এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীনের আলোচনার আহ্বান

পরমাণু সরবরাহকারী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী বা এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি এখন অনেকাংশেই চীনের সমর্থনের ওপর নির্ভর করছে। আর ‘বিস্তর মতপার্থক্য’ কাটিয়ে উঠতে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে জানিয়েছে চীন। রবিবার (১২ জুন) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনএসজি-র সদস্যসংখ্যা বাড়াতে হলে সব সদস্য দেশের সমর্থন প্রয়োজন। ফলে এনএসজি-তে ভারতের অন্তর্ভুক্তি চীনের মতভিন্নতায় ঝুলে আছে। 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

এক অনলাইন বিবৃতিতে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ চুক্তি বা এনপিটি সই না করে কোনও দেশ কীভাবে এনএসজি-তে প্রবেশাধিকার পেতে পারে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। যদি এনপিটি স্বাক্ষর না করা দেশগুলো এনএসজি-তে অন্তর্ভুক্ত হতে চায়, তবে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা দরকার। আলোচনার মাধ্যমেই মতৈক্য সম্ভব বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হঙ লেই জানান, এনপিটি স্বাক্ষর না করা দেশগুলো এনএসজি-তে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে ‘বিস্তর মতপার্থক্য’ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘এনএসজি-তে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে চীন সবসময়ই আলোচনা করাকে সমর্থন জানিয়ে আসছে। চুক্তিটি হয়েছিল পারমাণবিক বিস্তাররোধে রাজনৈতিক এবং আইনি ভিত্তি প্রতিষ্ঠার জন্য।’

এদিকে, শনিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এনএসজি-তে অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। জানা গেছে, পুতিন মোদিকে সমর্থনের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। এই দুই নেতা শীঘ্রই এক বৈঠকে মিলিত হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।   

নরেন্দ্র মোদি এবং ভ্লাদিমির পুতিন

পরমাণু জ্বালানি সরবরাহকারী ৪৮ সদস্যের এই গোষ্ঠীটি পরমাণু অস্ত্রের প্রসার রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। এনএসজি-র নিয়ম অনুসারে, কোনও দেশের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব সর্বসম্মতিতেই পাস হওয়া দরকার। ফলে বেইজিংয়ের পদক্ষেপে ভারতের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

সদস্যপদের জন্য মোদির পাঁচ দেশ সফরে সুইজারল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোর সমর্থন আদায় করেছেন। তবে চীন ছাড়াও তুরস্ক, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড এবং অস্ট্রিয়াও এনপিটি সই না করা দেশের এনএসজি-তে প্রবেশের বিরোধী। ফলে এসব দেশও ভারতকে সমর্থন জানায়নি।

এই পরিস্থিতিতে ভারতের সদস্যপদ নিয়ে সিওলে ২০ তারিখ এনএসজি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে। কূটনীতিকরা জানিয়েছেন, ভারতকে এনএসজি-তে প্রবেশাধিকার দিতে ওবামা প্রশাসন চেষ্টা চালাচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা এক চুক্তির ফলে ভারত ইতিমধ্যেই এনএসজি সদস্য দেশের প্রায় সব সুবিধাই ভোগ করছে।

সূত্র: এনডিটিভি, টাইমস অব ইন্ডিয়া।

আরও পড়ুন:

কে এই ওমর মতিন?

ফ্লোরিডার নাইটক্লাবে হামলাকারী বউ পেটাতেন!

ছেলের সন্ত্রাসের জন্য ক্ষমা চাইলেন ওমর মতিনের বাবা

/এসএ/