লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে জাকির নায়েকের ‘সম্পর্ক’ খতিয়ে দেখছে ভারত

জাকির নায়েকপাকিস্তানের নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়বার সঙ্গে বিতর্কিত ইসলামী চিন্তাবিদ জাকির নায়েকের সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে ভারত। লস্কর-ই-তৈয়বার দাতব্য শাখা জামাত-উদ-দাওয়ার ওয়েবসাইট এবং জাকির নায়েকের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর ওয়েবসাইটের যোগসূত্রের অভিযোগ তদন্ত করছে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। পাশাপাশি এই যোগাযোগের বিষয়ে তদন্তের আর্জি জানিয়ে এরইমধ্যে মহারাষ্ট্র পুলিশ ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে বেশ কিছু পিটিশন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, জামাত উদ দাওয়ার নেতা হাফিজ সাইদ মুম্বাই হামলার মূল হোতা বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০০৮-এর মুম্বাই হামলার পর ভারতে জামাতের ওয়েবসাইট নিষিদ্ধ হয়।
সূত্রকে উদ্ধৃত করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, জামাত-উদ-দাওয়ার ওয়েবসাইট আর্কাইভ পেজে ক্লিক করলেই আল-হুদা ইন্টারন্যাশনাল ও জামাত-উদ-দাওয়া উর্দু ওয়েবসাইটের মতো বেশ কয়েকটি লিঙ্ক পাওয়া যায়। মেইন পেজে যে ৯ টি লিঙ্ক রয়েছে তার মধ্যে একটি জাকিরের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক। জামাত উদ দাওয়ার ওয়েবসাইটের লিঙ্কে ধর্মীয় বিষয়ক পড়াশোনার একটি উৎস হিসেবে জাকিরের মুম্বাইয়ের সংস্থা তালিকাভুক্ত রয়েছে। সূত্রের দাবি, এই লিঙ্ক-ই গোয়েন্দাদের তদন্তের বিষয়বস্তু।

ভারচুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন)-এর মাধ্যমে ওই ওয়েবসাইট খুলে লিঙ্ক সংক্রান্ত তথ্যটি প্রকাশ্যে এসেছে।

এছাড়াও জানা গেছে, ২০০৬-এর মুম্বাইয়ে ট্রেনে বিস্ফোরণে দুই অভিযুক্ত জাকিরের দ্বারা উদ্বুদ্ধ হয়েছিল তদন্তকারীদের জানিয়েছে। উল্লেখ্য, এই হামলায় ১৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। হামলায় অন্যতম অভিযুক্ত রাহিল শেখ মুম্বাইয়ে জাকিরের অফিসেও গিয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এই হামলায় অপর অভিযুক্ত ইরফান দেশমুখ ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশন-এর লাইব্রেরিয়ান ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

এরইমধ্যেই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফাড়নাবীস পিস টিভি ও অনলাইনে জাকিরের বক্তৃতা নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বিজেপি সাংসদ মহেশ গিরিও জাকিরের সংস্থা ও টেলিভিশন চ্যানেলের আর্থিক বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়কে চিঠি লিখেছেন।

এক সরকারি কর্মকর্তার ইন্ডিয়া টুডেকে বলেন, ‘সন্ত্রাসের সঙ্গে জাকির বা তার ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনকে সরাসরি যুক্ত করা যায়, এমন কোনও তথ্য নেই। কিন্তু তার ভাষণ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের সন্ত্রাসবাদীদের অনুপ্রাণিত করছে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন তো বিভিন্ন প্রশ্নও উঠছে। জামাত উদ দাওয়া বা লস্করের ওয়েবসাইটে ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইটের লিঙ্ক কেন দেওয়া রয়েছে? কেনই বা তার ভাষণ সন্ত্রাসবাদীরা শুনছে বা প্রচার করছে? এই সমস্ত প্রশ্নগুলি খুবই উদ্বেগের বিষয়।’

উল্লেখ্য, ৫০ বছর বয়সী জাকির নায়েক মুম্বাইয়ের ইসলামিক রিসার্চ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা। অন্য ধর্মকে নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী আখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বিভিন্ন সময়ে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে যে ঢাকায় গুলশানে নিহত জঙ্গিদের দুজন-রোহান ইমতিয়াজ এবং নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েককে অনুসরণ করত। রোহান গত বছর জাকির নায়েকের পিস টিভির একটি অনুষ্ঠান তার ফেসবুক পেজে পোস্ট করেছিল। পোস্টে সে জাকির নায়েককে উদ্ধৃত করে লিখেছিল যে ‘প্রত্যেক মুসলিমেরই সন্ত্রাসবাদী হয়ে ওঠা উচিত।’ তাই গুলশানের হামলাকারীরা জাকিরের বক্তৃতায় অনুপ্রাণিত হয়েছিল কি না, বাংলাদেশের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তা তদন্ত করে দেখার কথা জানায় ভারত।

/এফইউ/বিএ/