সাবরুম-রামগড় ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে ভারত

গত বছর নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরে ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়ত্রিপুরার সাবরুমের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ফেনী নদীর উপর দিয়ে পরিকল্পিত সাবরুম-রামগড় ব্রিজ স্থাপনের কাজ শুরু করেছে ভারত। এরইমধ্যে ব্রিজ নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে দেশটি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে এই ব্রিজের ওপর দিয়েই ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় এলাকা থেকে অন্যান্য রাজ্যগুলোতে পণ্য ও সরঞ্জাম নিয়ে যাবে ।
হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জুনে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের সময় দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ব্রিজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ব্রিজটির নির্মাণ কাজ শুরুর ব্যাপারে আলোচনা করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ও ভারতের ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের একটি যৌথ দল সাবরুম ও রামগড় পরিদর্শন করেন।
শনিবার ত্রিপুরার পাবলিক ওয়ার্কস ডিপার্টমেন্টের (পিডব্লিউডি) হাইওয়ে শাখার প্রধান প্রকৌশলী দিপক রঞ্জন দাস সাংবাদিকদের জানান ‘বিস্তারিত প্রকল্প প্রতিবেদন তৈরি করাসহ ব্রিজটি স্থাপনের ক্ষেত্রে ভারত প্রাথমিক কাজ শেষ করেছে।’
প্রকল্প প্রতিবেদনটিতে সামান্য কিছু পরিবর্তন এনে তা আগামী সপ্তাহে রোড ট্রান্সপোর্ট অ্যান্ড হাইওয়ে মন্ত্রণালয় বরাবর জমা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য তহবিল চাওয়া হবে।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারত নিজস্ব খরচে দুই লেনের এ ব্রিজটি স্থাপন করবে। ব্রিজ নির্মাণ ও সংশ্লিষ্ট সড়ক নির্মাণের কাজগুলো দেখাশোনার দায়িত্ব ত্রিপুরার পিডব্লিউডিকে দেওয়া হবে।  

ত্রিপুরার পিডব্লিউডির মন্ত্রী বাবুল চৌধুরী জানান টেন্ডার চূড়ান্ত হওয়ার পর ১৫০ মিটার দীর্ঘ ব্রিজটি এবং প্রয়োজনীয় সড়ক নির্মাণে আড়াই বছর লাগবে। এর জন্য খরচ হবে ৯৪ কোটি ভারতীয় রুপি। এ ব্রিজটি কেবল ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলই নয় দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্যও বাণিজ্যিক লাইফ লাইন হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন বাবুল।

তিনি বলেন, ‘ঢাকা যদি ভারতকে ট্রানজিট সুবিধা দেয় তবে আমরা চট্টগ্রাম বন্দর ও বাংলাদেশের অন্য বন্দরগুলো ব্যবহার করতে পারব। এক্ষেত্রে উত্তর পূর্বাঞ্চল থেকে ভারতের অন্য অঞ্চলগুলোতে পণ্য ও সরঞ্জামাদি সরবরাহের ক্ষেত্রে সময় বাঁচবে।’ সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

/এফইউ/