ব্রেক্সিটের ফলে যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জের মুখে: টিউলিপ

ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়া নিয়ে অনুষ্ঠিত গণভোটের ফলে আশাহত হয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, এর ফলে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ বিরাট চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়েছে। শুক্রবার সকালে গণভোটের ফল প্রকাশের পর নিজের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান  বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এই ব্রিটিশ এমপি।

টিউলিপ সিদ্দিক বলেন, 'গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার এই মতামতকে আমি শ্রদ্ধা করি এবং একই সঙ্গে ক্যামডেন ও ব্রেন্টের যেসব প্রচারকর্মী ইইউতে থাকার পক্ষে নিরন্তর লড়াই চালিয়েছেন তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাই।'

তিনি বলেন, 'এই ফলে তাদের যে বেদনা তা আমি বুঝি। কিন্তু, এই তিক্ত প্রচারণা আমাদের সমাজে যে বিভক্তি সৃষ্টি করেছে আমাদেরকে অবশ্যই তা প্রশমনের দিকে নজর দিতে হবে।'

এমন পরিস্থিতিতে অদূর ভবিষ্যতে ব্রিটিশ সমাজের বাঁক বদলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষদের জন্য সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন টিউলিপ সিদ্দিক।

টিউলিপ সিদ্দিক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছোট বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপের সঙ্গে লেবার পার্টির বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অন্য দুই এমপি রুশনারা আলী ও রুপা হকও ইইউতে থাকার পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছিলেন। শেখ হাসিনাও যুক্তরাজ্যের ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

২৩ জুন ২০১৬ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত গণভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ইইউ ছাড়ার পক্ষে ভোট পড়ে ৫১ দশমিক ৯ শতাংশ, আর থাকার পক্ষে পড়ে ৪৮ দশমিক ১ শতাংশ  ভোট। ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার প্রশ্নে গণভোট; এ কারণে একে সংক্ষেপে বলা হয় 'ব্রেক্সিট'।

পুরো ব্রিটেনজুড়ে ভোটাররা ব্রেক্সিটের পক্ষে রায় দিলেও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত টাওয়ার হ্যামলেট এলাকার ভোটাররা ইউরোপে থাকার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন। সেখানে চূড়ান্ত ফলাফলে ৬৭ দশমিক ৪৬ ভাগ নাগরিক ইউনিয়নে থাকার পক্ষে রায় দিয়েছে। আর ব্রেক্সিটের পক্ষে ভোট পড়েছে ৩২ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

উল্লেখ্য, টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকার প্রায় ৪০ ভাগ নাগরিকই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের সাবেক চেয়ারম্যান শাহগীর বখত ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আজ ব্রিটেনবাসীর জন্য অসম্ভব খারাপ একটি দিন। বিশ্বের বড় বড় বিশ্লেষক ও দক্ষ অর্থনীতিবিদদের মতামত অগ্রাহ্য করে আমরা যে ভুল গতকাল করেছি, তা সংশোধনের সুযোগ আর থাকল না।’

শাহগীর বখত ফারুক মনে করেন, ইউরোপে থাকলে বরং বাংলাদেশি কমিউনিটি ইমিগ্রেশন ইস্যুতে আরও বেশি সুবিধা পেত। ইউরোপিয়ান কোর্ট অব জাস্টিসের রায়ের কারণে বাংলাদেশি নাগরিকরা এসাইলামসহ বিভিন্ন মানবাধিকার ইস্যুতে ব্রিটেনে থাকার সুযোগ পেতেন। এখন সেই সুযোগ তারা আর পাবেন না। পিতৃত্বকালীন ছুটি থেকেও তারা এখন বঞ্চিত হবেন।

এদিকে ব্রেক্সিটের ফলে বিশ্বক্ষমতার কেন্দ্রে যুক্তরাজ্যের যে অবস্থান ছিল, তার পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। ডাউনিং স্ট্রিট থেকে শুরু করে বড় বড় ব্যবসায়ী, অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ—কেউই বিষয়টি অগ্রাহ্য করতে পারবেন না। তবে মোটা দাগে বড় ঝড়টা হয়তো খোদ ব্রিটেনের মানচিত্রের ওপর দিয়েই যাবে। কারণ ব্রেক্সিটের পক্ষে জনরায় স্পষ্ট হওয়ার ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে স্কটল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে। শুক্রবার স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার নিকোলা স্টারজিওন বলেছেন, স্কটল্যান্ড ভবিষ্যতে তাদের ইইউ’র অংশ হিসেবে মনে করবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, স্কটল্যান্ডের ক্ষমতাসীন এসএনপি ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের সিন ফেইন পার্টি শিগগিরই আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে ব্রিটেন থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাবে।

/এমপি/