উল্লেখ্য, শহীদ শব্দটি ইসলামী সংস্কৃতির অংশ। এর দ্বারা ন্যায়যুদ্ধে প্রাণ দেওয়া মানুষদের বোঝানো হয়। তীব্র বৈষম্য আর সেনা দমন-পীড়নের মধ্যে থাকা ভারত অধ্যূষিত কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবি জানিয়ে লড়াই করে আসছিলেন বুরহান। তাই ধারণা করা হচ্ছে, তার লড়াই ‘ন্যায়যুদ্ধ’ বিবেচিত হতে পারে, তিনি ‘শহীদ’ স্বীকৃতি পেতে পারেন।
অবশ্য ভারত সরকার ‘বুরহান’দের লড়াইকে বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী প্রবণতা হিসেবেই দেখে থাকে। সে কারণে তারা মনে করছেন, পাকিস্তান ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো ষড়যন্ত্র করে বুরহানকে ‘শহীদ’ বানিয়ে হত্যাকাণ্ডের জন্য ভারতকে দায়ী করতে পারে। দাবি করতে পারে, কাশ্মিরে নিপীড়ন কায়েম করেছে ভারত।
এই শঙ্কাকে সামনে রেখে কাশ্মিরের জনতাকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রিয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং। পরিস্থিতি শান্ত করতে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানিয়েছেন তারা।
একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা টাইমস অব ইন্ডিয়াকে বলেছেন, ‘একজন সন্ত্রাসী ইন্টারনেট দক্ষ কিংবা শিক্ষিত ব্যক্তি হলেও সে সন্ত্রাসীই।’ বুরহানের জনপ্রিয়তার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, সেই কারণে নিরাপত্তা বাহিনীকে টার্গেট করা একজন ব্যক্তি রেহায় পেতে পারে না।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এরইমধ্যে ১৫ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহত মানুষের সংখ্যা ২০০, যাদের প্রায় অর্ধেক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। তা সত্ত্বেও বিজেপি নেতৃত্বাধীন ভারতের কেন্দ্রিয় সরকার বুরহানের ‘নিহত’ হওয়াকে কাশ্মিরের বিদ্রোহ দমনে পরিচালিত অভিযানের সাফল্য হিসেবেই দেখছে। তারা মনে করে, এই ঘটনা বুরহানের তরুণ সমর্থকদের প্রতি একটি বার্তা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, বুরহানের মৃত্যুর পর জম্মু-কাশ্মির যে অশান্ত হয়ে উঠবে, সে সম্পর্কে আগেই ধারণা ছিল তাদের। তবে স্বল্পমেয়াদি এই সহিংসতা নিয়ে তারা বিচলিত নন। চলমান বিদ্রোহ দমনে এরইমধ্যে সহিংস অঞ্চলে আধাসামরিক বাহিনীর ১২শ সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাত দিয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, বুরহানের তরুণ সমর্থকরা তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে একটি বার্তা পাবে। বার্তাটি হলো, কেউ বিদ্রোহ করলে এর কারণে তার মৃত্যুও হতে পারে।
এদিকে শ্রীনগরসহ দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কয়েকটি এলাকায় জারিকৃত কারফিউকে বিস্তৃত করে পুরো কাশ্মির উপত্যকা জুড়েই কারফিউ জারি করা হয়েছে। সহিংস পরিস্থিতি অব্যাহত থাকায় দ্বিতীয় দিনের মতো অমরনাথ যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে চলমান বিক্ষোভ দমন করতে আধা সামরিক বাহিনীর ১২০০ সদস্যকে সহিংস অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
/এফইউ/বিএ/