তিন সৌদি শহরের আত্মঘাতী বিস্ফোরণে হামলাকারীসহ নিহত ৭, আইএসকে সন্দেহ

nonameসৌদি আরবে সোমবার দুইটি শহরে ব্যর্থ হামলার পর মদিনায় পরিচালিত হামলায় সফলতা পায় আত্মঘাতী হামলাকারী। জেদ্দা এবং কাতিফ শহরের হামলায় কেবল হামলাকারীরাই নিহত হয়েছেন। মদিনার হামলায় হামলকারীসহ নিহত হয়েছেন ৫জন। সবমিলে এ পর্যন্ত ওই ৭ জনের প্রাণহানির খবর জানা গেছে। এখনও কেউ হামলার দায় স্বীকার না করলেও এ ঘ্টনায় মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসকে সন্দেহ করা হচ্ছে।
৩টি শহরে হামলার প্রথমটি সংঘটিত হয় জেদ্দায়। দ্বিতীয় বৃহত্তম এই সৌদি শহরে যুক্তরাষ্ট্র কনস্যুলেটের কাছে বিস্ফোরণে এক আত্মঘাতী নিহত এবং দুজন নিরাপত্তাকর্মী আহত হন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, সৌদি আরবে কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রথম বিদেশিদের লক্ষ্য করে জেদ্দায় এই হামলা হয়েছে। সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর-জেনারেল মনসুর আল-তুর্কি এক বিবৃতিতে জানান, স্থানীয় সময় মধ্যরাত সোয়া ২টার দিকে ডা. সুলেইমান ফাকিহ হাসপাতালের গাড়ি রাখার স্থানে অবস্থানকারী এক ব্যক্তির ব্যাপারে সন্দেহ হয় নিরাপত্তারক্ষীদের। তারা সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির কাছাকাছি গেলে হাসপাতালের গাড়ি রাখার স্থানে ওই ব্যক্তি নিজের শরীরে বেঁধে রাখা বিস্ফোরক বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটান।  
মার্কিন কনস্যুলেটের ঠিক উল্টো পাশেই হাসপাতালটির অবস্থান। সে কারণে ওই ঘটনার পর  সৌদি আরবে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস হুঁশিয়ারি জারি করে মার্কিন নাগরিকদের দেশটিতে ভ্রমণের সময় বাড়তি সতর্ক থাকতে বলেছে। তবে সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ওই হামলাকারীকে পাকিস্তানি নাগরিক আব্দুল্লাহ কালাজার খান বলে দাবি করা হয়েছে। তারা জানায়, ৩৪ বছর বয়স্ক ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী বেল্টের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন। স্ত্রীর সঙ্গে তিনি জেদ্দায় থাকতেন। তার সঙ্গে তার বাবা অথবা মায়ের কেউ একজন থাকত। ১২ বছর আগে তিনি গাড়িচালক হিসবে সৌদি আরবে আসেন। এর আগে ২০০৪ সালে জেদ্দার এই কনস্যুলেটে পাঁচ বন্দুকধারী হামলা চালিয়েছিল। ওই ঘটনায় নয়জন নিহত হন।

দ্বিতীয় হামলাটি সংঘটিত হয়েছে কাতিফ শহরে। সেখানকার এক শিয়া মসজিদে বিস্ফোরণ ঘটানোর চেষ্টা করেন হামলাকারী। তবে ওই হামলায় তিনি নিজে নিহত হলেও আর কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।  

তৃতীয় হামলাটি চালানো হয় মদিনায় মহানবী (সা.) এর মসজিদ হিসেবে খ্যাত মসজিদে নববীর কাছে। সোমবার ইফতারের সময় মসজিদের পার্কিং এলাকার প্রধান নিরাপত্তা চৌকিতে এ হামলা হয়। এ ঘটনায় ৪ নিরাপত্তারক্ষীর প্রাণহানির খবর দিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। আর মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, হামলায় আত্মঘাতী হামলাকারীও নিহত হয়েছেন।  

noname

রয়টার্সের হাতে আসা একটি ছবিতে বিস্ফোরণে দগ্ধ ও রক্তাক্ত একজন ব্যক্তিকে হাসপাতালের স্ট্রেচারে শুয়ে থাকতে দেখা গেছে।  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসা ছবিতে দেখা যায়, মসজিদে নববীর নিরাপত্তা চৌকির কাছে একটি গাড়িতে আগুন জ্বলছে। তা থেকে ফুলকি ছড়িয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা একটি ভিডিওতে দুজন নিরাপত্তা কর্মীকে মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখা যায়।

এখনও কেউ সৌদি আরবের হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে হামলার পেছনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএসকে সন্দেহ করা হচ্ছে। ৪ জুলাই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস। পাশাপাশি এটি মুসলমানদের পবিত্র মাস। সিএনএন-এর একজন মধ্যপ্রাচ্য বিশ্লেষক বলছেন, পবিত্র মাসে পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলার চেষ্টা করতে পারে আইএস। তাছাড়া সৌদি স্বৈরতন্ত্রকে ইসলামের শত্রু বিবেচনা করে আইএস। একই সংবাদমাধ্যমের একজন নিরাপত্তা বিশ্লেষক বলেছেন, পবিত্র মাসে হামলা বাড়াতে চেয়েছিল আইএস। এখন সেটাই হচ্ছে।  

160704142021-saudi-arabia-three-attacks-robertson-lv-wolf-00002929-large-169

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে সৌদি আরবে আইএসের ধারাবাহিক বোমা ও বন্দুক হামলায় অনেকে নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিয়া মতাবলম্বী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। গত বছর কাতিফে শিয়া অধ্যুষিত এলাকায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হওয়ার পর ওই এলাকার মসজিদগুলো ঘিরে নিরাপত্তা বাড়ায় পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা। বছরখানেক আগে দেশটির দক্ষিণ পশ্চিমালীয় অঞ্চলের এক শিয়া মসজিদের আত্মঘাতী হামলায় ১৩ জন নিহত হয়। ওই হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স, সিএনএন

/বিএ/