মৃত্যুপথযাত্রীর প্রাণ বাঁচাতে ভারত থেকে এলো ‘বিরল রক্ত’

nonameসড়ক দুর্ঘটনায় মাল্টিপল ফ্র্যাকচারের কবলে পড়েছেন কামরুজ্জামান। অস্ত্রোপচারে রক্তের প্রয়োজন। কিন্তু সেই রক্তের গ্রুপ বিরল। সারা বাংলাদেশের কোনও ব্লাড ব্যাংকে নেই। অনলাইনে খোঁজ করে দেখা যায়, ৪শ ভারতীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের রক্ত ওই গ্রুপের। তাদের মুষ্টিমেয় কয়েকজন অন্যের প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে থাকেন। যোগাযোগের পর সেই ভারতীয়দের ৪ জন এগিয়ে এসেছেন মানবিকতার টানে, একজন মৃত্যপথযাত্রীকে জীবনে ফিরিয়ে আনতে। রক্ত পাঠিয়েছেন মুমূর্ষু কামরুজ্জামানের জন্য।  ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, শনিবার রাতেই সেই রক্ত বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা।
২৫ বছর বয়সী কামরুজ্জামান পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। বাড়িতে রয়েছেন অসুস্থ মা। গত ২১ মে এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মক আহত হন তিনি।  মাল্টিপল ফ্র্যাকচারে আক্রান্ত কামরুজ্জামানকে  দ্রুততার সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে। অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে প্রয়োজন পড়ে রক্তের।
কিন্তু হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করে দেখেন কামরুজ্জামানের শরীরের রক্তের গ্রুপ আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের থেকে আলাদা। কামরুজ্জামানের শরীরে প্রবাহিত হচ্ছে বিরল গোত্রের ‘মুম্বাই ব্লাড গ্রুপ’-এর রক্ত । কিন্তু সারা বাংলাদেশের ব্লাড ব্যাংকগুলোতেও সেই রক্তের জোগান না থাকায় চিন্তিত হয়ে পড়েন চিকিৎসক ও রোগীর স্বজনরা। বাধ্য হয়েই খোঁজ পড়ে অন্যত্র।
১২০ কোটিরও বেশি মানুষের দেশ ভারত, যেখানে রক্ত আদানপ্রদানের নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী। তাই সেখানেও খোঁজ শুরু হয় ওই রক্তের। অনলাইনে খোঁজ করে দেখা যায়, ভারতে কমবেশি ৪০০ মানুষের শরীরে এই রক্ত রয়েছে। জানা যায়, তাঁদের মধ্যে মাত্র কয়েকজন অন্যের প্রয়োজনে রক্ত দিয়ে থাকেন। কামরুজ্জামানের পরিবার মুম্বাইভিত্তিক এনজিও থিঙ্ক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাদের সঙ্গে যোগাযোগে সমর্থ হয়। থিঙ্ক ফাউন্ডেশনই সেই রক্ত বাংলাদেশে পাঠানোর আইনগত ও অন্যান্য দিকগুলো দেখভাল করে। ওই এনজিওর পক্ষে বিনয় শেঠী টাইমস অব ইন্ডিয়াকে জানান, ভারত দেশে অন্য দেশে রক্ত পাঠানো আইনগতভাবে বেশ জটিল। বিশেষ ক্ষেত্রেই কেবল এটি করা যায়। বাংলাদেশে রক্ত পাঠাতে গিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ওই ৪ ভারতীয়র সম্মতির খবর পেয়েই কামারুজ্জামানের এক সহকর্মী শেখ তুহিনুর আলম মুম্বই উড়ে আসেন রক্ত সংগ্রহ করতে। বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক প্যাকেটে আইজেলের মাধ্যমে সেই রক্ত শনিবারই বাংলাদেশে পৌঁছে দেওয়ার কথা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে আলম জানান, কামারুজ্জামানের বাঁচার আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁর বাঁ পায়ের হাড়, বাঁ হাত পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পেলভিস ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন ব্লাড ব্যঙ্কগুলিতে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও ওই বিরল ব্লাড গ্রুপ মেলেনি। পরিবারের সকলের রক্ত পরীক্ষা করেও সুরাহা হয়নি। এই বিরল গ্রুপের রক্ত দান করে শুধু একজনেরই নয়, গোটা পরিবারের প্রাণ বাঁচাল ওই চারজন।’ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় কামরুজ্জামানের পরিবারের পক্ষ থেকে ওই চার ভারতীয়র প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন আলম। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

/বিএ/