ফের ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা চালু উত্তর কোরিয়ার

ফের ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা চালু করেছে উত্তর কোরিয়া। এ চুল্লিটি দেশটির পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচিতে প্লুটোনিয়াম যোগান দেয়। আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা আইএইএ’র বরাত দিয়ে মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি। আইএইএ জানিয়েছে, স্থাপনাটি ফের চালু করেছে উত্তর কোরিয়া। স্যাটেলাইটের সাহায্যে পাওয়া ছবিতে সেখানে গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে আইএইএ।

আইএইএর প্রধান ইয়ুকিয়া আমানো বলেন, স্থাপনাটি আকারে বড় করা এবং পরমাণুসমৃদ্ধ করার কার্যক্রম দেখা গেছে। প্রকল্প এলাকায় যানবাহন চলাচল করতে দেখা করতে দেখা গেছে, যা এর শীতলীকরণ কার্যক্রম চালুর ইঙ্গিত বহন করছে।

ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কেন্দ্র দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জ্বালানি প্রক্রিয়াজাত করে এবং এটি পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির জন্য প্লুটোনিয়াম সরবরাহ করে। ২০০৭ সালে সহযোগিতার বিনিময়ে নিরস্ত্রীকরণ আলোচনার অংশ হিসেবে এই কেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ২০০৯ সালের এপ্রিলে আলোচনা ব্যর্থ হলে আইএইএ’র কর্মকর্তাদের জন্য ইয়ংবিয়ন পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে উত্তর কোরিয়া। গতবছর পিয়ংইয়ং জানিয়েছিল, শিগগিরই তারা এই পারমাণবিক কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করতে যাচ্ছে।

ইয়ংবিয়ন পরমাণু স্থাপনা

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য চাপ দিয়ে আসছে। এজন্য আলোচনা থেকে শুরু করে অবরোধ আরোপ পর্যন্ত নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু তাতে নিভৃতকামী কমিউনিস্ট দেশটির অবস্থানের বিশেষ পরিবর্তন নেই। তারা পরমাণু অস্ত্রের সম্ভার বাড়িয়েই চলেছে। কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে তোলা ছবি পর্যালোচনা করে সে ধারণাই মিলেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পরমাণুবিজ্ঞানী ও উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ সিগফ্রায়েড হেকারের মতে, উত্তর কোরিয়া তার পারমাণবিক কার্যক্রম জোরেশোরেই চালিয়ে যাচ্ছে। এক অনলাইন সাময়িকীতে তিনি লিখেছেন, ‘উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে আমাদের স্থির থাকতে হবে। তবে দেশটি যেভাবে তার পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে এগোচ্ছে, তাতে মনে হয় কাজটা একটু কঠিনই হবে। আমরা যদি স্পষ্টভাবে জানতে পারতাম, উত্তর কোরিয়া আসলে কোন দিকে যাচ্ছে, তাহলে তাদের কীভাবে থামানো যায়, এ ব্যাপারে একটা মতৈক্যে পৌঁছাতে পারতাম।’

বাবা কিম জং ইলের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের শেষ নাগাদ উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় আসেন কিম জং উন। নতুন এ তরুণ নেতার বছরের শাসনামলে দেশটি রকেট এবং পারমাণবিক অস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার চাওয়া হচ্ছে, উত্তর কোরিয়া নিজে থেকে শর্তহীনভাবে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ত্যাগ করবে। কিন্তু পিয়ংইয়ং বারবার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা তার নেই।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা ইভান্স রিভিয়ার ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের এক প্রকাশনায় লিখেছেন, উত্তর কোরিয়ার ব্যাপক বিধ্বংসী অস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করার কোনো কূটনৈতিক পন্থা আপাতত নেই। কেননা, এ ব্যাপারে পিয়ংইয়ং অনেক এগিয়ে গেছে।

একের পর এক অস্ত্রের পরীক্ষা চালালেও উত্তর কোরিয়া এখন চাইছে পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে শর্তহীনভাবে বিশ্ব সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসতে। কিন্তু পিয়ংইয়ংয়ের আসল উদ্দেশ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সন্দেহ আছে। এ ব্যাপারে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ছয় জাতির আলোচনায় সাবেক মার্কিন প্রতিনিধি পল হায়েনল বলেন, এখন আলোচনায় বসলে উত্তর কোরিয়া তাকে এমনভাবে পরিচালিত করবে যে তা দেশটিকে অস্ত্রমুক্ত করার যে আন্তর্জাতিক লক্ষ্য রয়েছে, তার বাস্তবায়ন হবে না।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইভান্স রিভিয়ারের মতে, লক্ষ্য যদি হয় পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের ব্যাপারে উত্তর কোরিয়াকে রাজি করানো, তাহলে আলোচনার কোনো বিকল্প নেই। তবে তা হতে হবে উচ্চপর্যায়ে।

উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার লক্ষ্যে দেশটিকে সঙ্গে নিয়ে ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু নানা কারণে এ ব্যাপারে কোনো অগ্রগতি হয়নি। আলোচনা হয় ২০০৮ সালেও। আন্তর্জাতিক আহ্বান উপেক্ষা করে উত্তর কোরিয়া ২০০৯ সালে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালানোর পর আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দেয়। সূত্র: বিবিসি।

/এমপি/