কাছে বেশ কয়েকবার অনুরোধ জানিয়েছেন, কিন্তু মস্কো কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।
তদন্তের ক্ষেত্রে ফরেনসিক পরীক্ষাসহ কয়েকটি ইস্যুতে ধারণার চেয়ে বেশি সময় লাগছে বলে জানান প্রসিকিউটররা। অবশ্য বিমানটি ভূপাতিত করতে কোন ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং ঠিক কোন স্থান থেকে অস্ত্র ছোড়া হয়েছে সে ব্যাপারে প্রথম প্রতিবেদনটি শিগগির প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিমান ভূপাতিত হওয়ার ঘটনায় নিহতদের বেশ কয়েকজনের পরিবারের পক্ষ থেকে ইউরোপিয়ান কোর্ট অব হিউম্যান রাইটসে রাশিয়া এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধে আইনি লড়াই চলছে। চলতি মাসের শুরুতে অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট নিউজ.কম-এ বলা হয়, যাত্রীর জীবনের অধিকার ক্ষুণ্ন করার দায়ে মামলাটি চলছে। বিমান বিধ্বস্তে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ বাবদ ৭.২ মিলিয়ন ডলার করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে বৃহস্পতিবার ভূপাতিত হওয়া ওই বিমানটির নিহত ৬ কেবিন ক্রু-এর পরিবারের পক্ষ থেকে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা করা হয়েছে। কোম্পানিটির বিরুদ্ধে অবহেলা ও চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/