বৃহস্পতিবারের (২৩ জুন) গণভোটে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা হওয়ার পক্ষে ব্রিটিশ জনগণের রায় এবং ক্যামেরনের পদত্যাগের ঘোষণার পর এসব কথা বলেন তিনি। মার্টিন শুলজের বক্তব্যটি আংশিকভাবে প্রতিধ্বনিত হয়েছে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ ক্লদ জাঙ্কারের বক্তব্যেও। তিনিও জানিয়েছেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা হওয়ার প্রশ্নে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শুরু করতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করার কারণ নেই।
যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে নাকি জোটটি থেকে আলাদা হয়ে যাবে সে প্রশ্নে বৃটিশরা বৃহস্পতিবার গণভোটে অংশ নেন। শুক্রবার পাওয়া ফলাফলে দেখা যায়, ব্রিটিশ জনগণের রায় ইইউ ছাড়ার পক্ষেই গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৫২ শতাংশ ভোটার আর থাকার পক্ষে ভোট পড়েছে ৪৮ শতাংশ। এ রায়ের পর অক্টোবর নাগাদ পদত্যাগ করবেন বলে ঘোষণা দেন ডেভিড ক্যামেরন। দল থেকে অন্য কোনও নেতাকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন প্রধানমন্ত্রীই ব্রেক্সিট ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে আলোচনা চালাবে।
এমন প্রেক্ষাপটে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট মার্টিন শুলজ বলেন, ‘লিসবন চুক্তির অনুচ্ছেদ ৫০ অনুযায়ী ব্রেক্সিটের প্রক্রিয়া দ্রুত করা যায় কিনা তা নিয়ে ইইউ-এর আইনজীবীরা পড়াশোনা করছেন। লিসবন চুক্তির ওই অনুচ্ছেদে মূলত ইইউ থেকে সদস্য দেশের আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়া উল্লেখ করা আছে যা এখনও পরীক্ষিত নয়।’
যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে প্রক্রিয়া শুরু করতে দেরি হওয়ার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যাপারটি কেবল যুক্তরাজ্য সরকারের হাতে রয়েছে কিনা সে ব্যাপারে আমার সন্দেহ রয়েছে। তারা যে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করার জন্য একতরফা ঘোষণা দিয়েছে সেটি আমাদেরকে খেয়াল করতে হবে। কিন্তু তা শেষ কথা হতে পারে না।’
শুলজের এ বক্তব্যকে প্রতিধ্বনিত করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জাঁ ক্লদ জাঙ্কার জার্মানির এআরডি টেলিভিশনকে বলেন, ‘ব্রিটিশরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার পক্ষে রায় দিয়েছেন। আর তাই ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বিচ্ছিন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে অক্টোবর পর্যন্ত অপেক্ষা করার মানে হয় না।’
এদিকে ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, যুক্তরাজ্যকে বাদ দিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাকি ২৭ সদস্য আগামী সপ্তাহে একটি বৈঠকে বসতে যাচ্ছে। ইইউ থেকে যুক্তরাজ্যের আলাদা হয়ে যাওয়ার পক্ষে গণভোটের রায় আসার পর অর্থনৈতিক জোটটির ভবিষ্যৎ কী হবে তা নির্ধারণ করতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বুধবার এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
গণভোটের আগেই ক্যামেরন বলেছিলেন, যদি ব্রেক্সিট হয় তাহলে তিনি লিসবন চুক্তির ৫০ তম অনুচ্ছেদ অনুসরণ করবেন। এই চুক্তি অনুসারে ইইউভুক্ত কোনও সদস্য রাষ্ট্র যদি বেরিয়ে যেতে চায় তাহলে ইইউ কাউন্সিলকে জানাতে হবে। এরপর দুই বছরের একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ব্রিটেনকে যেতে হবে। ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার পর তা শেষ হবে। যদি না ইইউ দুই বছর শেষে এই প্রক্রিয়া বর্ধিত করে। সাংবিধানিকভাবে লিসবন চুক্তির ৫০ ধারা অনুসরণ করার সিদ্ধান্ত ক্যামেরনের একার। পার্লামেন্টও এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। এছাড়া এক্ষেত্রে রাজপরিবারের বিশেষ ক্ষমতা প্রযোজ্য হবে। তাছাড়া পার্লামেন্টও চাইলে ক্যামেরন যেন ৫০ ধারা অনুসরণ না করেন সেজন্য প্রস্তাব পাস করতে পারবে।
যদি দুই বছর শেষে চুক্তি না হয় অথবা বর্ধিত করার সিদ্ধান্তে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত না হয়, তবে যুক্তরাজ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার নীতিমালার আওতায় পড়ে যাবে। অর্থাৎ ইইউতে বিক্রি করা সব পণ্যের ওপর কর দিতে বাধ্য হবে যুক্তরাজ্য। সূত্র: গার্ডিয়ান
/এফইউ/