গরুর মাংস নিয়ে উত্তেজনা

আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০ দিনের আল্টিমেটাম


মোহাম্মদ আখলাকভারতের উত্তর প্রদেশের দাদরিতে গত বছর গরুর মাংস খাওয়া ও সংরক্ষণের অভিযোগে মোহাম্মদ আখলাকের বাড়িতে হামলার ঘোষণা এসেছিল স্থানীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত এক পঞ্চায়েত থেকে। গ্রাম্য মোড়লদের এক বৈঠকের পর সেখান থেকেই গ্রামবাসীকে উসকানি দিয়ে বলা হয়েছিল, আখলাক গো-হত্যা চালিয়েছেন এবং বাড়িতে গরুর মাংস রেখেছেন। আর এর পর পরই সে বাড়িতে হামলা করে আখলাককে পিটিয়ে মারে উত্তেজিত। এবার সে একই মন্দিরে সোমবার আবারও পঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হয়। সেখান থেকে গ্রামের নেতারা প্রশাসনকে ২০ দিনের আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছেন, তারা যেন এ সময়ের মধ্যেই আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। তা না হলে জনরোষ ঠেকিয়ে রাখা যাবে না বলেও সতর্ক করেছেন তারা।
গত বছর আখলাকের বাড়ির ফ্রিজ থেকে যে মাংস পাওয়া গিয়েছিল তা গরুর মাংস উল্লেখ করে ফরেনসিক রিপোর্ট প্রকাশ করার ছয়দিনের মাথায় এ আল্টিমেটাম দেওয়া হলো।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে দাদরি এলাকায় গরুর মাংস সংরক্ষণের গুজবে মোহাম্মদ আখলাক নামের ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা করে গ্রামবাসী। মাংসগুলো আসলেই গরুর মাংস কিনা তা পরীক্ষা করতে সে সময় স্থানীয় একটি ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে পুলিশ জানিয়েছিল আখলাকের বাড়ির ফ্রিজে যে মাংস সংরক্ষিত ছিল তা গরু নয়, খাসির মাংস। তবে চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য মাংসগুলো মাথুরার একটি সরকারি ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল। ঘটনার ৮ মাস পর গত সপ্তাহে সে মাথুরা ল্যাবের দেওয়া ফরেনসিক রিপোর্টে বলা হয়েছে মাংসগুলো গরুরই ছিল। আর এ প্রতিবেদন প্রকাশের পর গো-হত্যার দায়ে আখলাকের পরিবারের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের জন্য বিসারার গ্রামবাসীদের একাংশ পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আখলাককে পিটিয়ে হত্যার পর পরই এলাকার এক বিজেপি নেতা-সহ ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সোমবার পঞ্চায়েতে আগতদের অনেকেই ওই অভিযুক্তদের আত্মীয়-স্বজন। স্থানীয় বিজেপি নেতা সঞ্জয় রানার ছেলেও আখলাক হত্যায় অভিযুক্ত। তিনি বলেন, ‘গরুর ইস্যুটি আমাদের বিশ্বাসেরও ইস্যু। আমরা শান্তিপ্রিয় এবং আমরা বিচারপ্রক্রিয়ায়ও বিশ্বাস রাখি। এ ২০ দিনে সরকারকে বিকল্প চিন্তা করতে হবে এবং আমাদের দাবির কথা শুনতে হবে। তা নাহলে আমার গ্রামে জনরোষ ঠেকিয়ে রাখা যাবে না।’

সোমবার পঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হয়
একই ধরনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গ্রামের সাবেক প্রধান বাগ সিং। তিনি বলেন, ‘প্রশাসন যদি আমাদের দাবিগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা না করে এবং গো-হত্যার ঘটনায় মালা দায়ের না করে তবে আমরা নিজেরাই ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হব।’
পঞ্চায়েতে অভিযুক্তদের পরিবার ও গ্রামের স্থানীয় লোকজন ছাড়াও স্থানীয় শিব সেনার একটি দলও সেখানে উপস্থিত ছিল।

কড়া নিরাপত্তা আর নজরদারির মধ্য দিয়ে পঞ্চায়েত অনুষ্ঠিত হয়। কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি যেন না তৈরি হয় সে ব্যাপারে বার বার সতর্ক করেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পঞ্চায়েত শুরু আগে থেকেই ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।

আখলাকের পরিবারের অভিযোগ, নতুন রিপোর্টটি রাজনৈতিক। আখলাকের ভাই মোহাম্মদ চাঁদ বলেছেন,‘প্রথমে দাদরি পুলিশ বলেছিল ওই মাংস খাসির। এখন বলছে গরুর। এসবই রাজনীতি করার জন্য বলা হচ্ছে।’

তবে পুলিশ বলছে,নতুন রিপোর্টটির কারণে আখলাক হত্যা মামলার গুরুত্ব কমবে না। কেননা, উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ নয়,কেবল গরু জবাই করা নিষিদ্ধ।

উল্লেখ্য, আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে যখন রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা চলছে সে সময়ই নতুন ফরেনসিক রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। গত বছর দাদরির ঘটনার পর গোটা ভারতজুড়েই আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। বিজেপি ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বলেও অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

/এফইউ/