উল্লেখ্য, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এরইমধ্যে ১৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত মানুষের সংখ্যা ২০০, যাদের প্রায় অর্ধেক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার বুরহানের ‘নিহত’ হওয়াকে কাশ্মিরের বিদ্রোহ দমনে পরিচালিত অভিযানের সাফল্য হিসেবেই দেখছে। তারা মনে করে, এই ঘটনা বুরহানের তরুণ সমর্থকদের প্রতি একটি বার্তা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বুরহানের মৃত্যুর পর জম্মু-কাশ্মির যে অশান্ত হয়ে উঠবে, সে সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল তাদের। তবে স্বল্পমেয়াদি এই সহিংসতা নিয়ে তারা বিচলিত নন। চলমান বিদ্রোহ দমনে এরইমধ্যে সহিংস অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর ১২শ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বুরহানের তরুণ সমর্থকরা তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা পাবে। বার্তাটি হলো, কেউ বিদ্রোহ করলে এর কারণে তার মৃত্যুও হতে পারে।
এদিকে শ্রীনগরসহ দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি এলাকায় জারিকৃত কারফিউকে বিস্তৃত করে পুরো কাশ্মির উপত্যকা জুড়েই কারফিউ জারি করা হয়েছে। সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে চলমান বিক্ষোভ দমন করতে আধা সামরিক বাহিনীর ১২০০ সদস্যকে সহিংস অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে প্রাণ হারানো হিজবুল মুজাহিদিন কমান্ডার বুরহান মুজাফফর ওয়ানির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শনিবার (৯ জুলাই ) থেকে নতুন করে উত্তাল হয়ে ওঠে কাশ্মির। এদিন কারফিউ আর বাধা উপেক্ষা করে বুরহান ওয়ানির মৃতদেহ নিয়ে রাস্তায় নামে হাজার হাজার মানুষ। বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশের বিভিন্ন থানা, বিজেপি অফিস এবং নিরাপত্তারক্ষীদের ওপর হামলা চালায় বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। একটি পুলিশ স্টেশনে বিক্ষুব্ধ জনতার হামলা ও অগ্নিসংযোগের পর থেকে তিন পুলিশ সদস্য নিখোঁজ রয়েছেন।
কাশ্মিরজুড়ে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। জম্মুতে সাময়িক সময়ের জন্য অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। স্কুল বোর্ড পরীক্ষাও বন্ধ রাখা হয়েছে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি, দ্য হিন্দু
/এফইউ/বিএ/