ককপিট ভয়েস রেকর্ডারের তথ্য

'বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ইজিপ্ট এয়ারের বিমানের আগুন নেভাচ্ছিলেন পাইলট'

ইজিপ্ট এয়ারের বিমানের ব্ল্যাক বক্সগত মে মাসে ভূমধ্যসাগরে বিধ্বস্ত হওয়ার আগে ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটিতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করছিলেন পাইলট। বিমানের ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণের পর এমন তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন মিসরীয় তদন্তকারীরা। আর এর মধ্য দিয়ে আগের পাওয়া তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য তৈরি হলো। বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে আগুন লেগেছিল বলে আগের পাওয়া তথ্য তবে সব তথ্য বিশ্লেষণ করে চূড়ান্ত ধারণা পেতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন তারা।
ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটি যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হওয়ার কয়েক মিনিট আগে সেখানকার টয়লেটে ধোঁয়া সৃষ্টি হয় বলে শুরু থেকেই ধারণা করা হচ্ছিল। এয়ারবাসটির এয়ারক্রাফট কমিউনিকেশন অ্যাড্রেসিং অ্যান্ড রিপোর্টিং সিস্টেম (এসিএআরএস) থেকে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে সেসময়ই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এমন ধারণার কথা জানানো হয়েছিল। সর্বশেষ বিমানের ফ্লাইট ডাটা রেকর্ডারের তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা জানান, বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগে সেখানকার টয়লেটে এবং ককপিটের নিচের দিকে ধোঁয়া শনাক্ত হয়েছিল। ধোঁয়া শনাক্তের সংকেত দিয়ে একটি স্বয়ংক্রিয় ইলেক্ট্রনিক বার্তাও দেওয়া হয়েছিল বিমান থেকে। সেই বার্তার সঙ্গে রেকর্ডারের তথ্যের সামঞ্জস্য রয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তদন্তকারীরা। এবার ককপিট ভয়েস রেকর্ডার বিশ্লেষণ করেও একইরকম তথ্য পাওয়া গেছে। তবে চূড়ান্ত ধারণা পাওয়ার জন্য আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।

বিমান বিশেষজ্ঞ অলিভার ম্যাকগি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, নতুন তথ্য বিশ্লেষণের মধ্য দিয়ে ব্যাখ্যা পাওয়া যাবে যে কেন পাইলট অ্যালার্ম বাজাননি। তিনি বলেন, ‘বিমানে আগুন লাগার ঘটনা খুব জটিল একটি বিষয়। বিমানে যখন পাইলটকে আগুন নেভানোর কাজও করতে হয় তখন তার পক্ষে বিমান চালনা করা কঠিন হয়ে পড়ে।

মিসরীয় তদন্তকারীরা বলছেন, হামলাসহ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার কোনও ধরনের সম্ভাবনাকেই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তাদের মতে, হুট করে আগুন লাগার ঘটনা খুব বিরল।

গত ১৯ মে প্যারিস থেকে কায়রো যাওয়ার পথে ৬৬ আরোহী নিয়ে ইজিপ্ট এয়ারের বিমানটি নিখোঁজ হয়। এর পর বিমানের সন্ধানে ভূমধ্যসাগরে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। চলতি মাসের শুরুর দিকে অনুসন্ধানকারী দলগুলো বিমানের একটি ব্ল্যাকবক্স থেকে সংকেত পাওয়ার দাবি করে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে ভূমধ্যসাগরের ৩ হাজার মিটার গভীর থেকে বিমানের দুটি ব্ল্যাকবক্সই উদ্ধার করা হয়। সূত্র: আল জাজিরা

/এফইউ/