উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে সম্মেলনটি আয়োজিত হয়। সম্মেলনে ওবামা বলেন, ‘বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও অর্থমন্ত্রীদের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক অর্থনীতির মন্দা অবস্থা স্থায়ী হওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ব্রেক্সিট বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ টেনে নিয়ে আসবে বলে আমি মনে করি। আর এর মধ্য দিয়ে গ্রেট ব্রিটেন ও ইউরোপে পুরোপুরিভাবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। যখন বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার এমনিতেই মন্দায় রয়েছে সেক্ষেত্রে ব্রেক্সিটের প্রভাব খারাপ হবে।’
চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাজ্য সফরে গিয়ে ব্রেক্সিটের (ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে যুক্তরাজ্যের বের হয়ে আসা) বিপক্ষে নিজের অবস্থানের কথা জানিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সে সময় তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্যচুক্তির ক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো বড় জোটকে প্রাধান্য দেবে। সেক্ষেত্রে ব্রিটেন যদি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বড় ধরণের বাণিজ্য চুক্তিতে দেশটি শেষের কাতারে চলে যাবে। কেননা যুক্তরাজ্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সহসা কোনও বাণিজ্য চুক্তি করার সম্ভাবনা থাকবে না। তবে ওবামার সে সতর্ক বার্তার পরও ২৩ জুন (বৃহস্পতিবার) অনুষ্ঠিত গণভোটে ব্রেক্সিটের পক্ষেই রায় দিয়েছে ব্রিটিশ জনগণ।
গণভোটের ফলাফলের ব্যাপারে অসন্তোষ থাকলেও ওবামা বলছেন, তিনি ব্রিটিশ জনগণের রায়কে সম্মান করেন। এই গণভোটের উৎসও অনুসন্ধান করেছেন ওবামা। তিনি মনে করছেন, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রে এমন একটি গণভোট আয়োজনের বাস্তব ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।
এদিকে ইইউ নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, একক বাজারে প্রবেশাধিকার চাইলে যুক্তরাজ্যকে অবশ্যই জনগণের মুক্ত চলাচলের নীতিকে সম্মান জানাতে হবে। ৪০ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো যুক্তরাজ্যকে বাদ দিয়ে ব্রাসেলসে বৈঠক করে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত বাকি দেশগুলো। বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, একক বাজারে প্রবেশাধিকারের ক্ষেত্রে চার ধরনের স্বাধীনতার গ্রহণযোগ্যতা জরুরি। এগুলো হল- পণ্য, কর্মী, সেবা, ও মূলধনের চলাচলের স্বাধীনতা।
বুধবার জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেলসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য নেতারা আবারও সতর্ক করে বলেছেন, একক বাজারের জন্য ইইউ নাগরিকদের মুক্ত চলাচল অবশ্যম্ভাবী। যুক্তরাজ্য যতক্সণ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ব্রেক্সিটের ব্যাপারে ইইউকে অবহিত না করবে ততক্ষণ পর্যন্ত দেশটির সঙ্গে জোটের কোনও আলোচনা হবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন তারা। সূত্র: বিবিসি
/এফইউ/