‘আর্মেনিয়ার গণহত্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই জার্মানির’

অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দিয়ে জার্মান পার্লামেন্টে পাস হওয়া প্রস্তাবের তীব্র সমালোচনা করেছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি বলেন, আঙ্কারা এ ধরনের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করছে। এরদোয়ান জার্মান পার্লামেন্টের ওই প্রস্তাবকে ‘অর্থহীন’ বলেও অভিহিত করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েপ এরদোয়ান

শনিবার (৪ জুন) এরদোয়ান জানান, জার্মান পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটের ঘটনায় তিনি বিস্মিত। এর প্রতিক্রিয়ায় তুরস্কের রাষ্ট্রদূতকে জার্মানি থেকে ডেকে আনে তুর্কি সরকার এবং আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করে।

বৃহস্পতিবার জার্মান পার্লামেন্ট একটি প্রস্তাব পাস হয়। যার ফলে অটোমান সাম্রাজ্যের অধীনে আর্মেনীয়দের ওপর চালানো হত্যাযজ্ঞকে ‘গণহত্যা’ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।  

এরদোয়ান তুরস্কের একটি পত্রিকাকে বলেন, ‘জার্মান পার্লামেন্টের নেওয়া সিদ্ধান্তের কোনো মূল্য নেই। তাদের গণহত্যা নিয়ে কথা বলার অধিকার নেই। ১৯১৫ সালে আমাদের যে অবস্থান ছিল তা সুস্পষ্ট এবং ইতিহাস সম্পর্কে আমরা যা চিন্তা করি, জার্মানির সিদ্ধান্তের কারণে তার কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে তারা (জার্মানি) তুরস্কের মতো একটি বন্ধুকে হারানোর মতো বাস্তবতাকে উপেক্ষা করছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওই প্রস্তাবের কারণে এ বিষয়ে তুরস্ক নিজের অবস্থান পরিবর্তন করবে না।’

শরণার্থী সমস্যা নিয়েও ইউরোপের কঠোর সমালোচনা করেন এরদোয়ান। তিনি বলেন, ‘ইউরোপীয়দের মতো আমরাও আর্মেনীয়দের আর্মেনিয়ায় ফেরত পাঠাতে পারতাম। কিন্তু আমরা তা করিনি। এই মুহূর্তে ইউরোপ কি করছে? তুরস্ক ৩০ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিচ্ছে। এটাই তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য।’

১৯১৪ সালে অটোমান সাম্রাজ্য জার্মানি ও অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশ নেয়। তখন আর্মেনীয়দের ‘শত্রুর পক্ষাবলম্বনকারী’ বলে উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে প্রচারণা অভিযান শুরু হয়। আইন অনুমোদন করে আর্মেনীয়দের ঘরবাড়ি বাজেয়াপ্ত করে তাদের স্থানান্তর করা হয়। বিভিন্নভাবে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।

আর্মেনিয়ার হিসেব অনুযায়ী, ১৯১৫ থেকে ১৯১৭ সাল পর্যন্ত অটোমান বাহিনীর হাতে তাদের ১৫ লাখ মানুষ নিহত হন। অতএব এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানায় আর্মেনিয়া।

তবে তুরস্ক ওই হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা বলতে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোর বিরোধী। তুরস্কের মতে, সে সময়ে গৃহযুদ্ধের কারণে ৩ থেকে ৫ লাখ আর্মেনীয় এবং প্রায় সমান সংখ্যক তুর্কি প্রাণ হারায়। অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে গণজাগরণের সময় আর্মেনীয়রা হামলাকারী রুশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল। এমনকি ২০১৪ সালে এরদোয়ান এই ঘটনা সম্পর্কে শোক প্রকাশ করে আর্মেনিয়ার উদ্দেশ্যে ওই অধ্যায়কে ‘দুই দেশের সম্মিলিত কষ্ট’ হিসেবে মেনে নেয়ার আহ্বান জানায় তুরস্ক।

সূত্র: আলজাজিরা।

আরও পড়ুন:

আলজেরিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩৩

কিউবা ওএএস-এ ফিরবে না: রাউল কাস্ত্রো

প্রথম দফায় প্রত্যাখান করে পরে কেন সুইফট আবেদনে অনুমোদন?

/এসএ/বিএ/