কাশ্মিরে হিজবুল নেতা বুরহান ওয়ানি ভারতীয় বাহিনীর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে পাকিস্তানের অভিযোগের পর তার জবাব দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত। এরই অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আবদুল বাসিতকে তলব করার কথা ভাবা হচ্ছে। হিজবুল মুজাহিদীনের ‘পোস্টার বয়’ বলে পরিচিত বুরহানকে ‘সন্ত্রাসী’ প্রমাণে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণাদি তার হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বুরহান ওয়ানি জম্মু ও কাশ্মিরের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সেনা জওয়ানদের ওপর হামলার মামলায় যুক্ত বলে বরাবরই দাবি করে আসছে ভারত। তবে পাকিস্তানের অভিযোগ, ভারতীয় বাহিনী বুরহানকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ইসলামাবাদ ভারতীয় হাই কমিশনারকে তলব করে বুরহান-হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফও এই ঘটনায় উদ্বেগ ব্যক্ত করেন।
এমন প্রেক্ষাপটে ভারত পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বিস্তারিত প্রমাণাদি হাতে তুলে দেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া।
সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে বলা হয়, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বুরহানের বিরুদ্ধে ১২ টি এফআইআর দায়ের করা ছিল। এই মামলাগুলির বিস্তারিত তথ্য জম্মু ও কাশ্মির পুলিশ এরইমধ্যে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছে। এই তথ্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাকিস্তানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করতে পারে।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সেনা ও পুলিশ যৌথ অভিযানে বুরহান ওয়ানিসহ তিন হিজবুল যোদ্ধা নিহত হন। হিজবুল কমান্ডার নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে শ্রীনগর এবং দক্ষিণ কাশ্মিরের বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অনন্তনাগের কোকেরনাগ এলাকায় তার বাহিনীর সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে বুরহান নিহত হন বলে দাবি করে ভারতীয় নিরাপত্তাবাহিনী। এ ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে পুলওয়ামা ও শ্রীনগরের আংশিক অঞ্চলে কারফিউ জারি করা হয়। পরবর্তীতে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়লে কারফিউর আওতায় আসে আশে-পাশের আরও বেশকিছু অঞ্চল। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
/এফইউ/বিএ/