মঙ্গলবার (১২ জুলাই) হিজবুলের সর্বোচ্চ নেতা সাঈদ সালাহ-উদ-দিন ওই বিবৃতিতে জানান, হিজবুল মুজাহিদিনের কমান্ড কাউন্সিলের সভায় কাশ্মিরের নতুন কমান্ডার হিসেবে মেহমুদ গজনবির নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি বুরহান ওয়ানির স্থলাভিষিক্ত হবেন।
সালাহ-উদ-দিন ১৯৩১ সালের ১৩ জুলাই-এর বিদ্রোহী শহীদদের সঙ্গে বুরহান ওয়ানিকেও ‘শহীদ’ বলে উল্লেখ করে তার সাহসের প্রশংসা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জ্ঞাপন করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ওয়ানির স্মরণে হিজবুল মুজাহিদিনের পক্ষ থেকে ১৩ জুলাই মুজাফফরাবাদে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে কাশ্মিরের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলনরত সংগঠন ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল (ইউজেসি) এবং হুরিয়ত কনফারেন্স-এর নেতারা উপস্থিত থাকবে।
কাশ্মিরের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১২ জুলাই) বিক্ষুব্ধ জনতা ক্রালপুরা কুপওয়ারা থানার সামনে বিক্ষোভ করলে পুলিশের গুলিতে আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এর আগে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীও নিহত হয়েছেন। বুরহান ওয়ানির ‘এনকাউন্টার’এর পর থেকে চলমান বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৪ জনে।
বুরহানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করতে মঙ্গলবার হাজার হাজার মানুষ জড়ো হয়েছিলেন তার জন্মস্থান পুলওয়ামা জেলার ট্রাল এলাকায়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সেনা ও পুলিশ যৌথ অভিযানে বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। হিজবুল কমান্ডার নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রীনগর এবং দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় তার বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে বুরহান নিহত হন বলে দাবি করে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের আংশিক অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে কারফিউর আওতায় আসে আশে-পাশের আরও বেশকিছু অঞ্চল।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
/এসএ/