মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় গঠিত মার্কিন তদন্ত দলের প্রধান এবং ম্যানহাটনের শীর্ষ প্রাদেশিক প্রসিকিউটর প্রিট ভারারা এসব কথা বলেন। তবে সাইবার ডাকাতির ঘটনায় আন্তর্জাতিক লেনদেনের বৈশ্বিক সংগঠন সুইফটের মতো নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষ্ঠানের ওপর অনাস্থা প্রকাশের কারণ নেই বলে মনে করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি যেভাবে নামহীন, পরিচয়হীন, ছদ্মবেশধারীরা সরাসরি অন্য মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তা খুবই বড় সমস্যা। একইসঙ্গে তা আমাদের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য বড় হুমকিও।’
যেভাবে সুইফট সিস্টেম ব্যবহার করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি হয়েছে তাতে করে বৈশ্বিক এ সংগঠনটির ওপর মানুষের আস্থা রাখা ঠিক হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে ভারারা বলেন, ‘আমি মনে করি না নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থাহীন হওয়ার কোনও কারণ আছে। আমি মনে করি, মানুষের বরং উদ্বিগ্ন থাকা উচিত যে সিস্টেম যেকোনও সময় সংকটাপন্ন হতে পারে।’
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৯৫১ মিলিয়ন ডলার চুরির চেষ্টা করে। পরে বেশ কিছু পেমেন্ট বন্ধ করে দিয়ে বেশিরভাগ অর্থচুরি ঠেকানো গেলেও ৮১ মিলিয়ন ডলার ফিলিপাইনে স্থানান্তরে সক্ষম হন হ্যাকাররা। ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়।
প্রিট ভারারার দফতর এবং নিউ ইয়র্কে এফবিআই ঘটনাটির তদন্ত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তকারীরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক অভ্যন্তরীণভাবেই হয়েছে। আর বাংলাদেশের তদন্তকারীরা এ ঘটনার জন্য আংশিকভাবে সুইফট সিস্টেমকে দায়ী করেছেন। কেবল বাংলাদেশ ব্যাংকই নয়, ভিয়েতনাম ও ইকুয়েডরের ব্যাংকেও একই স্টাইলে হামলা হওয়ায় সুইফটের নিরাপত্তার ইস্যুটি প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। কোনও কোনও তদন্তকারী আবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সাইবার হামলার সঙ্গে ২০১৪ সালে সনি পিকচার্সে উত্তর কোরিয়ার সাইবার হামলার মিল পেয়েছেন। দুটি ঘটনাতেই একই ধরনের ম্যালওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছিল বলে দাবি তাদের।
তবে কারা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় জড়িত তার কোনও সুরাহা করতে পারেননি তদন্তকারীরা। সম্প্রতি এফবিআইও জানিয়েছে, দায়ীদের এখনও শনাক্ত করা যায়নি। তবে দ্রুত শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলেও জানানো হয় সে সময়। সূত্র: ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল
/এফইউ/বিএ/